প্রবীণদের সুযোগ-সুবিধা
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
প্রবীণদের সুযোগ-সুবিধা

নইমুল হক

 

বর্তমানে আমাদের সমাজে কারো বয়স ষাট পেরোলেই তাকে প্রবীণ বা বয়স্ক ধরা হয়। এ বয়সে চাকরিজীবীরা অবসর গ্রহণ করেন। আমাদের দেশে গড় আয়ু ৭১/৭২ বছর। কিন্তু এ বয়সে বা তার বেশি বয়সের জীবিতরা আর তেমন কর্মক্ষম নন। প্রায় সবাই বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন। অনেকেই আবার সমাজে অবহেলিত, নিঃসঙ্গ অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। সরকার অতি দরিদ্র নিঃস্বদের জন্য বয়স্কভাতা চালু রেখেছেন। কিন্তু এর বাইরে যাঁরা নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত তাঁরা এ সুবিধার বাইরে।

বিশ্বের উন্নত ও অনেক স্বল্পোন্নত দেশসমূহে প্রবীণ বা বয়স্কদের আবাসন ও চিকিত্সাসহ নানারূপ সুবিধা বলবত্ আছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও পরিবহন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নানারূপ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে হতদরিদ্রভাতা ছাড়া আর তেমন কোনো সুবিধা নাই। প্রতি বছর বিশ্ব প্রবীণ দিবস আসে, নানারূপ সুবিধা প্রদানের কথা শোনা যায়; কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে কার্যকর দেখি না। যা হোক, প্রবীণ বা বয়স্কদের জন্য সদাশয় সরকার ও বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের কাছে কিছু আবেদন জানাচ্ছি—

১.             অবিলম্বে প্রবীণদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ডের ব্যবস্থা।

২.             হ্রাসকৃত মূল্যে ট্রেন, বাস, বিমান, লঞ্চ/স্টিমার ও অন্যান্য গণপরিবহনে যাতায়াত ও সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা।

৩.             সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অথবা হ্রাসকৃত হারে চিকিত্সা দেওয়া। হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সিট বা কেবিনের ব্যবস্থা।

৪.             বিভিন্ন সেবা সংস্থা যথা গ্যাস, বিদ্যুত্, ওয়াসা প্রভৃতি বিল প্রদানে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠানে লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি বিশেষ কাউন্টারে গ্রহণের ব্যবস্থা। পাসপোর্ট-ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থায় পৃথক কাউন্টারের ব্যবস্থা রাখা।

৫.             চাকরিজীবী যাঁরা ১২ বা ততোধিক বছর আগে অবসর গ্রহণ করেছেন তাঁরা তত্কালীন জাতীয় বেতন স্কেলের বিভিন্ন গ্রেডে ও ধাপে নির্ধারিত বেতন কাঠামোতে অবসরভাতা বা শতভাগ পেনশন গ্রহণকারী বিভিন্ন ভাতা পেয়ে আসছেন খুবই নগণ্য, যা বর্তমান বাজারমূল্যের বা জীবন ধারণের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই বর্তমান বেতন স্কেলের স্ব স্ব গ্রেডে অবসরভাতা পুনর্নির্ধারণ করে অবসর ও অন্যান্য ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ।

৬.             শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী যাঁরা দেশের বর্তমান গড় আয়ু বয়সের ওপরে তাঁরা নগণ্য সংখ্যক। কিন্তু অনেকে নানান রোগ-ব্যাধিতে, কেউ সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে বিচ্ছিন্ন, একাকী সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন, তাঁদের বাকি জীবন একটু স্বস্তিতে কাটাবার জন্য পুন পেনশন নির্ধারণ করা। শতভাগ পেনশনধারীদের জীবনযাত্রা ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রতি বছর উত্সব ও অন্যান্য ভাতা অনন্ত ১০ ভাগ বৃদ্ধি করা, যা স্থগিত রাখা হয়েছে। বর্তমান চিকিত্সাভাতা ২৫০০ টাকা, প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ডাক্তারি পরামর্শ ফি, বিভিন্ন টেস্ট, ল্যাবরেটরি ফি, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে এ ভাতা যুক্তিসঙ্গতভাবে বাড়ানো।

৭.             একই কারণে পেনশনার ও পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের লাভ বা সুদ না কমিয়ে আরো বৃদ্ধি করা।

৮.             বিভিন্ন পেশায় শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ প্রবীণদের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি প্রবীণ সেল গঠন।

৯.             প্রবীণদের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও সেবাদানের জন্য সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক বিভাগ গঠন।

১০. বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অনুষ্ঠানে সম্মানের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। 

ঢাকা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন