মন খুলে হাসুন
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
প্রকাশ ঘোষ বিধান

 

হাসি যেন হারিয়ে যাচ্ছে। হাসতে গিয়েও মানুষ হাসতে পারে না। এটা যেমন মনের জন্য খারাপ তেমনি শরীরের জন্যও খারাপ। শরীর ভালো রাখার অন্যতম রসদ হলো হাসি। যে কোনো অসুখের ওষুধ হিসাবে হাসির গুরুত্ব অপরিসীম। শারীরিক কিংবা মানসিক অসুস্থতায় নির্মল হাসি কাজ করে ওষুধের মতোই।

হাসির গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার বিশ্ব হাসি দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ কমেডি ক্লাব ২০১৬ সালে সর্বপ্রথম দেশব্যাপী হাসি দিবস পালন করে। ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী হারভে রোজ বেল হলুদ রঙের বৃত্তের মধ্যে দুটো চোখ আর একটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির ছবি আঁকেন। এটি স্মাইলি হিসাবে পরিচিতি পায়। তার প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবর মাসে প্রথম শুক্রবার ওয়ার্ড স্মাইল ডে হিসাবে পালিত হচ্ছে। হাসি দিবসের দুই বছর না পেরুতেই ২০০১ সালে হাসি দিবসের প্রবর্তক হারভে বেল মারা যান। তবে মারা যাবার আগে তিনি নিজের নামে একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। এই ফাউন্ডেশনের কাজ হলো হাসি দিবসের উদ্দেশ্য সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়া।

হাসিতে মনের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। কখনো কখনো একটা হাসি পুরো দিনকে উজ্জ্বল করে দিতে পারে। হাসলে হূদপিণ্ড ভালো থাকে। আর মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে। হাসি বদলে দিতে পারে আপনার চারপাশ। এটি এ কারণে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে। গবেষকরা জানিয়েছেন, হাসলে মস্তিষ্কে এক ধরনের হরমোন তৈরি হয়। যা শরীর ও মনকে ভালো রাখে। নির্মল হাসি কমাতে পারে দুশ্চিন্তা। পেশি রিলাক্স করে। হাসলে হূদপিণ্ডে অক্সিজেন সরবরাহ ভালো হয় ও শরীর সুস্থ থাকে। হাসিখুশি থাকলে স্টোকের ঝুঁকি কমে। হাসি একটি প্রাকৃতিক ব্যায়াম, যা সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দুঃখ, রাগ কিংবা অভিমানের মতো আবেগ নিমেষেই দূরে ঠেলে দিতে পারে হাসি। সসপ্রতি এক রিপোর্টে জানা গেছে, নিয়মিত হাসলে মন টেনশনমুক্ত হয় এবং শরীর রিল্যাক্স হয়। সুগার-প্রেসারের রোগীরা বিজ্ঞানসম্মতভাবে মন ভরে হাসলে অনেকটাই রোগমুক্তি পায়।

পৃথিবীর ১০৫টি ও বেশি দেশে বর্তমানে শরীর মন ঠিক রাখতে হাসির ক্লাব রয়েছে। আমরা কখনো মুচকি হাসি, কখনো প্রাণখুলে হাসি আবার অট্টহাসিও হাসি। আমরা হাহা হিহি আবার হোহো করে হাসি। সঠিক জায়গায় সময়মতো হাসতে পারি না। সঠিক জায়গায় হাসিকে উপস্থাপনা করতে পারলে মনও হাসিতে ভরে ওঠে। চলচ্চিত্র, নাটক, গল্প, কবিতায় নানা ধরনের হাসি দেখি ও শুনি। সুকুমার রায় কবিতায় নানা ধরনের হাসির কথা লিখেতে গিয়ে বলেছেন—

‘হাসছি কেন কেউ জানে না

পাচ্ছে হাসি হাসছি তাই।’

আমরা যেমন বলি হাসি চেপে রাখতে পারছি না পেটের ভিতর থেকে হাসি গুলিয়ে উঠছে। উঠছে হাসি ভসভসিয়ে  সোডার মতো পেট থেকে।

নানা কারণে আমাদের মুখে হাসি ফুটছে না। হাসতে গেলেও হাসতে পারছি না। এটা স্বাস্থ্য ও মনের ওপর প্রভাব ফেলে। যার প্রভাব সামাজিক জীবনযাত্রার ওপর প্রতিফলিত হয়। তাই আমাদের শত দুঃখ-কষ্টকে উপেক্ষা করে মন ভরে হাসতে হবে। এর ফলে মন ভালো হবে। এতে সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যা একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়তে সাহায্য করবে।

খুলনা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন