মহালছড়িতে আগাম তরমুজচাষে সাফল্য
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
মহালছড়িতে আগাম তরমুজচাষে সাফল্য

মিল্টন চাকমা, মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে তরমুজের স্বাদ পাওয়ার কথা মার্চের শেষ দিকে। পরিচর্যানির্ভর তরমুজের চাষাবাদও পাহাড়ে কষ্টসাধ্য। তাই পাহাড়ে সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার প্রায় পুরোটাই সরবরাহ হয়ে থাকে সমতল থেকে। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম করল্যাছড়ি এলাকায় আগাম তরমুজের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন দুই কৃষক বিনয় চাকমা ও প্রভাকর চাকমা। পরিশ্রমী এই দুই কৃষক ৩০ শতক জমিতে ২শ’ ১৫টি চারা লাগিয়ে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিক্রি করেছেন দেড়শটি তরমুজ। ২শ’ ২০ টাকা দরে বিক্রয় করা এসব তরমুজের গড় ওজন ছিল ৮ থেকে ১০ কেজি। খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্ত জনপদ করল্যাছড়ি’র তরমুজের ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে দুই জেলাতেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মহালছড়ি উপজেলার পাহাড় বা টিলা বাদে অধিকাংশ জমি বছরের অধিকাংশ সময় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নিমজ্জিত থাকে। বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুমে মাস চারেকের জন্য এসব জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জলে ভাসা এক ফসলি এসব জমিতে অধিকাংশ কৃষক ধান চাষ ছাড়া অন্য ফসল ফলানোর সুযোগ পান না। তাই অপেক্ষাকৃত উঁচু বা টিলা আকৃতির জমিতে সবজি বা অন্যান্য ফসল ফলানোর চেষ্টা করেন পরিশ্রমী কৃষকরা।

বিনয় চাকমা ও প্রভাকর চাকমা জানান, ধান চাষের পাশাপাশি জমির মাঝখানে ৩০ শতক পরিত্যক্ত একটি ছোট্ট টিলায় তিন বছর ধরে তরমুজ চাষ করছেন। প্রথমে তারা অন্যজনের পরামর্শ  নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৪৭টি, পরের বছর ২শ’ এবং এ বছর ২শ’ ১৫টি চারা লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা তরমুজ বিক্রি করা শুরু করেছেন। মুবাছড়ি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঞোহ্লামং মারমা জানান, করল্যাছড়ির বেশ কয়েকজন কৃষক কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করে আসছেন। বিশেষত পানির প্রাপ্যতা এবং মাটির উর্বরতার কারণে এখানে তরমুজে আকার-ওজন-স্বাদ এবং খাদ্যমান খুবই ভালো হয়।

মহালছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, আগাম চাষের ফলে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বালাই এবং লাল মাকড়ের সমস্যা দেখা দেয়। তরমুজ চাষে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। পানিও লাগে প্রচুর। তবে বিনয় চাকমা ও প্রভাকর চাকমা এতোটা আগাম ফলিয়েছেন, যা পাহাড়ে রীতিমতো বিস্ময়কর। বিনয় চাকমা এবং  প্রভাকর চাকমা মৌসুমের অনেক আগে তরমুজ ফলের উত্পাদন করেছেন। এটা বিশেষ কৃতিত্ব। আগাম ফলের বাজারদরও ভালো পাওয়া যায়। তবে আগাম ফল উত্পাদনের ক্ষেত্রে পরিচর্যা এবং রোগ-বালাইয়ের প্রকোপও বেশি হয়। কিন্তু বিনয় এবং প্রভাকর নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় সাফল্য শিখরে পৌঁছাতে পেরেছেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন