ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসে সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
 তুহিন খান

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী অনেক বাস-মিনিবাস সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীসাধারণ।

জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-কালিয়াকৈর ও গুলিস্তান-ধামরাই রুটে সিটিং সার্ভিসের বাস-মিনিবাস চলাচলের সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতি নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম করে দেওয়া হলেও তা তদারকির জন্য নেই কর্তৃপক্ষের কোনো তত্পরতা। এসব রুটে কয়েক দফায় গাড়ি ভাড়া বাড়লেও যাত্রী সেবা বৃদ্ধি পায়নি একটুও। এছাড়া সড়কে অনুমোদনবিহীন একাধিক বাস সার্ভিস চলাচল করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যখন যেখানে খুশি গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করার ফলে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুহূর্তের মধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়িতে আসনের দ্বিগুণ সংখ্যক যাত্রী দাঁড় করিয়েও ‘সিটিং’ বাসের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা পরিশোধে কেউ আপত্তি করলে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কপথে চলাচলকারী অধিকাংশ গাড়িরই লক্কর-ঝক্কর অবস্থা। অনেক মিনিবাসই ভাঙাচোরা ও প্রায় অচল। অনেক গাড়ির ছাদে মরিচা পড়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই মরিচাযুক্ত পানি চুঁইয়ে পড়ে যাত্রীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে ঢাকা-আরিচা, গুলিস্তান-ধামরাই, মিরপুর-চন্দ্রা রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ মিনিবাসের আসন এতই চাপা যে, পা সোজা করে বসা তো দূরের কথা, ঠিকমতো পা রাখার জায়গাই নেই। এসব গাড়িতে রুট পারমিটে উল্লেখিত আসনের চেয়ে ৫ থেকে ১০টি আসন বেশি স্থাপন করা হয়েছে।

ব্যস্ততম এই মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের জন্য বেশ কয়েকটি কোম্পানির বাস চলাচল করে। এর মধ্যে মতিঝিল-সাভার-চন্দ্রা রুটে চলে ওয়েলকাম পরিবহন, মিরপুর-সাভার-চন্দ্রা রুটে চলে ইতিহাস পরিবহন, গুলশান-গাবতলী-সাভার রুটে চলে বৈশাখী পরিবহন, সাভার-মালিবাগ-সায়েদাবাদ রুটে চলে লাব্বাইক পরিবহন এবং যাত্রাবাড়ী-নিউমার্কেট-সাভার রুটে চলে ঠিকানা পরিবহন। গাড়িগুলো ‘সিটিং বাস’ নামে রাস্তায় নামানো হলেও বর্তমানে সব বাসই কার্যত লোকাল বাস। মালিকরা আরামদায়ক যাত্রী সেবার কথা বলে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে এ রুটের অন্য গাড়ির চেয়ে বেশি ভাড়া নির্ধারণ করে। কিছুদিন পর গাড়িগুলো লোকাল পরিবহনের মতোই সেবা প্রদান করলেও ভাড়া আর কমায়নি।

যাত্রীদের অভিযোগ- যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানো-নামানো হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যে না যেয়ে ড্রাইভার-হেলপাররা তাদের ইচ্ছামত রাস্তার মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে দেয়। বাস বিকল হওয়ার অজুহাত তুলে যাত্রীদের হয়রানি করা তো নিত্যদিনের ঘটনা। প্রায় সব বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী  তোলার ফলে অনেককেই দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়, কিন্তু ভাড়া নেওয়া হয় সিটিং সার্ভিসের। বাসে প্রতিবন্ধী ও মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট সিট বরাদ্দ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহারে চেকার, হেলপার ও ড্রাইভারের কোনো মাথাব্যথা নেই। সিটিং সার্ভিসে অতিরিক্ত যাত্রী  তোলা হলেও চেকার তার চেকিং বুকে যাত্রীর পরিমাণ কম উল্লেখ করে। আর এর বিনিময়ে প্রতি স্টপেজে চেকারকে ১০ টাকা করে বকশিস দেয় বাসের হেলপার। ফলে নামে সিটিং সার্ভিস হলেও বাস্তবে তা ‘চিটিং সার্ভিসে’ পরিণত হয়েছে। কেউ এসবের প্রতিবাদ করলেই আর রক্ষা নেই। অশ্রাব্য গালিগালাজ এমনকি অনেক সময় শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। ঢাকা থেকে ফেরার পথে বা ধামরাই থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এসব সার্ভিসের সব বাসই লোকাল হয়ে যায়। অথচ ভাড়া নেওয়া হয় বিরতিহীনের।

যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পরিবহনগুলোকে। কিন্তু যাত্রী নামানোর সময় এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। অনেক সময় গাড়ির গতি না কমিয়েই রাস্তার মাঝখানে ঠেলে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সাভার থেকে ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী ওমর আলী অভিযোগ করে বলেন, বিআরটিএর ঘোষিত ভাড়া এই রুটের কোনো গাড়িতেই মানা হয় না। ‘সিটিং সার্ভিস’ নামে চলাচল করলেও প্রতিটি স্ট্যান্ডেই তারা অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায়। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় সৃষ্ট ভিড়ের কারণে বাসে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় নারী, শিশুসহ অন্য যাত্রীদের।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন