বিবি :বুননবর্তিকা
২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
বিবি :বুননবর্তিকা
পোশাক মানুষের মৌলিক অধিকার, একই সঙ্গে সৌন্দর্যের নিয়ামক হিসেবেও বিবেচিত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক আবহ, আবহাওয়া, সব মিলিয়ে একটি জাতিগোষ্ঠীর রুচি। বাঙালির এই রুচির জায়গাটা বিশ্ব দরবারে যিনি তুলে ধরেছেন,  দিয়েছেন নতুন মাত্রা তিনি বিবি রাসেল। বাংলাদেশে জন্ম নেয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং মডেল বিবি রাসেলকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন

ফারুক আহমেদ

বিবি রাসেলের জন্ম চট্টগ্রামে, ১৯৫০-এ। বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন কামরুন্নেসায়। মানে শুরুটা কামরুন্নেসায়, শেষটা লন্ডনে। কিন্তু বাস্তবিক এখনো শিক্ষার ভেতরই আছেন; তা-ই মনে করেন তিনি। গ্রামের মানুষ, তাঁতি—নিরন্তর যাঁরা শিল্প বুনন করে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে তিনি শিখছেন প্রতিনিয়ত। তিন বোন, দুই ভাই বাবা-মা, পুরান ঢাকা, আবহমান বাংলা, মানুষ, মানুষের পোশাক এইসব ঘিরে রেখেছিল তাঁর শৈশবকে। তিন বোনের মধ্যে মেজো তিনি, যেন একটু আলাদা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার—এমন গতানুগতিক পেশার প্রতি একদমই আগ্রহ ছিল না তাঁর। বাবা উত্তরাঞ্চলের জমিদার পরিবারের সন্তান, নাম মোখলেসুুর রহমান। সবাই তাঁকে সিধু ভাই নামেই চিনতেন। মায়ের নাম শামসুন্নাহার রহমান। তাঁরও একটি নাম ছিল, বন্ধু-শুভানুধ্যায়ী মহলে সেই নামেই বেশি পরিচিত—রোজবু-রোজভাবী। এমন একটি পরিবারে জন্ম নেয়া বিবি রাসেলের শৈশব ছিল স্বাধীন, ব্যক্তিস্বাধীনতার যথাযথ মূল্য ছিল। একই সঙ্গে, তিনি তাঁর বাবা-মা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত—তা-ই দেখে বড় হয়েছেন। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী—সবারই অবাধ যাতায়াত ছিল বাসায়। পরিবার থেকেই পেয়েছেন নাচ-গানসহ বিভিন্ন বাঙালি সংস্কৃতির পাঠ। বাবা-মা এসব বিষয়ে সবসময়ই প্রেরণা দিতেন, সহযোগিতা করতেন। তবে একাডেমিক পড়াশোনার প্রতি তেমন ঝোঁক ছিল না। পরীক্ষায় কোনোভাবে দ্বিতীয় বিভাগ পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতেন। অবশ্য ব্যাপারটা তাঁর ইচ্ছাকৃতই ছিল। তিনি বলেন, ‘যেটুকু নম্বর পেলে পাস করা যাবে, গুনে গুনে আমি সেটুকুর উত্তরই লিখতাম। ফলে খুব ভালো ফল হোক তেমন ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না।’ দেখা গেল, ম্যাট্রিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে পাস করার পর সিদ্ধান্ত নিলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করবেন। ভেবেছিলেন, এ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে ফাঁকি দেওয়া যাবে। কিন্তু দেখা গেল ব্যাপারটা তেমন নয়। যাহোক এর জন্য অবশ্য বাবা-মা কিংবা শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনোদিন তাঁকে বকা খেতে হয়নি। বরং অন্যান্য কাজের প্রতি তাঁর যে আগ্রহ, তা দেখে উত্সাহ জোগাতেন। বাবা-মা এবং শিক্ষকদের এই উত্সাহ পরবর্তী জীবনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

 

ভিত্তি

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। কিন্তু শিল্পী হবেন, তেমনটা কখনোই মাথায় আসেনি। ফলে আর্ট কলেজে পড়া হয়নি তাঁর। বরং আগ্রহ ছিল অন্য কিছুতে, সেই অন্যকিছুই তাঁকে এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ছোটবেলায় দেখতেন, মা তিন বোনের কাপড় সেলাই করে দিচ্ছেন। এতে অন্য বোনেরা খুশি হলেও বিবি মায়ের কাজে কেবল খুঁত ধরতেন। সেই বিবিকে দশ বছর বয়সে বাবা একটা সিঙ্গার সেলাই মেশিন কিনে দিলেন। দশ বছরের কোনো মেয়ে তো ঠিকমতো কেঁচিই ধরতে পারার কথা না। তিনিও ধরতে পারতেন, তা বলা যাবে না। ফলে অনেক ভুলভাল হতো,  এই ভুলভাল করেই খুশি থাকতেন। এছাড়া ঘরের অনেক দায়িত্ব তিনি পালন করতেন। গার্হস্থ্য কাজের অনেক কিছুই করতেন। অতিথি এলে নাশতা দেওয়া, ঘর সাজানো এসব কাজের প্রতিই তাঁর ঝোঁক ছিল বেশি।

একদিন বাবা তাঁকে একটা বই এনে দেন। তাতে তিনি দেখলেন সবকিছুরই একটা গ্রামার আছে। মূলত তাঁর বাবা-মা তাঁকে এ বিষয় নিয়ে পড়াশোনার জন্য উত্সাহ দিয়েছেন, বিদেশে পাঠিয়েছেন। বাবা-মা যতদিন বেঁচেছিলেন, মানুষ তাঁদের বলত, তোমরা মেয়েকে দর্জিগিরি করতে বাইরে পড়িয়েছ। লোকজনের কথা কোনোদিনই বাবা-মা কর্ণপাত করেননি। কারণ, তাঁরা মেয়ের স্বপ্নের কথা জানতেন— জানান বিবি।

বিবি রাসেল তাঁর স্বপ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ভাবতেন গ্রামের সাধারণ মানুষ কেমন করে এত সুন্দর সুন্দর কাপড় বোনে, শাড়ি তৈরি করে। স্বপ্নের নেশায় বার বার ছুটে গেছেন গ্রামের দরিদ্র তাঁতশিল্পীদের কাছে। তিনি মনে করেন, দারিদ্র্য মানেই হতাশা নয়, দরিদ্র মানুষের ভেতরেও রয়েছে অনেক সৌন্দর্য, অনেক শক্তি ও সম্ভাবনা। তিনি এও মনে করেন, এই দরিদ্র মানুষগুলোই তাঁকে স্বপ্ন দেখিয়েছে, তাঁকে আজকের অবস্থানে এনে দিয়েছে।

লন্ডন যাত্রা

বিবি রাসেল গ্রাজুয়েশন করেন লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনে। যে মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহই নেই, এমন একটা বড় প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর গ্রাজুয়েশন! সেখানে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারটা মোটেই সহজ ছিল না, ভর্তি হতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বিবিকে। ওখানে অ্যাপ্লিকেশন করলে, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে রিফিউজ করল। কেননা, ফ্যাশনে পড়ার জন্য যে ব্যাকগ্রাউন্ড বা রেজাল্ট দরকার, তার কিছুই বিবি রাসেলের ছিল না। যদিও তিনি আঁকতে পারতেন, কিন্তু এটা তাঁর ভর্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে উঠতে পারেনি। শোনা যাক তাঁর বয়ানেই—‘অ্যাপ্লিকেশন করার পর ছয় মাস কেটে গেল। জুলাই মাসে কোর্স শুরুর আগে কলেজ থেকে আমাকে ফোন করা হলো। জানাল, একজন ফরেন স্টুডেন্ট কোর্স ড্রপ করায় আমার জন্য একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি ইন্টারভিউ দিতে যাই। কলেজের সেক্রেটারিকে দু-দিন পরপরই ফোন করে খোঁজখবর নিতাম, বিরক্ত করতাম। সেই সেক্রেটারিকে অনুরোধ করলাম, ইন্টারভিউ সম্পর্কে একটু ব্রিফ করার। সেক্রেটারি বললেন, ইন্টারভিউয়ে তোমাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করবে। ব্রিটিশ সেন্স অফ হিউমার খুবই ড্রাই। তুমি কোনোকিছুই পারসোনালি নেবে না, তুমি অ্যানসার করবে। আমি বোর্ড-এ ঢুকতে ঢুকতেই একজন বলল, তুমি সেই মেয়ে যে কিনা সারাক্ষণ বিরক্ত করে যাচ্ছ। তুমি তো নতুন দেশ থেকে এসেছ, বাংলাদেশ বানান করতে পারো? আমি হেসে বাংলাদেশ বানান করলাম। তারপর বললাম, তোমরা নিশ্চয়ই লন্ডন বানান করতে পারো। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। আমি ওটা বলতে ছাড়িনি। এরপর খুব সিম্পল কিছু বিষয় আমাকে জিজ্ঞেস করল। এরপর আমাকে টেকনিক্যাল অনেক প্রশ্ন করল। কিন্তু এগুলো একটাও পারিনি। আমি বললাম, আমি তো ফ্যাশনে পড়িনি। তোমরা আমাকে চান্স দিয়ে দেখ, বলতে পারবে তোমাদের কলেজে একটা বাংলাদেশি মেয়ে ঢুকেছে। দেখ আমার বাবা-মা মানুষকে শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েছে। আমি কোনোকিছুতেই ভয় পাই না—কেবল সাপ ছাড়া। ওরা সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর বলল, ঠিক আছে যাও। আমি বেরিয়ে এলাম। আধাঘণ্টা পর আমাকে আবার ডাকল। সেক্রেটারি বলল, তুমি ইন্টারভিউ বোর্ডে কী বলেছ? তোমার কনফিডেন্ট দেখে, তোমার মেনারিজম দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে। এভাবে সেখানে পড়ার সুযোগ আমি পেয়ে যাই।’

তাঁর সেই দিনগুলোও ছিল কঠিন। তখন ফ্যাশন ডিজাইনে কোনো স্কলারশিপ ছিল না, ফলে পড়াশোনার খরচ নিজেকেই জোগাতে হতো। প্রত্যেহ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পোস্ট বিলি করতেন। এরপর কলেজে ছুটতেন। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত নয়টা বেজে যেত। উইকেন্ডে অড জব করতেন। এভাবেই এগিয়ে গেছেন সংগ্রাম করে। তিনি তাঁর বাবা-মাকে বুঝতে দেননি যে এত কষ্ট করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে স্কলারশিপ পেতে করতে সক্ষম হন। সেই সময় বিশেষ সহযোগিতা করেন পিতার বন্ধু ড. আনিসুর রহমান। তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক-এ বড় চাকরি করতেন।

কালো তা সে যতই কালো হোক...

যখন কলেজে পড়তেন তখন শিক্ষকরা রাস্তায় থামিয়ে থামিয়ে বলতেন, তুমি এত লম্বা! তাঁর বাবা-মাকেও মানুষের মুখে শুনতে হয়েছে যে, তাঁদের মেয়েটা রোগা, লম্বা, কালো, কুিসত। আত্মীয়-স্বজনরা বলেছে, এমন কুিসত মেয়েকে নিয়ে কী করবে? একে বিয়ে দিয়ে দাও। দেশের বাইরে যাওয়ার পরও নিন্দুকদের নিন্দা থেকে নিস্তার পাননি তিনি। কিন্তু এসব নিন্দার কাঁটা তাঁকে কোনোভাবেই স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি হাসিমুখেই ঝেড়ে ফেলে দিয়েছেন এসব। তাঁর মুখেই শোনা যাক, ‘আমি যখন দেশের বাইরে তখনও বিভিন্ন কমপ্লি­মেন্ট শুনতে হয়েছে আমাকে। তবে তা ছিল দেশের শোনা কমপ্লিমেন্টের ঠিক উল্টো। বাইরে আমাকে রাস্তায় থামাত, জিজ্ঞেস করত, তুমি বাংলাদেশের মেয়ে। তুমি এত লম্বা। আমি কেবল হাসতাম। একবার আমাকে একজন থামিয়ে বলল, তোমাকে এত কমপ্লি­মেন্ট করছি আর তুমি হাসছ! আমি বললাম, আমি তো একটা বয়স পর্যন্ত শুনে আসছি যে, আমি কুিসত। কিন্তু আমার ঘরে বাবা-মা’ও যদি একই কথা বলত তাহলে আমি আজ অন্য মানুষ হতাম। আমার বাবা বলতেন, ওরা তো সৌন্দর্য বোঝেই না!’

এদিকে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে তাঁর স্বপ্ন। লন্ডন কলেজের ফ্যাশন টিচারের আদর এবং প্রেরণায় তাঁর সেই স্বপ্ন ডালপালা মেলে বিস্তৃত হতে থাকে। যখন তাঁর গ্রাজুয়েশন পরীক্ষা হয় তখন শিক্ষার্থীদের কাজগুলো নিয়ে শো-ও হয়। এই শো দেখতে বড় বড় মানুষরা যায় এবং সেখান থেকে ট্যালেন্টদের খুঁজে বের করে। এসময় তাঁর ফ্যাশন টিচার বলেন, তোমার একটা কাপড় তুমি পরবে। মডেলিংয়ে অংশ নিতে তাঁর তেমন আগ্রহ ছিল না। অনিচ্ছাসত্তেও ফ্যাশন শিক্ষকের কথায় শো’তে অংশ নেন। তো, তাঁর গ্রাজুয়েশন শো-এর লাস্ট কাপড়টা তিনি পরলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন— ’ভোগ’ ম্যাগাজিনের বড় এজেন্ট-সহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট। পরদিন কলেজের প্রিন্সিপাল তাঁকে ডেকে বললেন, তোমার জন্য অনেক বড় একটা মডেলিং অফার আছে। তিনি সরাসরি না বলে দিলেও ফ্যাশন টিচার তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কলেজে যা শিখানো হয় তা বেসিক শিক্ষা। তাঁর শেখার যে অদম্য ইচ্ছা, মডেলিংয়ে অংশ নিলে অবশ্যই তিনি মাত করবেন। এ সুবাদে পৃথিবীটা দেখা হবে, শেখা হবে অনেক কিছু। যা তাঁর ফ্যশন ডিজাইনিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এভাবেই শুরু হলো তাঁর মডেলিং-জীবন। মডেলিং তাঁকে পৃথিবী দেখিয়েছে। পরিচিত করেছে সারা বিশ্বে।

কর্মজীবন

১৯৭৫ সালে গ্রাজুয়েশন শো-তে নিজের করা ১০টি নতুন ডিজাইনের যে প্রদর্শনী করেন, তা দিয়েই সবার মন জয় করে নেন। সে প্রদর্শনীতে পোশাকের পাশাপাশি মডেলিংও করেন তিনি নিজেই। এরপর পৃথিবীখ্যাত অগণিত ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তিনি জায়গা পেয়েছেন। পরিণত হয়েছেন এক ফ্যাশন আইকনে। ২০ বছর কাজ করেন পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত—সব নামী-দামি ফ্যাশন ডিজাইনারদের সঙ্গে।

১৯৯৪ সালে তিনি ফিরে আসেন নিজ ভূমি বাংলাদেশে। জমিদার পরিবারের মেয়ে হলেও কাজ দেখে কোনোদিন ভয় পাননি সাহসী এই নারী। হয়তো তাই প্রবাসজীবনে পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য পোস্ট বিলি করার কাজ করতেও দ্বিধা করেননি। দেশে ফিরে এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে বসে থাকেননি। ছুটে বেড়িয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। জয় করেছেন গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মন।

১৯৯৫ সালে বিবি প্রোডাকশনের শুরু। ১৯৯৬ সালে প্যারিসে একটি প্রদর্শনী হয়। ইউনেস্কোর সহযোগিতায় সেই ফ্যাশন শো-তে ‘ওয়েভারস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাংলাদেশের তাঁতিদের কাজ প্রদর্শিত হয়। সেই প্রদর্শনীতে পশ্চিমারা বাংলাদেশের পোশাকের এই আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়। এরপর স্পেনের রানির সহযোগিতায় বিবির দ্বিতীয় প্রদর্শনী, ‘দ্য কালারস অব বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। এরকম প্রতিটা আয়োজন বাংলাদেশের পোশাক, তাঁতিদের হাতে বুননের ভাঁজ নিয়ে যায় বিশ্বদরবারে।

ফ্যশন আইকন

বিবি রাসেলের ফ্যশন আইকন রবি ঠাকুর ও বঙ্গবন্ধু । এ দুজনকে নিয়ে তাঁর মুগ্ধতা অপরিসীম। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা শেখ মুজিব কোট পরছি। ওই কোট ডিজাইনে রয়েছে পলিটিক্যাল আইডলজি। রবি ঠাকুরের ব্যাপারে বলতে গেলে, রবি ঠাকুরে প্রতি আমার মুগ্ধতা এমনই ছিল যে,  আমি আট মাস শান্তিনিকেতনে ছিলাম। ওনার সব ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ছবিগুলো দেখতাম আর ভাবতাম, এগুলো রঙিন হলে কেমন দেখাত। যখন ব্রিটেনে যেতেন ডাবল ব্রেস্ট-এর পিন স্ট্রাইপ জ্যাকেট পরতেন। আমি ওটার রঙ চিন্তা করতাম। ওনার মতো আরেকজন স্টাইলিশ আমার চোখে পড়ে না। রবীন্দ্রনাথ আমার প্রেরণা, আমার শক্তি।’

অন্য দিগন্ত

সম্প্রতি ‘প্রীতিলতা’ সিনেমায় কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। তিনি খুবই আনন্দিত যে প্রীতিলতার মতো একজন সংগ্রামী নারীকে নিয়ে বাংলাদেশে সিনেমা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে তিনি যুক্ত। এও জানান, এমন কাজ ভবিষ্যতে হলে, এর সঙ্গে তিনি থাকতে চান; যেমন—বেগম রোকেয়াকে নিয়ে। তবে অভিনয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই।

স্বীকৃতি

স্বীকৃতির তালিকা করতে গেলে তা অনেক দীর্ঘই। এর মধ্যে রয়েছে এলি ম্যাগাজিনের ‘উইম্যান অব দ্য ইয়ার’ ১৯৯৭। লন্ডন আর্ট ইউনিভার্সিটির অনারারি ফেলো ১৯৯৯, ইউএস গুডউইল অ্যাম্বাসেডর ২০০৮, ইউনেস্কো স্পেশাল অ্যানভয়; ডিজাইন ফর ডেভেলপমেন্ট ১৯৯৯, ক্লাব অব বুদাপেস্টের ‘ইউ ক্যান চেইঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড’ ২০০৪-সহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়া শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন ইউনেস্কোসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে। তবে বাংলাদেশ থেকে যে দুটি স্বীকৃতি পেয়েছেন—এর মধ্যে বাংলা একাডেমির ফেলো এবং বেগম রোকেয়া পুরস্কার—এই দুটোকে তিনি বিশেষ মর্যাদার বলে মনে করেন।

‘ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট’—এই শ্লোগানকে তিনি বাস্তবায়িত করতে চান। চান বাংলাদেশের বুননকে আরো বেশি মর্যাদার জায়গায় নিতে যেতে। যে দেশে মসলিন তৈরি হতো, সেখানে তৈরি হয় জামদানির মতো বস্ত্র, সে আরো বড় মর্যাদার জায়গা পেতে পারে। পারে বিবি রাসেলের মতো এমন জগত্খ্যাত সৃষ্টিশীল মানুষের হাত দিয়েই|

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন