পরিবেশবান্ধব পেপার কাপ নিয়ে সাজিদ
সাজেদুল ইসলাম শুভ্র০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
পরিবেশবান্ধব পেপার কাপ নিয়ে সাজিদ
সময়টা ২০১০ সাল। কাজী সাজিদ মাকে নিয়ে পবিত্র হজে যান। একদিন একটি মসজিদের প্রথম সারিতে বসে ইফতার পেয়েছিলেন। ইফতারের আইটেমগুলোর মধ্যে ছিল বড় এক কাপ খেজুর। তখনই কাগজের কাপের ব্যবসার পরিকল্পনাটা মাথায় আসে। এরপর দেশে ফিরেই এ সম্পর্কে বিশদ জানতে আর প্রশিক্ষণ নিতে মালয়েশিয়া চলে যান। তারপরের গল্পটা শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার, অনেক শ্রম আর একনিষ্ঠতার জোরে তিনি বাংলাদেশে পেপার কাপকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন ধীরে ধীরে। কাজী সাজিদুর রহমান রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় গড়ে তুলেছেন কেপিসি ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি কোম্পানি। কাগজের কাপ ও প্লেট উত্পাদন করে তার এই কোম্পানি। পরিবেশবান্ধব শিল্পে অবদান রাখার স্বীকৃত স্বরূপ কাজী সাজিদুর রহমান ২০১৬ সালের বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছেন। শুরুর গল্প বলছিলেন কাজী সাজিদ, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার কাছে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মতো ছিল। মূলধন স্বল্পতা দূর করতে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বললেন। তারা অর্থায়ন করে। তবে তার পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অল্প। মূলধন ছিল ৩৩ লাখ আর ব্যাংক দিল ৪০ লাখ। তিনটি মেশিন দিয়ে পেপার কাপ ও প্লেট তৈরি করেন এখন তিনি। মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় চার কোটি টাকার ওপরে। তার প্রতিষ্ঠান থেকে এখন প্রতিদিন স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি হচ্ছে প্রায় তিন লাখ পিস কাগজের কাপ ও প্লেট। শুরুতেই পেপসি, ইস্পাহানি, ঈগলু এবং বিএফসির মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের অর্ডার পেতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন দামি দামি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে সাজিদ তার পণ্য ব্যবহারে উত্সাহী করলেন? তিনি জানালেন, বিশ্বের সকল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিই অনেক কিছু বিবেচনা করে বিজনেস পার্টনার নির্ধারণ করে। আমাদের এখানে কর্মপরিবেশ ও পণ্যের গুণগত মানে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির প্রতিনিধিরা অভিভূত হন। তাদের আস্থা ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমার টিমের সদস্যরা। কারখানায় উত্পাদিত পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখার জন্য কারখানায় নিযুক্ত আছে সুশিক্ষিত ও সুপ্রশিক্ষিত কর্মচারী ও শ্রমিক। আছে নিজস্ব ল্যাবরেটরি। এসব কারণে গুণগত মান সবসময় নিশ্চিত হচ্ছে। তিনি জানান, তার কারখানাতে এইচএসিসিপি বা হেসাপ (হ্যাজারড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্টস) প্র্যাকটিস করা হয়। এছাড়া নিজস্ব ল্যাব রয়েছে। এখানে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা করা হয়। কাগজের গায়ে তারা যে আস্তরণ বা প্রলেপটা ব্যবহার করছেন, তা ১০০ ভাগ পরিবেশবান্ধব। কাগজের ওপর পলিইথিলিন নামক পদার্থের একটি প্রলেপ বা আস্তরণ রয়েছে এটি শতভাগ পচনশীল পদার্থ। এটি মাটির সংস্পর্শে যাওয়ার ২১ দিনের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। কাজী সাজিদ জানালেন, বিশ্ববাজারে কাগজের তৈরি এই শিল্পের একটি বড় বাজার রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও এসব ওয়ানটাইম পণ্যের প্রচলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা ব্যবহারের ফলে সময় বাঁচে। পরিবেশবান্ধব আবার স্বাস্থ্যসম্মতও। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তিদের অনেকেই কাগজের কাপ ও প্লেট ব্যবহার করছেন। আগামীতে সব শ্রেণির মানুষ এই পণ্য ব্যবহার করবেন। এসব কারণে এই পণ্য একদিন দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প হিসেবে পরিগণিত হবে। তবে এই ব্যবসায় সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সাজিদ জানান, ভারত, আমেরিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এই ব্যবসা বেশ জনপ্রিয়। অবশ্য ওই সব দেশে এই পণ্যের কাঁচামাল আনতে কোনো ডিউটি (শুল্ক) দিতে হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে কাঁচামাল আমদানি করতে মোট ৬১ শতাংশ ডিউটি দিতে হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেশের স্বার্থে এসব পেপার কাপ ও প্লেট তৈরির কাঁচামাল ডিউটি ফ্রি করা উচিত। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পেপার কাপ ও প্লেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘কেপিসি’ ব্র্যান্ডের গ্রাহক সংখ্যা ১৫০টিরও বেশি করপোরেট হাউস। কেপিসির উল্লেখযোগ্য ক্রেতা হলো নেসলে, পেপসি, ইউনিলিভার, ডানো, অ্যাপোলো হাসপাতাল, রেডকাউ, শেভরন, আজিনোমতো, প্রাণ, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, সোনারগাঁও হোটেল, ওয়েস্টিন হোটেল, আকিজ গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, ইস্পাহানি, ইগলু প্রভৃতি। ২৬ জন দক্ষ কর্মী নিয়ে গড়া কেপিসির পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন