মানিকগঞ্জে খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে খাজনা নেওয়ার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উদ্যোগে ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ধল্লা এলাকায় খাজনার নামে অবৈধভাবে এ অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম মাফিক খাজনা ২ হাজার টাকা হলেও টাকা নেয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। জানা গেছে, প্রতি বছরে ১ শতাংশ জমির খাজনা ১০ টাকা।  এখানে বাংলা ১৪১৮ থেকে ১৪২৪ সন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ জমিতে বৈধ খাজনা ২ হাজার ৪শ’ টাকা। কিন্তু সেখানে অবৈধভাবে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা নেয়া হয়েছে। একটি জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ রশিদে ৬শ’ টাকা লিখলেও তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ২শ’ টাকা। এতে জমির মালিকগণ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের বলা হচ্ছে বেশি কথা বইলেন না, চুপচাপ থাকেন ভাল হবে। এ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

সরেজমিন সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ধল্লা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ভূমি অফিস কর্তৃক খাজনা নেওয়ার জন্য সেখানে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু লোকের সাথে কথা হলে তারা জানান, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকরা খেয়াল-খুশি মতো টাকা দাবি করছে। স্থানীয়রা বলেন, আমরা সাধারণ কৃষক, দিনমজুর আমরা এসব ব্যাপার ভাল বুঝি না। তারা আমাদের যা বলছে কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে আমাদের তাই করতে হচ্ছে।

ধল্লা এলাকার কালিগঙ্গা নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ি-ঘর জেগে উঠেছে। সেই জায়গার খাজনা দিতে হবে বলে স্থানীয় ইউনিয়ন অফিস থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। না হলে সেটি খাস হয়ে যাবে বলে জানান স্থানীয়রা। 

ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাহেরা খাতুনের নেতৃত্বে এ অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে আছেন অফিস সহায়ক আব্দুল মান্নান ও অফিস পিওন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ রশিদে ২ হাজার ৩শ’ টাকা লেখা হয়েছে।

ধল্লা এলাকার নেচু বিশ্বাস বলেন, আমার কাছে প্রথমে ১২ হাজার টাকা দাবি করেছে। পরে ৪ হাজার টাকা দেয়া হলেও রশিদে ২ হাজার ১শ’ টাকা লেখা হয়েছে। একই এলাকার ভেটকু জানান, আমার কাছে ৩ হাজার নিয়েছে অথচ ২ হাজার ১ শত টাকা রশিদে লেখা হয়েছে। ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাহেরা খাতুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। এখানে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন সরদার জানান, আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন