কমলগঞ্জে ঋণের ভারে জর্জরিত কৃষক
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পেরে ঋণ গ্রহণ

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

‘এনজিও’র কাছ থেকে ছয়ত্রিশ হাজার টাকার ঋণ নিয়া সপ্তাহে এক হাজার টাকা কিস্তি দেই। আরেকটা এনজিও’র গরু এনে মাসে দুই কিস্তিতে এক হাজার টাকা কিস্তি দেই। স্বামীর দৈনিক সাড়ে তিনশ’ টাকা আয়। এই টাকা দিয়া সংসারের খরচ চালাইতাম, বাচ্চাইনতরে পড়াইতাম না কিস্তি চালাইতাম।’ কথাগুলো কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামের পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের আফিয়া বেগমের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর, আদমপুর, সদরসহ সবকটি ইউনিয়ন ও আনাচে-কানাচে এক শ্রেণির অসাধু দাদন ব্যবসায়ী চড়া সুদে ঋণ প্রদান করছে। এসব দাদন ব্যবসায়ীরা সুদের ব্যবসা চালিয়ে দ্রুত ধনী হয়ে উঠছে। পাশাপাশি এনজিও’র মহাজনী ঋণের কিস্তি চালাতে নিঃশেষ হচ্ছে পরিবারসমূহ। এনজিও’র ঋণ গ্রহণকারী আবুল মিয়া জানান, পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কাজে লাগানোর পূর্বেই ঐ টাকা ভেঙে সপ্তাহের কিস্তি চালাতে হয়। ফলে সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে গিয়ে টাকা কাজে লাগানো সম্ভব হয় না এবং ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে।

উপজেলার নিম্নবিত্ত প্রায় নব্বই শতাংশ পরিবার এনজিও এবং মহাজনী ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে আটকা পড়ে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন। এছাড়াও এনজিও আর দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও ঋণ গ্রহণ করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণ গ্রহণ করে কেউ মুখ খুলে কথাও বলতে পারছেন না। অভাব-অনটনের সংসারে অশান্তি, অস্থিরতা, হতাশা ও ঝগড়াঝাটি লেগেই আছে।

শমশেরনগর চা বাগানের সুমন চাষা বলেন, দৈনিক যা রোজগার করি তা এনজিও’র কিস্তি পরিশোধে শেষ হয়ে যাচ্ছে। পতনঊষার ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনাই মিয়া বলেন, আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাধ্য হয়ে মাসিক শতকরা দশ টাকা হার সুদে টাকা নিয়ে পরে মাসের পর মাস ঋণ পরিশোধ করেও সুদে-আসলে টাকা শেষ হয় না। তিনি আরও বলেন, এনজিওসমূহের ঋণও রয়েছে। এদের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেকেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, কৃষি শ্রমিকের মজুরি, সার-ডিজেল-কীটনাশক, বীজের মূল্য পরিশোধ করে চাষাবাদের পর উত্পাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ঋণগ্রস্ত হতে হয়। এছাড়াও বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পর তা কাটিয়ে উঠতে না পেরে এনজিও, দাদন ও মহাজনী ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে আটকা পড়ছেন।

মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রয়োজনের তাগিদে আমার মা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সপ্তাহে কিস্তি চালাতে হিমশিম খেতো। ঋণ থাকাকালীন সাংসারিক খরচাদিসহ মাছ, মাংস কিনে খাওয়ারও সাধ্য ছিল না। এভাবে এখন নিম্নবিত্ত শত শত পরিবার এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কবলে আটকা পড়ে চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন