জীবনেরজন্য
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
l ইশরাত বিনতে আফতাব l

 

রক্ত লাগবে? ব্লাড ব্যাংকেই সমাধান হবে সমস্যার। সাধারণের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম পাওয়া যায় এমন রক্তের গ্রুপ হলেই কিন্তু রোগীর পরিবারের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সাধারণত, একটি দেশের তিন ভাগ মানুষও যদি নিয়মিত রক্তদান করে তবে সে দেশের রক্তচাহিদা পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু এই পরিসংখ্যান আমাদের মতো হাজারো দুর্ঘটনার দেশে সম্পূর্ণ সত্য নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৮ সালের তথ্যে বলা হয়, পৃথিবীর ১৫৯টি দেশে আট হাজার রক্তকেন্দ্র রয়েছে। উন্নত দেশের রক্তকেন্দ্র থেকে গড়ে প্রতিবছর ৩০ হাজার ব্যাগ রক্ত সংগৃহীত হয়। সেখানে উন্নয়নশীল দেশে আট ভাগের এক ভাগ অর্থাত্ গড়ে তিন হাজার সাতশ ব্যাগ সংগৃহীত হয়। ১০৬টি দেশে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন নীতিমালা থাকলেও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে মাত্র ১৩ ভাগ দেশে এ নীতিমালা বিদ্যমান। সমগ্র পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ব্যাগ রক্ত প্রতিবছর সংগ্রহ করা হয় এবং এর মধ্যে অর্ধেকই উন্নত দেশ থেকে।

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন করা হয়। এরপর ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস।

রক্তদাতা প্রধানত ৩ ধরনের হয়ে থাকে। স্বেচ্ছা রক্তদাতা, পারিবারিক রক্তদাতা এবং রক্ত বিক্রেতা। পৃথিবীর ৬২টি দেশে বর্তমান প্রয়োজনীয় রক্ত স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত হয়। তবে এই স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের অধিকাংশই উন্নত দেশের অধিবাসী। যেহেতু আমাদের মতো দেশগুলোতে জনসংখ্যার সাথে সাথে দুর্ঘটনার হিসাব সমানুপাতিক তাই প্রয়োজনীয় রক্তের জন্য স্বেচ্ছা রক্তাদাতাদের পাশাপাশি পারিবারিক সদস্যদের উপর নির্ভর করতে হয়, যাদের অধিকাংশই নিয়মিত ও স্বেচ্ছা রক্তদাতা নয়। তবে বাংলাদেশে এখন সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে অনেকেই রক্তদানের কাজে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এগিয়ে আসে। মূলত তরুণরাই স্বেচ্ছায় রক্তদান করে। শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাই প্রায় ৭০ শতাংশ রক্ত দান করে। ইদানীং তরুণরা বিভিন্ন বিশেষ দিনে অন্যান্য আয়োজনের সাথে সাথে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে।

রক্ত যেমন জীবন রক্ষা করে তেমনি জীবন ধ্বংস করার হাতিয়ারও তার হাতে। পেশাদার রক্তদানকারীরা দেখা যায় অধিকাংশ সময়েই মাদকসেবী হয়ে থাকে। মাদক কেনার টাকার প্রয়োজনে রক্তদান করে। সেই ক্ষেত্রে রক্ত সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারপর দেওয়া উচিত। এখন যদিও এইসব ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু তবুও পরিস্থিতি খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। রক্ত জীবন বাঁচানোর উপকরণ। আসুন নিজে রক্ত দিই, অন্যকেও রক্ত দিতে উত্সাহিত করি। আজ আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত ভবিষ্যতে হয়তো আপনার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে ফেরত আসবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন