জনগণের নির্বাচনী ইশতেহার
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

বিপ্লব বিশ্বাস

 

পৃথিবীর বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার বা মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয়ে থাকে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি ইত্যাদির বিবরণ থাকে এই নির্বাচনী ইশতেহারে। যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার সবগুলো পূরণ করা সম্ভব না হলেও আংশিক পূরণের চেষ্টা করা হয়। ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হয়নি, তার বিচারের ভার থাকে জনগণের ওপর এবং পরবর্তী নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়। দেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে অবশ্যই ব্যস্ত সময় পার করছে। এই ইশতেহারে দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা রকম চমক সৃষ্টির চেষ্টাও করা হবে।

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সংসদ নির্বাচন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, দেশবাসীর কাছেও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলো যেমন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার প্রত্যাশা করে, তেমনি নতুন সরকার ও দলগুলোর কাছেও দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে। দেশের মানুষের প্রত্যাশাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জনগণের নির্বাচনী ইশহোর’ হিসেবে তুলে ধরা উচিত। আমরা আশা করি দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলসমূহ সচেষ্ট থাকবে এবং দলীয় ইশতেহারে জনগণের প্রত্যাশাগুলোর প্রতিফলন দেখা যাবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণের নির্বাচনী ইশতেহার—১) আগামী নির্বাচনে সত্, যোগ্য, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীসহ কোনো অপরাধীকে বা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সমর্থন দেওয়া যাবে না। ২) নতুন সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতিবাজরা যে দলের বা যত বড় নেতাই হোক না কেন, বিচারের আওতায় আনতে হবে। যত কঠিন কাজই হোক না কেন, ঋণজালিয়াতি ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের টাকা উদ্ধার করতে হবে এবং একইসঙ্গে দেশের সম্পদ যারা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পাচার করা অর্থ ফেরত এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে। ৩) সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। ৪) স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫) কৃষকের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। ৬) সংঘাত, সংঘর্ষ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং অবাধ,নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে হবে। ৭) দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফরিদপুর

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন