অন্যরকম প্রয়াস
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
l সামিউল ইসলাম শোভন l

 

উদ্ভাস, রকমারি ডট কম কিংবা ইলেকট্রনিক ভোটিং (ইভিএম) মেশিন ব্যাপারগুলো আধুনিক বাংলাদেশে খুব পরিচিত কয়েকটি বিষয়। এগুলোর একটি নিয়ে কথা বলতে গেলেই উঠে আসে মাহমুদুল হাসান সোহাগের কথা। উঠবেই বা না কেন! তিনি যে এই সবগুলোর স্রষ্টা! 

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে তড়িত্ প্রকৌশল থেকে পড়াশোনা করে হয়তো চাকরি করতে পারতেন। করেননি। বনে গেছেন উদ্যোক্তা। আজ ২০১৫ সালে এসে এটুকু প্রমাণ করতে তার খুব বেশি কষ্ট হয়নি, সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একজন প্রকৌশলী হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ কী?

উত্তরটা যেমন বাস্তব, তেমনি মজার। বললেন, ‘একজন প্রকৌশলী হয়ে আমি চাকরি করতেই পারতাম, কিন্তু আমার আগ্রহ ছিল সমস্যা সমাধান করার দিকে। যেহেতু বাংলাদেশে সমস্যা অনেক বেশি তাই উদ্যোক্তার জন্য কাজের সুযোগ অনেক বেশি। আর এত এত সমস্যা পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশের লোকজন এগিয়ে যাচ্ছে যে প্রেরণা খুঁজে নেওয়া খুব সহজ।’ উদ্যোক্তা হিসেবে এই গুণী উদ্যোক্তার শুরুটা কেমন ছিল সেটা যে না জানলেই নয়। অন্তত ভবিষ্যত্ উদ্যোক্তাদের জন্য হলেও তার পথচলার শুরুটা জানা খুব দরকার।

মাহমুদুল হাসান সোহাগ স্মৃতি হাতড়ে জানালেন, বন্ধুরা মিলে যখন ইলেকট্রনিকস ও সফটওয়্যারের তৈরির কাজ শুরু করেন, তার কিছুদিনের মাথায় একটা বিজ্ঞাপনে দেখতে পান, একজন একটা সার্কিট বানানোর লোক খুঁজছেন। বিজ্ঞাপনদাতার সঙ্গে দেখা করতে যান তারা। কিন্তু বিজ্ঞাপনদাতা তাদেরকে দেখে যেন হতাশ হলেন। শেষপর্যন্ত তাদের আগ্রহ দেখে ওই ভ্যাকুয়াম চেম্বারের সেন্সরের কাজটা তিনি দিলেন।

লোকটির উপেক্ষাকে জেদ হিসেবে নিয়েছিলেন সোহাগরা। ঠিক করলেন এই ডিভাইস বানিয়েই তার সঙ্গে দেখা করবেন। জেদটাকে কাজে লাগিয়েছিলেন তারা। মাত্র পাঁচদিনের মধ্যেই ডিভাইস বানিয়ে দিয়ে আসেন। মাত্র পাঁচদিনের কষ্ট থেকে উঠে আসে একলাখ টাকা।

এভাবেই পর্যায়ক্রমে উদ্ভাস, রকমারি, পাই ল্যাবের কাজগুলো শুরু করেন তারা। সর্বশেষ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন উদ্ভাবন করে আলোচনায় আসেন এই প্রকৌশলী-উদ্যোক্তা। কিন্তু রাজনৈতিক বাঁধার মুখে পড়ে এ নিয়ে আর নতুন কিছু করার নেই বলে জানান তিনি।

একজন উদ্যোক্তা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু মাহমুদুল হাসান সোহাগের কাজগুলো প্রায় সবই প্রযুক্তিনির্ভর। এ বিষয়ে তিনি জানান, কারণটা সম্ভবত একাডেমিক। বুয়েটে পড়ার সুবাদেই নাকি এমনটা হয়েছে। সমস্যা মাথায় এলে সমাধান খুঁজতে গেলে প্রথম আইটিই মাথায় আসত তার। একটা সময় পর্যন্ত সবাই হয় বুয়েট, নয় তো মেডিকেলে যেতে চাইত। তিনি যেহেতু জীববিজ্ঞান পড়েননি, তাই মেডিকেলে পড়ার সুযোগ ছিল না। তাই বুয়েটে পড়লেন। তারপর যখন সমস্যা মাথায় আসা শুরু করল, তখন সমাধান খুঁজতে গেলে আইটিই মাথায় আসত সবার আগে।

সবদিকেই সফল এই মানুষটি স্বপ্ন দেখেন সুখী বাংলাদেশের। তার কাছে সফলতার অর্থই হলো সুখী থাকা।

সম্প্রতি কানিজ ফাতেমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মাহমুদুল হাসান সোহাগ। সোহাগের অন্যরকম যে পথচলা, আমরা আশা করি তার সহধর্মিণীর কল্যাণে তা আরও এগিয়ে যাবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন