সাতকানিয়ায় কদর বাড়ছে চাঁই-টইয়া-পলোর
সাতকানিয়ায় কদর বাড়ছে চাঁই-টইয়া-পলোর
সাতকানিয়া খাল-বিল-নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে থাকা মত্স্যসম্পদ আহরণের জন্য গ্রামের কারিগররা বাঁশ দিয়ে তৈরি করেন নানা প্রকারের দেশি সরঞ্জাম। অঞ্চলভেদে এসব মাছ ধরার কৌশলও ভিন্ন। বৈশাখের শুরুতে কয়েক দফা বৃষ্টি হতেই মাছ ধরার এসব সরঞ্জামের কদর বেড়ে গেছে। এমনই কয়েকটি মাছ ধরার যন্ত্র হলো চাঁই, টইয়া ও পলো। চাঁই হচ্ছে—আড়াই-তিন ফুট লম্বাকৃতির গোলাকার ফাঁদ এবং টইয়া চেপ্টা আকৃতির। মাছ ধরার ক্ষেত্রে চাঁই ও টইয়ার ব্যবহার প্রায় একই রকম।

এক সময় বিভিন্ন স্থানে চাঁই, টইয়া ও পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল কিন্তু এখন আর পলোর বহুল প্রচলন দেখা যায় না। হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার বিশেষ এই সরঞ্জামগুলো। সহজলভ্য বাঁশ দিয়ে বাড়িতে বসে সহজেই এ সব সরঞ্জাম তৈরি করা যায়। মাছ ধরার বিশেষ চাঁই, টইয়া ও পলো তৈরি করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার অনেকে জীবিকা নির্বাহ করত। সমপ্রতি উপজেলার দেওদিঘী এলাকার মক্কার বলী খেলার বাজারে গিয়ে দেখা যায় বাজারে বেশ চাঁই, টইয়া, পলো বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছে কয়েকজন কারিগর। এদের একজন আবদুল  আলীম (৫৫)।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—এক একটি চাঁই ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। টইয়া ও পলো একই দামে ছোট-বড় আকারে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়।

চাঁই কিনতে আসা মো. নেজাম, রশিদ, মো. ইউনুচ, জিয়াবুল জানান—আগে প্রতিবছর তাকে ৩/৪টা চাঁই, টইয়া বা পলো কিনতে হতো। কিন্তু এখন আগের মতো খাল-বিলে মাছ মিলছে না। তার বাড়ির পুকুরের পানি বাইরের জমিতে যাবে আবার জমির পানি পুকুরে ঢুকবে সে জন্য তিনি একটি চাঁই কিনেছেন। প্রতিবছর সে তার চাঁইয়ে ছোট চিংড়ি, মলা, ঢেলা ও পুইয়া মাছই বেশি পায় বলে জানান।

চাঁই, টইয়া ও পলো তৈরি করতে খরচ ও পরিশ্রম একই রকম। বাঁশের সলা দিয়ে তৈরি এসব যন্ত্র তৈরি করতে কারিগরদের প্রায় একদিন সময় কেটে যায়। কারিগররাই এসব যন্ত্র বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকেন। বর্ষা মৌসুম আসার আগে আগেই এসব যন্ত্র বিক্রি হয়। তবে আগের মতো বাজারে এগুলোর চাহিদা নেই। খাল-বিলে মাছ কমে যাওয়ার সংগে সংগে এসব সরঞ্জামের ব্যবহারও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন