‘রাজদূতে’ চেপে রাজ অতিথির আগমন
 রিয়াদ খন্দকার ০৮ জুন, ২০১৫ ইং
‘রাজদূতে’ চেপে রাজ অতিথির আগমন
 

বিমানবন্দরের আকাশ-বাতাস তখন তোপধ্বনিতে কাঁপছে। একেক করে ২১ বার সে শব্দ যখন ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলছে ততক্ষণে ‘রাজদূত’-এর (ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজ) খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলেন দৃপ্ত এক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজদূতের সামনে দুই পাশে উড়ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা। ভিভিআইপি টারমাকে ভেড়ার ১০ মিনিট পর উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন মোদী। উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়েই ডান দিকে তাকিয়ে হাত নাড়েন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সেদিকে ছিল সাংবাদিকদের অবস্থান। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হাত জোড় করে সবাইকে নমস্কার জানান তিনি। এ সময় লাল গালিচায় অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠিক তার আগেই ২১ বার তোপধ্বনি হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে। সুঠামদেহী। সাদা পাঞ্জাবি, চুড়িদার সাদা পাজামা আর নীল আকাশি কটি। মাথায় ধবধবে সাদা চুল উড়ছে বিমানবন্দরের খোলা হাওয়ায়। ঢাকায় নরেন্দ্র মোদীকে প্রথম এভাবেই দেখা গেল। নেমে এলেন মোদী। পা ফেললেন লাল গালিচায়। তখনো তোপধ্বনি বাজছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে গেলেন। করমর্দন হলো দুই নেতার। ছোট্ট শিশুটি ফুল তুলে দিল নরেন্দ্র মোদীর হাতে। অনেকটা ঝুঁকে পড়ে সেই ফুল নিয়ে শিশুটির গালে হাত বুলিয়ে দিলেন। এরপর লালগালিচা ধরে এগিয়ে গেলেন দুই নেতা। অদূরেই মঞ্চ প্রস্তুত। তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানরা, দুই দেশের কূটনীতিকরা। দুই নেতা মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন। বেজে উঠল দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত। মাথার ওপর তখন পত পত করে উড়ছে লাল-সবুজ আর তে-রঙ্গা পতাকা।

সামনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল। তাদেরও দৃপ্ত অপেক্ষা অতিথির সামনে সম্মান প্রদর্শনের। ডাক এলো প্যারেড ঘুরে দেখার। দৃপ্তপায়ে এগিয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদী। বিউগলে বাজছে সুর। রণসঙ্গীত আর দেশের গান। সঙ্গে দ্রিম দ্রিম ঢাকের শব্দ। সেই শব্দের তালে তালে মোদীর এগিয়ে চলা। ঘুরে দেখলেন গার্ড। সম্মানিত হলেন। বাজনা থেমে গেলে আবার দৃঢ়পায়ে উচ্চশিরে এগিয়ে মঞ্চে দাঁড়ালেন। স্যালুট গ্রহণ শেষে শেষ হলো সে আনুষ্ঠানিকতা। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতিথিকে নিয়ে এগিয়ে গেলেন টারমাকে অপেক্ষমান গাড়ির বহরের দিকে। তার আগে পরিচয় করিয়ে দিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে। গাড়িতে তুলে দিলেন অতিথিকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের এই প্রধানমন্ত্রীকে এভাবেই আপন করে নেয় বাংলাদেশ।  

দারুণ ব্যস্ততায় কেটেছে তার দুটো দিন। বন্ধুত্ব দৃঢ় করে তোলার লক্ষ্যে এই সফরকে একটি মাইল ফলক হিসেবেই প্রতিয়মান। উদীয়মান বিশ্বশক্তি আর বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বন্ধু আর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ছিলেন ৩৪ ঘণ্টা। এদিকে অতিথির আগমনে নতুন সাজে সেজেছে রাজধানী ঢাকা। রাস্তার দু’ধার, চৌমাথা, উঁচু উঁচু হোল্ডিংগুলোতে নরেন্দ্র মোদীর ছবি শোভা পেয়েছে! মোদীর ঢাকা আগমন নিঃসন্দেহে একটি হাইপ্রোফাইল সফর। বিজেপি থেকে নির্বাচিত মোদী আমাদের সকল রাজনৈতিক দলের কাছেই সমান জনপ্রিয়। এজন্য বলা যায়, এর আগে প্রতিবেশী কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর নিয়ে এ রকম মাতামাতি হয়নি। রাজধানীর এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল সোনারগাঁ এমনকি হোটেল শেরাটন হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত বর্ণিল সাজে সজ্জিত ছিল। মোদীর ছবির সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু, এমনকি মমতার ছবিও শোভা পেয়েছে আইল্যান্ডে। সব মিলিয়ে নরেন্দ্র মোদীর আগমনের আয়োজনে দু’দেশের হূদ্যতার প্রমাণ প্রকাশ হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন