শিশুশ্রম নিরোধে
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
শিশুশ্রম নিরোধে
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। দেশেও নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম। তবু সারা দেশে এমন ৫২ লাখ শিশু প্রতিদিন পায়ে ফেলছে মাথার ঘাম। শুধু রাজধানীতেই এদের সংখ্যা ২৫ লাখ। অথচ তারা যে পারিশ্রমিক পায়, তা নামেমাত্র। আইএলওর সনদ অনুযায়ী ১৬ থেকে ১৮ বছরের কম বয়সের কোনো শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারবে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য মতে, ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত সারা দেশে ৫৪ জন গৃহশ্রমিক খুন হয়েছে। এর অধিকাংশই ধর্ষণের পর। গৃহকর্মে নিয়োজিত মেয়ে শিশুর ওপর ধর্ষণসহ নানা নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। গৃহকর্মে নিয়োজিত প্রায় ৯২ শতাংশই শিশু।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে গ্রেট ব্রিটেনে কারখানা চালু হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে গৃহযুদ্ধের পর এবং দক্ষিণে ১৯১০ সালের পর শিশুশ্রম একটি স্বীকৃত সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। আগেকার দিনে শিশুরা কারখানায় শিক্ষানবিশ অথবা পরিবারে পরিচারক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু কারখানাগুলোতে তাদের নিয়োগ দ্রুতই প্রকৃত অর্থে হয়ে দাঁড়ায় দাসত্ব। ব্রিটেনে ১৮০২ সালে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে সংসদে গৃহীত আইন দ্বারা এ সমস্যার নিরসন হয়। ইউরোপের অন্যান্য দেশে একই ধরনের আইন অনুসরণ করা হয়। যদিও ১৯৪০ সাল নাগাদ বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে শিশুশ্রম আইন প্রণীত হয়ে যায়, তবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উত্পাদন বৃদ্ধির আবশ্যকতা বহু শিশুকে আবার শ্রমবাজারে টেনে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯১৮ এবং ১৯২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক প্রণীত শিশুশ্রম আইন অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ১৯২৪ সালে কংগ্রেসে একটি সংবিধান সংশোধনী পাস করা হয়, কিন্তু সেটি অনেক অঙ্গরাজ্যেই অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়। ১৯৩৮ সালে প্রণীত প্রথম লেবার স্ট্যান্ডার্ড অ্যাক্টস ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পেশার জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং সাধারণ নিয়োগের জন্য ১৬ বছর ধার্য করে দেয়। বাংলাদেশে শিশুশ্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। ২০০৬ সালের শিশু সনদে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গভর্নমেন্ট ন্যাশনাল চাইল্ড সার্ভে (২০০৩) অনুযায়ী ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩.২ মিলিয়ন শিশু বাংলাদেশে কাজ করে। বাংলাদেশে শিশুদের অধিকারের প্রতি সামান্যই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশু অধিকারের অব্যাহত অপব্যবহার এবং লঙ্ঘন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘনবসতি, সীমিত সম্পদ এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে এবং এ অবস্থায় শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুদের রক্ষা ও কল্যাণের জন্য প্রণীত আইন ও আইনগত বিধানগুলো হচ্ছে—

l ন্যূনতম মজুরি অধ্যাদেশ (১৯৬১) কিশোরসহ সকল শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম মজুরি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে এবং নিয়োগকারী কর্তৃক কিশোর শ্রমিককে (১৮ বছরের নিচে) এই অধ্যাদেশের আওতায় গঠিত বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণের কম মজুরি প্রদান বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

l দোকান ও স্থাপনা আইন (১৯৬৫) দোকানে বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ১২ বছরের কমবয়সী শিশু নিয়োগ নিষিদ্ধ করেছে। এই আইন ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তির জন্য শ্রমঘণ্টাও নির্ধারণ করে দিয়েছে।

l কারখানা আইন (১৯৬৫) ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ১৪ বছরের কমবয়সী ব্যক্তিকে নিয়োগদান নিষিদ্ধ করেছে এবং শিশু ও কিশোরের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রবিধান দিয়েছে। এছাড়া এই আইন কোনো কারখানায় নারী শ্রমিকদের ৬ বছরের নিচে সন্তানদের লালন-পালনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছে।

l শিশু আইন (১৯৭৪) এবং শিশু বিধি (১৯৭৬) সকল ধরনের আইনগত প্রক্রিয়াকালে শিশুর স্বার্থ রক্ষা করবে। এই আইনে আলাদা কিশোর আদালত গঠনের জন্য বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু অপরাধী যদি যৌথভাবে একই অপরাধ করে থাকে তাহলেও তাদের যৌথ বিচার অনুষ্ঠান করা যাবে না।

l খনি আইন (১৯২৩) ১৫ বছরের কম বয়সের কোনে ব্যক্তিকে কোনো খনিতে নিয়োগদান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং ১৫ থেকে ১৭ বছরের যুবকদের নিয়োগ প্রদান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

l শিশু নিয়োগ আইনে (১৯৩৮) বলা হয়েছে যে রেলওয়ের কয়েকটি কাজে শিশুদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না এবং রেলওয়ে কারে অথবা বাসে অথবা কোনো বন্দরের অধীন এলাকায় শিশুরা কোনো দ্রব্য বিক্রয় করতে পারবে না।

l শিশু (শ্রম অঙ্গীকার) আইনে (১৯৩৩) ১৫ বছরের কমবয়সী শিশুর শ্রম চুক্তির অঙ্গীকার অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন