শিশুশ্রম নিরসনের আধুনিক পথিকৃত্ কৈলাস সত্যার্থী
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
 

l ইশরাত বিনতে আফতাব l

 

‘এই শিশুগুলো শ্রমের শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে আছে জন্ম থেকে। ‘স্বাধীনতা’ শব্দটা তাদের কাছে সম্পূর্ণই অপরিচিত। স্বাধীন জীবন যাপনের অনুভূতি তাদের কাছে অজানা।’ কথাগুলো কৈলাস সত্যার্থীর। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত এই মানুষটি তার জীবনের অধিকাংশ সময়ই নিভৃতে কাজ করে গেছেন শিশুশ্রম নিরসনের জন্য। ১৯৮৩ সালে তিনি সংগঠিত করেন ‘শৈশব বাঁচাও’ আন্দোলন—শিশুদের অধিকারের জন্য লড়াই। তাঁর নেতৃত্বে ‘শৈশব বাঁচাও’ আন্দোলন দেশ ছাড়িয়ে পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক স্তরে। আন্দোলনে সফলও হয়েছেন কৈলাস। তার এই আন্দোলন প্রায় ৮০ হাজার শিশুকে খোলা আকাশের স্বাদ দিয়েছে কলকারখানার কালো ধোঁয়ার অন্ধকার জীবন থেকে। তবে তার আন্দোলনের বড় সফলতা ‘রাগমার্ক’। সাধারণত কার্পেট নির্মাণ শিল্পের মূল কারিগর শিশুরাই। রাগমার্ক চালু হওয়ার পর বাজারজাত কার্পেটগুলো শিশুশ্রম বর্জিত কী না, তা বোঝা যেত। এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্তরেও শিশুদের অধিকার বোঝাতে সাহায্য করেছে।

দক্ষিণ এশিয়াতে প্রায় এক চতুর্থাংশ শ্রমিক শিশু। ভারতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৪ কোটি। এই বৃহত্তর সমস্যা নিয়েই লড়াই সত্যার্থীর। শিশুদের নরক থেকে মুক্তি দিয়ে শিক্ষার আলো দেখাতে চেয়েছেন তিনি। তাদের নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

‘গত কয়েক বছর ধরেই শিশু শ্রমের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। শিশুদেরকে তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে মুক্ত করতে আমাকে কম কষ্ট করতে হয়নি ভারতে। এখন আমি প্রতি চার বছর পর পর শিশুশ্রম হ্রাসের পরিসংখ্যান পাই আমার হাতে। যখন এই হ্রাসের হিসেব দেখি আপনা থেকেই আমার কষ্টগুলো মুছে যায়, আমার ক্ষতগুলো সেরে যায়। এ আমার এক অন্যরকম পাওয়া,’ ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়াতে ‘থার্ড গ্লোবাল কনফারেন্স অন চাইল্ড লেবার’-এ তার দেওয়া ভাষণে এই কথা বলেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করছেন কৈলাস সত্যার্থী। এই উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্যই ছিল এ দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত মান নিশ্চিত ও সর্বস্তরে শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করা। ‘বিশ্বের গণশিক্ষাব্যবস্থা ও পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে।

কৈলাস বলেন, ‘যদি সর্বস্তরে শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ হতো, তা হলে এসব মানুষ নিজেদের জীবন, স্বপ্ন না বাস্তবতা বুঝতে শিখত। লোভে পড়ে কিংবা অবৈধপথে গিয়ে এভাবে বিপদের মুখে পড়ত না। তিনি দাবি করেন, এর পাশাপাশি শিগগিরই এর থেকে পরিত্রাণ খুঁজে বের করতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমিয়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোই হতে পারে আগামী দিনের এ সমস্যা সমাধানের কার্যকর পন্থা। এছাড়া দেশেই ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও শ্রমের মজুরি বাড়ানোর পরামর্শ রাখেন তিনি। যাতে করে তারা দেশ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমানোর মতো চেষ্টা থেকে বিরত থাকে।’

শান্তিতে এ নোবেল বিজয়ী আরও বলেন, ‘একটি বিপরীত শক্তি রয়েছে যারা সবসময় শিক্ষার বিপরীত স্রোতে থাকে। সবাইকে এর থেকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। এরা চরমপন্থা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছে। শিশুশিক্ষাটাকে শত্রু মনে করে। কারণ মানুষ শিক্ষিত হলে এবং প্রকৃত শিক্ষা পেলে তাহলে ভবিষ্যতে তাদের আর ফাঁদে ফেলা যাবে না। এজন্য তারা শিশুশিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির পাশাপাশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও গণশিক্ষাব্যবস্থারও টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা করে।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন