ইলিশ রক্ষায় আরো কঠোর হতে হবে
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ইলিশ রক্ষায় আরো কঠোর হতে হবে

অলিউর রহমান ফিরোজ

 

জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই পাতেও এখন ইলিশ পড়ছে। কয়েক বছর আগে ইলিশ মাছ দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছিল। তখন সারা বছরই ইলিশ নিধন চলত। তাই মাছ বেড়ে ওঠার তেমন একটা সুযাগ পেত না। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ ইলিশ রক্ষায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। তাই বর্তমান এই মাছের প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। আর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় মিলছে নদীর চকচকে রুপালি ইলিশ।

তাহলে মাঝখানে কেন ইলিশ পাওয়া যায়নি? একদিকে চলত মা-মাছ নিধন, অন্যদিকে জেলেদের এড়িয়ে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারত না ও বেড়ে ওঠার সুযোগ পেত না। নির্বিচারে জাটকা ধরা চলত। কিন্তু সরকারের প্রচেষ্টায় এখন নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে। মাছ রক্ষায় বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে নদীর জেলেরা। তবে অসাধু কিছু জেলের কারণে মাঝে মাঝে জাটকা ও মা-মাছসহ তাদের গ্রেফতারের খবর চোখে পড়ে। তবে জেলেরা নির্দিষ্ট মৌসুমে নদীতে মাছ আহরণ করতে যান না। যখন মা-মাছের ডিম পাড়ার সময় হয় তখন জেলেদের মাছ ধরা কিছুদিন বন্ধ থাকে সরকারি নির্দেশে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের চাল দেওয়া হয়।

ইলিশ মাছ মূলত সমুদ্রের গভীর পানির মাছ। ডিম ছাড়ার সময় শুধু মিঠা পানিতে চলে আসে। একটা পূর্ণ বয়স্ক মা-মাছ ৫ লাখ ডিম দেয়। কিন্তু কারেন্ট জাল এ মাছের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনছে। যে বছর মত্স্য অধিদপ্তর জাটকা রক্ষায় সফল হতে পারে সে বছর মাছের উত্পাদন অনেক বেশি হয়। মত্স্য অধিদপ্তরের হিসেব মতে, গত বছর ৫ লাখ টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছিল। এ বছর তা ৬ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশা করছে। তবে সমুদ্রে যে মাছ পাওয়া যায় তার চেয়ে নদীর মাছ অনেক বেশি সুস্বাদু। তাই বিশেষ করে পদ্মা নদীর ইলিশের ব্যাপক চাহিদা।

ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের উত্পাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশেরও বেশি। গত ৯ বছরের ব্যবধানে ইলিশের উত্পাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। এরই মধ্যে অধিদপ্তর পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনানুগ কার্যক্রম শেষে জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন (জিআই সনদ) করেছে।

ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। অতিথি পাখির মতো এ মাছ শুধু ডিম পাড়ার জন্য নদীতে আসে। তাই তার জীবন বৃত্তান্ত জানাটা অত্যন্ত জরুরি। তাহলে এ মাছ কিভাবে বেড়ে ওঠে এবং তার খাবার কী তা জানা সহজ হবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দুই বছর ধরে ইলিশের ওপর গবেষণা চালিয়ে তার জীবন-বৃত্তান্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ইলিশের জীবন রহস্য প্রস্তুতকরণ, জিনোসিক ডাটাবেজ স্থাপনে তাদের এ সাফল্য মেলে। যেহেতু ইলিশের উত্পাদনের ৬০ শতাংশ আমাদের দেশে উত্পাদন হয়। তাই সাগর এবং মেঘনা নদী থেকে পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিস জেনেটিক্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি এবং পোল্টি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জিনোমি ল্যাবরেটরি থেকে সংগৃহীত ইলিশের উচ্চ গুণগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্ত্তুত করা হয়।

ইলিশ মাছের উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের পদক্ষেপসমূহ সফলতার মুখ দেখে না। তার কারণ হলো কারেন্ট জালের বিস্তার। কোস্টগার্ড এবং পুলিশ মাঝে মাঝে হানা দিলেও জাল উত্পাদন বন্ধ করতে পারেনি। অভিযানের খবর আগেই কারখানার মালিক পেয়ে যান। কিন্তু কারেন্ট জালের মহামারি বন্ধ করা না গেলে ইলিশের জন্য তা সব সময়ই হুমকি হয়ে থাকবে।

মুন্সীগঞ্জ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন