কক্সবাজার থেকে সারা বাংলাদেশ
০৮ জুন, ২০১৫ ইং
 

l আহসান রনি l

সমুদ্র সৈকত দেখতে কক্সবাজার যাওয়ার পর যে জিনিসটি সকলের প্রিয় কাজ সেটি হলো সেখানকার সামুদ্রিক মাছের তৈরি শুঁটকি মাছ। মজাদার খাবার হিসেবে শুঁটকির কদর আগে যেমন ছিল এখনো তেমন আছে। তাই কেউ কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে বেড়াতে এলে সবার আগে শুঁটকির খোঁজ নেন। সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, বার্মিজ আচার, ঝিনুক-শামুকের শোপিস ও আদিবাসীদের হস্তশিল্পের মতো কক্সবাজারের পণ্যগুলো দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করলেও দেশের অন্যান্য স্থানে এগুলো সেভাবে পাওয়া যায় না। কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা যাওয়ার সময় কিছু পণ্য নিয়ে গেলেও বরাবরই এর চাহিদা থাকে। এই চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই কক্সবাজার ই-শপের যাত্রা শুরু। এক ক্লিকেই শুঁটকি, আচারসহ কক্সবাজারের সব পণ্য সারা দেশের মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেয় তরুণ উদ্যোক্তা লিটন দেবনাথের কক্সবাজার ই-শপ। সরাসরি উত্পাদনকারীদের কাছ থেকে টাটকা শুঁটকি সংগ্রহ করেন বলে তাদের সরবরাহকৃত শুঁটকির মান সাধারণ দোকানের চেয়ে অনেক ভালো বলে দাবি করলেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার লিটন দেবনাথ সৈকত। লিটন জানান, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের দু’টি পণ্যের আলাদা বিশেষত্ব আছে। শুঁটকি ও বার্মিজ আচার। এই দু’টি পণ্য কক্সবাজারের বাইরে সেভাবে পাওয়া যায় না। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাওয়ার সময় কিছু শুঁটকি বা আচার নিয়ে যেতে পারলেও বরাবরই চাহিদা থাকে বেশি। এই চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি বছর জানুয়ারিতে কক্সবাজার ই-শপের যাত্রা। কক্সবাজার ই-শপ শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি কক্সবাজারের পণ্য সারাদেশে পরিচিত করার একটি উদ্যোগ। ফরমালিন ও বিষাক্ত কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি ও টাটকা আচার মানুষের দুয়ারে হাজির করতে তারা কাজ করছেন। শুরুর কথা জানতে চাইলে তিনি জানালেন, ২০০৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর পারিবারিক সংকটে লিটন দেবনাথের লেখাপড়ায় ছেদ পড়ে। ডাক্তারের সহকারী হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন। ওই সময় সাইবার ক্যাফেতে ইউটিউব ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কম্পিউটারের কাজ শেখেন। ২০০৭ সালে একটি কম্পোজের দোকান দিয়ে শুরু হয়ে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ। ব্যবসার পাশাপাশি চলে ফ্রিল্যান্সিং। ২০১০ সালে তিনি দাঁড় করান কক্সবাজারের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েব আর্ট আইটি’। কয়েকজন ডেভেলপার নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখানেই থেমে থাকতে চাননি লিটন। কক্সবাজারে আসা পর্যটক ও তাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কক্সবাজার ই-শপ। লিটন জানান, তার প্রতিষ্ঠানে সামুদ্রিক লইট্যা, ছুরি, কোরাল, রূপচাঁদাসহ নানা শুঁটকি ছাড়াও আচার, চকলেট, আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, শামুক-ঝিনুকের তৈরি দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য শোপিস অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এসব পণ্য কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছানো হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ক্যাশ অন ডেলিভারি সার্ভিস চালু হয়েছে এবং অন্যান্য জেলায় পণ্য সরাসরি ‘হোম ডেলিভারি’ যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি মেলায় অংশগ্রহণ করে নজর কেড়েছে কক্সবাজার ই-শপ। এ ছাড়া গত ১০ এপ্রিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব’ গ্রুপের নবীন উদ্যোক্তা স্মারক-২০১৪ পেয়েছেন লিটন দেবনাথ। কক্সবাজার ই-শপ নিয়ে লিটন দেবনাথের পরবর্তী লক্ষ্য হলো বিদেশে পণ্য পাঠানো। এই লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন তারা। প্রাথমিকভাবে বিশ্বের ১৩টি দেশে কক্সবাজারের শুঁটকি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লিটন দেবনাথের মতে, ই-কমার্স নিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পুঁজি ও কাজ করার ক্ষেত্র। উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় সরকার ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে দেশই লাভবান হবে। ভারতে ই-কমার্স নিয়ে অনেক উদ্যোক্তা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত। তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই খাতের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ জুন, ২০১৯ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন