বন্ধুত্বের রকমফের
মেহেদী হাসান গালিব০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
বন্ধুত্বের রকমফের
বন্ধুত্ব’ শব্দটার সঙ্গে আমাদের সবার পরিচয় ঘটে স্কুলজীবনে। পিঠে ছোট্ট ব্যাগ ঝুলিয়ে বাবার হাত ধরে প্রথমদিন স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই আমাদের নিজেদের জগতে প্রবেশ করে বন্ধুরা। টিফিন ভাগাভাগি করে খাওয়া, স্কুল মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটোছুটি করা, যেকোনো বিপদে-আপদে কাঁধে আরেকটি সহমর্মী হাত অনুভব করার সম্পর্কটাই হলো বন্ধুত্ব। তবে সম্পর্কটা কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা ও ধরনে বেশ পরিবর্তন চলে আসে। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা যখন কলেজজীবনে পদার্পণ করি, তখন আমাদের সবার জীবনেই বন্ধুত্বের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও দিগ্বিদিক ছুটে চলার তাড়না বন্ধুত্বে যোগ করে নতুন মাত্রা। নরম সবুজ ঘাসে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা যেকোনো তরুণের জন্য জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এছাড়া এসময় বন্ধুত্বের সংজ্ঞায় যোগ হয় আরেকটি নতুন শব্দ ‘নির্ভরতা’। তাই তো যেকোনো দুঃসময়ে আমাদের সবার প্রথম যার কথা মনে পড়ে, সে হলো বন্ধু। বন্ধুদের আন্তরিকতা ও সান্নিধ্য আমাদের যেকোনো দুঃসময়ে সাহস জোগায় এবং পথচলায় মানসিকভাবে সাহায্য করে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আমাদের সবার জীবনেই নতুন নতুন বন্ধু জোটে।

উচ্চশিক্ষার জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকার কারণে বন্ধুরাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আপনজন। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটতে থাকে বন্ধুদের সঙ্গে। এসময় পরস্পরের মধ্যে যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা জন্ম নেয়, তা বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। বিপদ-আপদের পাশাপাশি কোনো প্রয়োজন কিংবা উদ্যোগে বন্ধুরাই অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগায়। তাই তো কবি বলেছেন, ‘যদি থাকে বন্ধুর মন, গাঙ পাড় হইতে কতক্ষণ?’ বন্ধুরা পাশে থাকলে যেকোনো অজেয় যে জয় করা সম্ভব, তা-ই কবির কবিতায় ফুটে উঠেছে। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আমাদের বিশেষভাবে পুলকিত করে! বন্ধু হলো নির্ভরতার প্রতীক, ভরসার চূড়ান্ত ক্ষেত্র। শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরিস্থল ভিন্ন হয়ে গেলে অনেক সময় বন্ধুত্বের সম্পর্কে মরিচা পড়তে দেখা যায়। কিন্তু বন্ধুর প্রতি যে টান, তা কখনোই ফুরিয়ে যায় না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন