রাঙ্গুনিয়ায় বনের কাঠ যাচ্ছে ইটভাটায়!
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
রাঙ্গুনিয়ায় বনের কাঠ যাচ্ছে ইটভাটায়!

জ্বালানি সরবরাহে জমজমাট ব্যবসা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেশির ভাগ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বনের কাঠ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাটায় কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও তা মানছে না কেউ। অধিকাংশ ইটভাটারই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।

উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মংলি মার্মা বলেন, ‘তহসিল অফিসসমূহ থেকে সংগ্রহ করে ইটভাটার তালিকা দেওয়া যাবে। উপজেলার সর্বমোট ৫টি তহসিল অফিসের মধ্যে ৩টি তহসিল এলাকায় ইটের ভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটা থেকে যথারীতি ভূমিকর আদায় করা হচ্ছে। তহসিল অফিসের তথ্যে জানা গেছে—রানীরহাট তহসিল এলাকায় ৮৯টি, কাউখালী এলাকায় ৪টি এবং শিলক এলাকায় ৭টি ইটভাটা আছে। তবে এলাকায় জরিপের পরিসংখ্যান মতে—উপজেলায় সর্বমোট ইটভাটা রয়েছে ১১৯টি। মঘাইছড়ি, ইসলামপুর, নিশ্চিন্তাপুর, ঠান্ডাছড়ি, লালানগর, রাজানগর, মোহাম্মদপুর, পোমরা, পারুয়া ইছাখালী, বেতাগী, সরফভাটা, কোদালা এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে এসব ইটভাটার অবস্থান।

ইটভাটাগুলোতে ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে রাঙ্গুনিয়ায় এখন ইটভাটাকেন্দ্রিক জ্বালানি কাঠের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করতে সংরক্ষিত সরকারি বনাঞ্চল উজাড় করা হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই এবং রাঙ্গামাটির ঘাগড়া ও কাউখালি এলাকার সংরক্ষিত সরকারি বনাঞ্চল এবং বাগানের বৃক্ষ উজাড় করে ইটের ভাটায় যাচ্ছে কাঠ। অভিযোগ আছে—চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা অসাধু বনকর্মীদের যোগসাজশে বনের মূল্যবান গাছ কেটে জ্বালানিকাঠ রূপে ইটভাটায় সরবরাহ করে চলেছে। রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা, পোমরা, চিরিঙ্গা বন বিট এবং ইছামতি রেঞ্জের আওতায় উত্তর রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ও কোদালা এলাকার একাধিক স্থানে বড় বড় মজুদ থেকে চোরাই জ্বালানি কাঠ যায় ইটভাটায়। কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের রাজস্থলী এবং বান্দরবানের সংরক্ষিত বাগান উজাড় করে  জ্বালানি কাঠ  ট্রাকযোগে বাঙ্গালহালিয়া, দশমাইল এলাকার সড়ক পথে এনে ওই স্থানগুলোতে মজুদ করা হয়। কর্ণফুলি নদীপথে কাপ্তাই, চিত্মরম, সীতাপাহাড়, রামপাহাড় সংরক্ষিত বনের হাজার হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ বড় বড় নৌকা বোঝাই হয়ে প্রতি রাতে আসে চন্দ্রঘোনা দেওয়াঞ্জীর হাট এলাকায়। চন্দ্রঘোনা দোভাষীবাজার জেটি এবং ফেরিঘাট এলাকায়ও রাতে চোরাই জ্বালানি কাঠের নৌকা ভেড়ে। নৌকা থেকে চাঁদেরগাড়ি বোঝাই করে এসব কাঠ যায় ইটভাটায়। কোদালা বনবিটের সংরক্ষিত বন হয়ে অভ্যন্তরীণ রাস্তায় জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকার ১০/১২টি ইটভাটায় প্রতিদিন অবাধে যাচ্ছে চোরাই জ্বালানি কাঠের গাড়ি।  লালানগর গ্রামের মানবাধিকার নেতা ফজলুল কাদের তালুকদার, হোসনাবাদ ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নানসহ অনেকে জানান—ইটভাটায় জ্বালানি সরবরাহ গ্রামাঞ্চলে এখন জমজমাট ব্যবসা।

সরফভাটা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইদ্রিচ, চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউপি সদস্য স্মরণ বড়ুয়া, মোজাম্মেল হক বলেন, ‘চোরাই জ্বালানি কাঠের প্রকাশ্য মজুদের কারণে এলাকাগুলো দিবা-রাত্রি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।’ রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চোরাই কাঠ পাচারে বাধা প্রদান করা সহজসাধ্য নয়। কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় নানাভাবে চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা সাহস পায়। তাদের দাপটের কাছে বনকর্মীরা অসহায়।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘ইটভাটা-কেন্দ্রিক জ্বালানি কাঠের অবাধ ব্যবসায় এলাকার বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। বিভিন্ন সময়ে চোরাই কাঠের গাড়ি আটক করে প্রতিরোধের চেষ্টা চলে। কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এসব প্রতিরোধের তোয়াক্কা না করে ইটভাটায় চোরাই কাঠ পাচার করে চলেছে। তবে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন