সমাজকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যারা
১৩ জুন, ২০১৬ ইং
সমাজকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যারা
নিজের কর্মদক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন নিজেদের উদ্যোগগুলো। যেগুলো ভূমিকা রাখছে সামাজিক নানা পরিবর্তনের লক্ষ্যে। নতুন প্রজন্মের এমনই কয়েকজনের গল্প জানাব এবার। যারা এরমধ্যেই মাইক্রোসফট বাংলাদেশ ও ইয়াং বাংলার পৃষ্ঠপোষকতায় নিজেদের উদ্যোগগুলো নিয়ে এগিয়ে গেছে সমান তালে

মনি বেগম

গন্তব্য জাতিসংঘ

‘সত্যি কথা বলতে কি, আমি কোনোদিন ঢাকা যাওয়ার স্বপ্নই দেখিনি। সেখানে নিউইয়র্ক! জাতিসংঘে ভাষণ! সবকিছুই আজ স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হয়...’ কথাগুলো মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মনি বেগমের। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনি বেগম ২০১৫ সালের জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র শিশু প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। মনি বেগম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের সাধারণ ঘরের মেয়ে। দিনমজুর পিতা মরম আলী ও গৃহিণী মা হাওয়া বেগমের ৬ সন্তানের মধ্যে মনি সবার ছোট। মনি বেগমের স্বপ্ন আকাশে ওড়ার। বড় হয়ে তাই সে পাইলট হতে চায়। মনি জানায়, সেভ দ্য চিলড্রেনের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকা আহছানিয়া মিশন দেশব্যাপী ‘এভরিওয়ান’ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। তাতে বাল্যবিবাহ, শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধ এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে মনি তিন মাসের এক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে মনি ইয়ুথ লিডার মনোনীত হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় পরীক্ষা দিয়ে মনি সারা দেশের মধ্যে সেরা ফল করে এবং নির্বাচিত হয় জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের জন্য বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে মনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব শিশু অধিকার সম্মেলনে বক্তব্য দেয়। এ ছাড়া সে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার সুযোগ পায়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ছাড়াও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি মিস মার্থা সেন্টোন পেইস, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকের সঙ্গে মতবিনিময় করার সুযোগ পায় মনি। মনি দেশে ফিরে লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজ সচেতনতামূলক কাজ অব্যাহত রেখেছে।



কেশব রায়

বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলমুখী করতে

নীলফামারীর জলঢাকার ছেলে কেশব। কাজ করছেন বাল্যবিবাহ বন্ধ করার বিষয়ে। যুব সমাজকে একত্রিত করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং যুব সমাজকে দেশের কল্যাণে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য মাইক্রোসফট তাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত করেছে। কীভাবে শিশু শিক্ষায় অবদান রেখেছেন কেশব? জবাবে কেশব জানান, এক বছর ভাঙারির দোকানে কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে আবার স্কুলে ভর্তি হন। পাশাপাশি এলাকার ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে প্রচারণা শুরু করেন। বাল্যবিবাহের খবর পেলেই তারা ছুটে যান বিয়ে বন্ধ করতে। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, জন্মনিবন্ধন, গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। কেশব যখন ক্লাস সেভেনে তখন পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার। সেই ছেলেই পরবর্তীতে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন নিজেকে। পেয়েছেন জাতিসংঘের ‘ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশন’! ২০১৩ সালে ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশনের জন্য সারা বিশ্ব থেকে সাতজনকে বাছাই করেছিল জাতিসংঘ। তাদের মধ্যে একজন সেই কেশব রায়। কেশব বলনে, ‘আমি সকলের সহযোগিতায় শুরু থেকে ১৬০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। আমার কাজের ধারাবাহিকতাকে আরও গতিশীল করতে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা ও ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ‘শিশু সম্মেলনে’ বাংলাদেশের শিশু প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাই।’ কেশবের কাজে উদ্ধুদ্ধ হয়ে যুবকরা গ্রাম পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করেছে। আর ৩০ মার্চ, ২০১৫ এবং ২৯ মে, ২০১৬ তারিখে জলঢাকা ও নীলফামারী সদর উপজেলাকে প্রশাসন কৃর্তক বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়। এ অর্জন সত্যি অনেক। দেশের প্রতিটি যুবক দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখবে, এই আশা তাদের। 



জান্নাতুল নাঈম প্রীতি

লেখালেখি তার

পরিবর্তনের হাতিয়ার

আমি মূলত লেখালেখি করি। একজন লেখক হিসেবে সমাজের প্রতি যে দায়বদ্ধতা বোধ করি সেখান থেকেই মূলত লেখালেখির শুরু। গত বছর ইয়াং বাংলা এবং সিআরআইয়ের উদ্যোগে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের তরুণদের অংশগ্রহণে এটি একটি প্লাটফর্ম যেখানে দশটি ক্যাটাগরিতে মোট ত্রিশ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। সেখানে সাহিত্য ও শিল্পকলায় অবদান রাখার জন্য আমি পুরস্কার পাই। সেখানেই এই আসরের অন্যতম স্পন্সর মাইক্রোসফট থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মাইক্রোসফট প্রধান সোনিয়া বশির কবির ঘোষণা দেন—এই আসরের কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্র্যান্ড প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। যাদের কাজ হবে উদ্যোক্তা হিসেবে মাইক্রোসফটকে সঙ্গে নিয়ে পথচলা। পাশাপাশি থাকবে ব্যবসার ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের সুযোগ-সুবিধা। এর ধারাবাহিকতায় মাইক্রোসফটের সঙ্গে যাত্রার সূচনা। একটি সৃজনশীলতার চর্চাবান সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তা হিসেবে যে সমস্ত উপাদান দরকার হয় তার সবকিছুই মাইক্রোসফট থেকে আমি পাচ্ছি। পাশাপাশি পাচ্ছি স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য নানা ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট। আমি বিশ্বাস করি, এদেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। আমি বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী। এ কারণেই বর্তমানে আমার লক্ষ্য একটি অনলাইনভিত্তিক ই-শপ তৈরি করা। যেখানে হাতে আঁকা ছবি, আমার লেখা বইসহ গিফটের একটি সৃজনশীল বাজার গড়ে উঠবে। হয়তো পরবর্তীতে আরও নতুন নতুন বিষয় সংযুক্ত হবে। এতে করে তরুণদের কর্মসংস্থানের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস।



ফারজানা খান লিখন

নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছেন

একজন নারীই পারে অন্য আরেক নারীর মর্ম যাতনা বুঝতে। একজন নারীই পারে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। বারবার হোঁচট খেয়ে সমাজের মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন খুলনার দৌলতপুর উপজেলার ফারজানা খান লিখন। নিজের উদ্যোগে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে প্রান্তিক নারীদের আত্মনির্ভরশীলতার সোপানের সন্ধান দিচ্ছেন তিনি। নারীর জন্য সমতা আনায়নের সংগ্রামে লড়াই করতে শেখাচ্ছেন বুক চিতিয়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লিখন নারীদের নিগ্রহ হতে দেখেছেন গ্রামে। মুখ লুকিয়ে কাঁদা অসহায় নারীদের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা থেকেই তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কিছু করার কথা ভাবেন। এইজন্য মূলত নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নিজের কলেজের গেটের সামনে একটা দোকান ভাড়া নিয়ে বিনামূল্যে নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন লিখন। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য শর্ত হিসেবে রাখেন যে, তারা অন্য কয়েকজন নারীকেও বিনামূল্যে কম্পিউটার শিক্ষা দেবেন। এভাবে আস্তে আস্তে স্থানীয় নারীরা ব্যাপকভাবে কম্পিউটার শিক্ষা পেতে থাকেন। এই শুভ উদ্যোগে শামিল হন আরও কয়েকজন। সবাই মিলে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ডিজিটাল সেন্টার’। মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে সঙ্গতি রেখে এই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। লিখন ও তার সংগঠন ডিজিটাল সেন্টার প্রমাণ করেছে নারীদের সবচেয়ে বড় সহায় হতে পারে একজন নারীই।



কুমার বিশ্বজিত্ বর্মন

নিরক্ষরতার অন্ধকার ঘুচাতে

মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে নাকি থাকে একটা বড় স্বপ্ন। ঠিক তেমনি এক স্বপ্নকাতর তরুণ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ ইউনিয়নের তরুণ কুমার বিশ্বজিত্ বর্মন। যার প্রতিষ্ঠিত ‘আশার আলো পাঠশালা’ হঠাত্ আলোর ঝলকানি হয়ে ঘুচিয়েছে নিরক্ষরতার অন্ধকার। আশার আলো পাঠশালার শুরুটা সাধাসিধে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির লক্ষ্য ছিল বিনামূল্যে শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা ও পাঠাগার গড়ে তোলা। দারিদ্র্যের অমোঘ কষাঘাতে জর্জরিত নাগেশ্বরী বাংলাদেশের অন্যতম পশ্চাতপদ জনপদ। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’ মানুষগুলোর কাছে শিক্ষার ব্যয় বহন অনেকটা অলীক কল্পনার মতো। কিন্তু বিশ্বজিত্ যে অন্য ধাতুতে গড়া। তার বিশ্বাস ছিল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র শিক্ষা। এজন্য শিক্ষিত হতে হবে শিশুদের। মন্ত্রটা মাথায় রেখে বিশ্বজিত্ শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান শুরু করেন। শুরুতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭০ জন। তারপর সংখ্যাটা বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। আশপাশের মানুষও উত্সাহ দেন এই শুভ উদ্যোগে। আস্তে আস্তে অন্য সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ শুরু করেন বিশ্বজিত্ বর্মন। প্রচারাভিযান শুরু করেন বাল্য বিবাহ ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তিনি আশার আলো পাঠশালায় শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষার কাজ চালিয়ে যান। পুরো নাগেশ্বরীতে বিশ্বজিত্ বর্মন এখন পরিচিত নাম। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বজিতের কাজের। বলেছেন সামাজিক সমস্যা সমাধানে তার মতো এগিয়ে আসা উচিত সবারই।


শাহরিয়ার জাহান রিপা

নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে

বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জাহান রিপা পড়াশোনার পাশাপাশি চেয়েছিলেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে। উচ্চশিক্ষার সাথে সাথে আত্মনির্ভরশীলতার সুলুক সন্ধান করতে গিয়ে তিনি কারিগরি প্রশিক্ষণ নেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। তারপর নিজের ব্যবসা শুরু করেন। স্বনির্ভরতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকজন নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। খুব একটা সচ্ছল পরিবার থেকে আসেননি রিপা। সেজন্য পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছেটা ছিল সবসময়। সেই তাগিদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ব্লক বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্টিং, পোশাক তৈরি, ফুড ও ফুড প্রসেসিং, ব্যাগ তৈরি ইত্যাদি কারিগরি ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নেন। তারপর পরিবার ও নিজের হাত খরচের জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। পরিশ্রমী রিপার সাফল্য আসে গল্পের মতো করেই। আস্তে আস্তে গ্রাহকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন তিনি। ধীরে ধীরে বাড়ে ব্যবসার পরিসর। ব্যবসার ব্যস্ততায় রিপা তার প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মী নিয়োগ করেন। তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাজ করছেন ৫/৬ জন নারী। তাদের নিজ হাতে শিখিয়ে পড়িয়ে নিয়েছেন রিপা। বার্থডে কেক, বিস্কুট, ক্রিমরোল, স্যান্ডউইচ, আচার ইত্যাদি তৈরি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও দোকানে বিক্রি করেন তারা। এ ছাড়া থ্রি পিস, শাড়ি, বেডশিট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাল, ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করেও বিক্রি করেন। তাদের পণ্য বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি এভাবে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি নিজের ও পরিবারের স্বনির্ভরতা আনয়ন করে সমাজের অন্যান্য বেকার তরুণ-তরুণীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।


নজরুল ইসলাম জনি

সুবিধাবঞ্চিতদের আত্মনির্ভরশীল

করার প্রয়াস

পঞ্চগড়ের ছেলে। কাজ করছেন অনুন্নত মানুষদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিয়ে। ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন আশার আলো সমাজ কল্যাণ সংস্থায়। মূলত এই সংস্থার মাধ্যমেই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করছেন তিনি। ২০০৭ সাল থেকে বয়স্ক ও শিশুদের সাক্ষরতাসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করার পাশাপাশি সকল সহযোগিতা করে থাকেন তাদের। যেমন কারিগরি শিক্ষা, মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ, বুটিকের কাজ, কৃষকদের কৃষি সংশ্লিষ্ট উপকরণ বিনামূল্যে প্রদানসহ তাদের কারিগরি শিক্ষা প্রদান। এই সংস্থায় নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য কাউন্সিলিং দেওয়া হয়। এসবের পাশাপাশি বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পও করানো হয়। একবার গ্রামে বাচ্চার অসুখের সময় ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে ভুলক্রমে কীটনাশক খাওয়ালে মৃত্যু হয় বাচ্চাটির। এই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ শিক্ষার অভাব। ওষুধের নাম পড়তে না জানাই এ ভয়াবহ অবস্থার কারণ। এই ঘটনা দেখেই জনি সিদ্ধান্ত নেন যতটা পারবেন শিক্ষার আলো পৌঁছে দিবেন সবার কাছে। এভাবেই কাজ শুরু জনির। বর্তমানে মোট ৭টি স্কুল আছে তাদের; সেখানে রয়েছে তিনটি শিফট। প্রতিটি শিফটে আছে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী। জনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটের উদ্যোগে ল্যাব পাওয়ার পরে আমরা মোট ৬৭ জনকে ফ্রি কম্পউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছি বিনামূল্যে ৩ মাস, ৬ মাস ও ১ বছর মেয়াদি। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন