নিরাপদ ইন্টারনেটের কথা
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
 

l শেখ হাসান হায়দার l

তথ্য-প্রযুক্তির দুনিয়ায় শিশুদের কাছে আরও এক নতুন দুনিয়া উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইন্টারনেট। আবার সাথে সাথে তার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়ও করে তুলেছে সহজলভ্য। কিন্তু ইন্টারনেটের ব্যবহার যেমন বেড়েছে বিশ্বব্যাপী, সেইসাথে বেড়েছে সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। আবার পর্নোগ্রাফির ব্যবহারও বেড়েছে একই সময়ে। আর শিশুরাই এসব সাইবার অপরাধী এবং পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছে অহরহ। আর সে কারণেই শিশুদের খুব অল্প বয়স থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক করে তুলতে শিক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন। অনেক সময় প্রযুক্তি জানা শিশুও যথেষ্ট দূরদৃষ্টির অভাবে বিপদে পড়ে যায়। অনেক শিশু গুজব ছড়ানো কিংবা মজা করে অন্যের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মতো বিষয়ে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের কাছ থেকে ফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ কেড়ে নেওয়াটা এর সমাধান হতে পারে না। বরং তাদের নজরদারির মধ্যে রেখে এবং নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনের বিপদ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া যায়। ঠিক এমনই এক পোর্টাল তৈরি করেছে শাদমান সাকিব। www.nctfbd.org পোর্টালে খুব সহজেই নিরাপদ ইন্টারনেট নিয়ে জানা যাবে। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা আলোচনা বিভাগ। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে সারা দেশের অন্যান্য শিশুর সাথে তাদের মতামত নিয়ে আলোচনা করতে পারবে। কোনো শিশু ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় কোনো সমস্যা বা হয়রানির শিকার হলে তা তারা পোর্টালের মডারেটরদের জানালে খুব সহজেই মডারেটররা ওই শিশুকে সাধ্যমতো সাহায্য করে থাকেন। পোর্টালটির দারুণ সাড়া ফেলায় ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স বাংলাদেশ পোর্টালটিকে তাদের মূল ওয়েবপেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফল হয় আরও দারুণ। এখন অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও পোর্টালটির মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে। কোথাও কোনো বাল্যবিবাহ কিংবা শিশু নির্যাতনের খবর পোর্টালের মাধ্যমে জানালেই এনসিটিএফ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বর্তমানে পোর্টালটির ৩৮০০০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুল তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক শিশু-কিশোর-তরুণ নিজেদের ঠেলে দিচ্ছে নানা অন্যায়-অপকর্মের দিকে। যার ফলে তারা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে নৈতিকতা-মূল্যবোধ থেকে। তাই তাদের নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য, পরিবারের ভালোর জন্য এবং সর্বোপরি দেশের উন্নতির জন্য তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে ইন্টারনেটের ভালো দিকটির সাথে; আর এরই সাথে তার মাঝে প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে ভালো-খারাপের মাঝের পার্থক্য জ্ঞান। তবে তাদের খারাপের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দেওয়াটাও হবে বোকামি। কেননা এর ফলে যেমন তারা জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়বে, তেমনি হঠাত্ করে ইন্টারনেটের ব্যবহার বন্ধ করার ফলে তারা হয়ে উঠতে পারে বেপরোয়া, লাগামহীন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন