হেঁটে হেঁটে বাংলাদেশ
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
হেঁটে হেঁটে বাংলাদেশ
স্বপ্নের মতোই ডানা মেলেছিল যখন পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ ভ্রমণের চিন্তাটা মাথায় আসে। আর সেই চিন্তা থেকে এম এ জেড রহমানের যাত্রা শুরু। তার গল্প জানাচ্ছেন শেখ হাসান হায়দার

সাহস আর ইচ্ছা, এই দুই থাকলে কোনো চ্যালেঞ্জই যে অপারাজেয় নয় এই কথাকে যেন এক নতুন মাত্রা দিলেন এম জেড রহমান। সরকারি তিতুমীর কলেজের এই ছাত্র পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার পাশাপাশি দেশের বর্তমান পর্যটন স্পট এবং সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটগুলোকে বিশ্বব্যাপী নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে সম্প্রতি পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়িয়েছেন সমগ্র বাংলাদেশ।

নিজের দেশের মাটির টান আর ভ্রমণ করার ইচ্ছা দুই মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে করবেন ব্যতিক্রমী কিছু। সেই ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা থেকেই এই হাঁটার চিন্তা তার। বাংলাদেশের প্রথম একক ব্যক্তি হিসেবে সারা বাংলাদেশ পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেন তিনি। এর আগে অনেকেই সাইকেল কিংবা দল বেঁধে পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন কিন্তু একা এই প্রথম কেউ পায়ে হেঁটে সমগ্র বাংলাদেশ ঘুরলেন এম জেড রহমান। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আর ঢাকা ক্লাবের সহযোগিতায় তিনি ‘এক্সপ্লোর বাংলাদেশ’ শিরোনামে আনুষ্ঠানিকভাবে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ শুরু করেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে। মূলত বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা আর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা করাই তার এই সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। তেঁতুলিয়া থেকে ২০ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে গত ২ জুন তিনি পৌঁছান টেকনাফে; দীর্ঘ ৪৪ দিনের এই পায়ে হাঁটা ভ্রমণে তিনি যেমন গিয়েছেন দেশের বিখ্যাত পর্যটন স্পটগুলোতে, তেমনি সম্ভাব্য নতুন পর্যটন স্পট নিয়েও কথা বলেছেন সাধারণ মানুষের সাথে, বুঝিয়েছেন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। এম জেড রহমান তার এই পায়ে হাঁটা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আর বৈচিত্র্যময় একটি দেশ। আমাদের দেশের পরিচিত দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশাপাশি নতুন অনেক দর্শনীয় স্থান তৈরি হচ্ছে, এসব স্থানও অনেক দৃষ্টিনন্দন। শুধু দরকার প্রচার। ভ্রমণপিয়াসু মানুষদের জানানো দরকার এসব স্থান সম্পর্কে।’ ভ্রমণের সেই স্বপ্নীল দিনের কথা বলতে গিয়ে বারবার তিনি যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন সেই পিচঢালা রাস্তায়, গাছের সারির ভেতর, কখনো যেন আবার গ্রামের মেঠোপথে!

৪৪ দিন পায়ে হাঁটায় কষ্ট কেমন জানতে চাইলে মুচকি হেসে তিনি তার দু পায়ের বিশাল ফোসকা দেখিয়ে বলেন, ‘এখনো হাঁটতে খুব কষ্ট হয়, পায়ের স্বাভাবিক অনুভূতিও এখনো পুরোপুরি ফিরে পাইনি। অনেক সময় মনে হয়েছিল আমি আর পারব না; কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়েছে এটা তো আমার দেশের জন্য করছি, থেমে গেলে তো হবে না! এভাবেই নিজেকে অনুপ্রেরণা দিয়েছি। আর কষ্টের কথা যদি বলতে হয় তবে অবশ্যই বলব আমার এই ফোসকা পড়া পা, অসুস্থ শরীর কোনো কিছুই আমাকে তেমন কষ্ট দেয়নি যতটা কষ্ট পেয়েছি কিছু অসাধু লোকের স্বার্থপর আচরণে প্রকৃতির সৌন্দর্য ধ্বংস দেখে! আমাদের বুঝতে হবে দেশ আমাদের—দেশের এসব দর্শনীয় স্থান রক্ষা করা যেমন আমাদেরই দায়িত্ব, তেমনি বুঝতে হবে গাছ কাটা, অকারণে পরিবেশ দূষিত করা এসবের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।

আমাদের দেশ পর্যটন শিল্পের জন্য অনেক সম্ভাবনাময়। শুধু প্রচার আর সচেতনতা তৈরি হলেই পর্যটন খাতে অনেক আয় যেমন করা যাবে, তেমনি আমাদের দেশের এই সৌন্দর্য বিশ্বদরবারে দেশের মানও বাড়াবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন