দেশ বিদেশ অনলাইন সবখানেই তিনি
শাহনেওয়াজ খান সিজু০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
দেশ বিদেশ অনলাইন সবখানেই তিনি
পরিবার যার দেশের সবচেয়ে বড় রাজনীতির শিক্ষালয়, তিনি যে সেই মন্ত্রে দীক্ষিত হবেন এটা আশা করাই যায়। তবে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে গিয়েও যে রাজনীতিকে আপন করে ওড়াবেন বিজয়ের পতাকা সেটা খুব কম মানুষই বুঝেছিল। এই চেঞ্জমেকার আর কেউ নন—তিনি টিউলিপ সিদ্দিকী।

ব্রিটেনের ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নের নির্বাচনে জয়লাভ করেন টিউলিপ। ২৩,৯৭৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচনে নিজের জয় নিশ্চিত করেন টিউলিপ। টিউলিপ সিদ্দিকীকে বর্তমান বিশ্বে অন্যতম একজন প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি একইসঙ্গে বাস্তব এবং ভার্চুয়াল উভয় জগতেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তার সরব উপস্থিতিই এর প্রমাণ। ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং অফিসিয়ালি ভেরিফাইড পেজ দুটোই আছে। এগুলোর সাহায্যে তিনি বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে সকল শ্রেণির মানুষকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

তার নানারকম কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিউজ লিংক, ভিডিও রিপোর্ট, সাক্ষাত্কারগুলো শেয়ার করা ছাড়াও নিয়মিতভাবে নিজের সমর্থকদের খোঁজখবর রাখেন তিনি। তার ফেসবুক পেজে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ মানুষ লাইক দিয়ে রেখেছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই তার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণ এবং বাংলাদেশি সমর্থক। তিনি তার ফেসবুক পেজের প্রায় সকল পোস্টে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করেন যার দ্বারা ব্রিটিশ নাগরিকেরা তার কথাগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বোঝে এবং পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্সেও সে সম্পর্কে নিজেদের মতামত প্রদান করতে পারে।

গত ২৩ জুন তিনি তার ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন, যাতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হওয়ার বিষয়ে ১৬-১৭ বছর বয়সীদেরও ভোট দিতে দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। কেননা সামনের পৃথিবী তারাই চালাবে। তার কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক বিতর্ক শিক্ষা সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার সঞ্চালনকারীর দায়িত্বে থাকায় সেখানে উপস্থিত প্রায় ২০০ জন তরুণের ভিন্নধর্মী চিন্তাধারা নিয়ে তিনি ওই পোস্টে ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া গত ১৩ এপ্রিল তিনি তার স্বামীর সঙ্গে নিজেদের প্রথম কন্যাসন্তান ‘আযালিয়া জয় পার্সি’-এর জন্মের পরবর্তী একটি ছবি আপলোড করে সবার কাছ থেকে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। গত ২২ মার্চ বেলজিয়ামে সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ করে তিনি সেই দেশের পতাকার ছবি সম্বলিত স্ট্যাটাস পোস্ট করেন, যেখানে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে বেলজিয়ামের পাশে থাকবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি লন্ডন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ‘সাদিক খান’-এর নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে তার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজের সমর্থকদেরকে ‘সাদিক খান’-কে ভোট দিতে আহ্বান জানান। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের লেবার পার্টিতে যোগ দেন টিউলিপ। শেখ রেহানা কন্যার রাজনীতির পথে হাঁটা তখন থেকেই শুরু। লন্ডনে জন্মগ্রহণ করলেও টিউলিপের ছোটবেলাটা কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও স্পেনে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং কিংস কলেজ লন্ডন থেকে নিজের পড়াশোনার পাট শেষ করেন টিউলিপ।

২০০৬ সালের ইংল্যান্ডের উপ-নির্বাচনেও অংশ নেন টিউলিপ। কিন্তু সেইবার জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। এরপর ২০১০ সালে কামডেন নির্বাচনে টিউলিপ প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেখানে তিনি ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত কালচার ও কমিউনিটির কেবিনেট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর একবার আন্তর্জাতিক প্রচারণাতেও অংশ নেন তিনি। ২০০৮ সালে তিনি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্যও প্রচারণা করেন। ২০১৫ সালের জুনে টিউলিপ সিদ্দিকী অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অ্যাগেইনিস্ট অ্যান্টিমিটিজমের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরে গিয়ে কালচার, মিডিয়া ও স্পোর্টসের শ্যাডো মিনিস্টারের স্থায়ী প্রাইভেট সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। এরপর এই বছরের নভেম্বরে পার্লামেন্টে টিউলিপের বক্তব্য বিবিসির সেরা সাত সংসদ সদস্যের বক্তব্যের একটি হয়। ২০১৩ সালে ১০০ শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণাদায়ক বাংলাদেশি ব্রিটিশের একজন হন তিনি। এছাড়া সানডে টাইমস তাকে লেবার পার্টির ‘উঠতি তারকা’ হিসেবেও অভিহিত করেছে। আশা করা যায়, আগামী দিনে তিনি আরও পরিণত একজন রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার মাধ্যমে নিজের দেশসহ সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জল করবেন। তার এরূপ সাফল্যে অন্যান্য প্রবাসী বাঙালিরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন