দেড় যুগেও জমি বুঝে পায়নি ক্রেতা
কালীগঞ্জে ভুয়া দলিল মালিকানায় জমি বিক্রি
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভুয়া দলিল মালিকানায় জমি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী স্টেনলী রোজারিও’র দাবি জমি ক্রয়ের দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও মালিকানা বুঝে পাননি তিনি। ভুয়া দলিল মালিকানায় জমি বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত সেন্টু ডি আন্তনি ক্রুশ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রামের মৃত পেদ্রু ক্রুশের ছেলে।

দোয়ানী গ্রামের স্টেনলী রোজারিও’র স্ত্রী শেফালী গমেজ এই প্রতিবেদককে জানান, তার স্বামী প্রবাসে চাকুরী করেন। দুই ছেলে নিয়ে তারা ঢাকায় থাকতেন। সেন্টু আন্তনী ক্রুশ সম্পর্কে তার স্বামীর ভগ্নিপতি। তারা সেন্টুর অনুরোধে তার বাড়ির পশ্চিম দিকে ৫৬.৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন বাড়ি তৈরির জন্য। ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ ১৫৮৫ নং দলিলে নাগরী ইউনিয়নের দোয়ানীর টেক মৌজায় ৩৫ শতাংশ ও ২০০৪ সালের ২৮ জানুয়ারি ৬৯১ নং দলিলে একই  মৌজায় ২১.৭৫ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে তারা ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে নেন এবং বাড়ি-ঘর করে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ক্রয় সূত্রে মালিক হওয়া ওই জমি স্থানীয় ভূমি অফিসে নিজের নামে খারিজ করতে গেলে ক্রেতা স্টেনলি জানাতে পারেন ভুয়া দলিল মালিকানায়  সেই জমি বিক্রি হয়ে গেছে। তাই তারা নামজারি করতে পারেননি। পরে এ নিয়ে সেন্টুর সঙ্গে কথা বললে তিনি সেই জমির ক্রেতা রমনি রোজারিও গং-এর মালিকানা ঠেকাতে ২০০৭ সালে ২১ নভেম্বর গাজীপুর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে  (দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং ৪০৫/০৭) মামলা করেন। পরে আদালত সেন্টুর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল মামলাটি খারিজ করে দেন। 

ভুক্তভোগী স্টেনলীর পরিবার আরো জানায়, সেন্টু ভুয়া দলিল মালিকানায় শুধু তাদের কাছেই জমি বিক্রি করেনি। ভুক্তভোগী আরো বেশ কয়েকটি পরিবার আছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করলেই তাদের মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয়। তাই তারা সেন্টু ও তার মামলাবাজ পরিবারের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।

দোয়ানী গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী মিজু গমেজ জানান, তিনি উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের সুজাপুর বিনাপানি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের একজন স্কুল শিক্ষিকা। জীবনের সব সহায়-সম্বল বিক্রি করে ৭ বছর আগে সেন্টুকে আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়া হয় ৩ কাঠা জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেন্টু ওই জমি আজও বুঝিয়ে দেয়নি, এমনকি আগে নেওয়া সম্পূর্ণ টাকাও ফেরত দেয়নি। বিগত ৭টি বছর ওই দরিদ্র স্কুল শিক্ষিকা বিভিন্ন জনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল না পেয়ে এখন অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।  

সেন্টু ডি আন্তনি ক্রুশ ভুয়া মালিকানার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিক্রি করা জমি তার পিসি মা লরেটা অটলী ক্রুশের দান করা সম্পত্তি। পিসি ঘর সংসার না করে সন্নাসী জীবন-যাপন করেছেন। তার কোনো সন্তানাদি না থাকায় জমি আমাকে দান করেছেন। তবে এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলেও জানান তিনি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন