পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ বাড়ছে
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ বাড়ছে

 

ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষি

বান্দরবান প্রতিনিধি

নানাবিধ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আর খেতে সুস্বাদু সবজি— মিষ্টি কুমড়া। পাহাড়ে উত্পাদিত হালকা মিষ্টি স্বাদের এই কুমড়ার চাহিদা আশ-পাশের অঞ্চলগুলোতেও ব্যাপক। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে সারা বছরই এর চাহিদা থাকে। চাহিদা থাকায় বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের পাশাপাশি বাড়ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষও। কিন্তু বাম্পার ফলনের পরও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষিরা।

কৃষি বিভাগের মতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, সদরসহ জেলার সাত উপজেলায় চলতি বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে জুম চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এখানে উত্পাদন হয়েছে প্রায় ৯ হাজার মেট্টিক টনের মত মিষ্টি কুমড়া। গতবারের তুলনায় এবছর চাষ বেড়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। আর উত্পাদন বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টনের মত। পাহাড়ে জুম চাষে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এবার। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণের সহজ উপায় না থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষিরা অভিযোগ কৃষকের।

টংকাবর্তীর চাষি মেনথং ম্রো ও থনলক ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টংকাবর্তী, মাঝেরপাড়া, সূয়ালক, চিম্বুকসহ আশ-পাশের এলাকাগুলোতে জুমে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এবছরও। ভালো ফলন হওয়ার পরও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না তারা। লোকসান কমাতে বাধ্য হয়ে তারা ব্যবসায়ীদের কেজি ৭ থেকে ৮ টাকায় এবং মণ ৩শ’ টাকায় বিক্রি করছি। এভাবে চলতে থাকলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বন্ধ করে দিবে চাষিরা। স্থানীয় শিক্ষক রেংরুই ম্রো বলেন, পাহাড়ে জুম চাষে উত্পাদিত পুষ্টিকর মিষ্টি কুমড়া চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ মুনাফা করার কারণে পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়লেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকেরা। শ্রমিকের মজুরীর টাকা না উঠায় অনেক চাষি ক্ষেতের মিষ্টি কুমড়া বিক্রির জন্য বাজারেই তুলেনি। রাস্তার দু’পাশে জুম ক্ষেতগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মিষ্টি কুমড়া।

মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ী মেনইয়া ম্রো বলেন, উত্পাদন বেশি হওয়ায় লাভবান হতে পারছে না কৃষকেরা। পাহাড়ের টংকাবতী থেকে মণ ৩শ’ থেকে ৩২০ টাকায় মিষ্টি কুমড়া কিনে গাড়িতে করে চট্টগ্রামে নিয়ে প্রতিমণ ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করছি। গত বছর আমার ত্রিশ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। এবছরও লাভবান হতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কি করবো? আমি মিষ্টি কুমড়াগুলো না কিনলে চাষিরা কি করবে? কার কাছে এগুলো বিক্রি করবে? সবাই বিপদে পড়বে, তাই ব্যবসায় নেমেছি এবছরও।

এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো:আলতাফ হোসেন বলেন, পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়ছে। দুটি মৌসুমেই এখানে মিষ্টি কুমড়া উত্পাদিত হচ্ছে। বলতে গেলে সারাবছরই এ অঞ্চলে বাজারে মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়। উত্পাদন বেশি হওয়ায় মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষিরা। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষিরা উত্পাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমস্যা থেকে উত্তরণে চাষিদের কৃষক সংগঠন করে নিজেরাই নিজেদের পণ্য বাজারজাতকরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে লাভবান হতে পারবে কৃষকেরা।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন