সকল বাধা পেরিয়ে...
সকল বাধা পেরিয়ে...
জীবনে নানা বাধা, ঘাত-প্রতিঘাত পেরুতে হয় সব মানুষকেই। কেউ অল্পতে হাল ছেড়ে দেন, থেমে যান। কেউ থামেন না। কোনো বাধাই তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারে না। মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায়, হার না মানার দৃঢ় সংকল্প আর আত্মবিশ্বাস তাদেরকে নিয়ে যায় সফলতার পথে। সব বাধা পেরিয়ে যারা সফল হন, তারাই অদম্য মেধাবী। আর এই সফলতার গল্পগুলো মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, হয়ে ওঠে অনেকের অনুপ্রেরণা। পৃথিবীর সব সফল মানুষরাই জীবনে একসময় দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। এমনকি, আমাদের চারপাশেও ছড়িয়ে আছে এমন অদম্য মেধাবীরা, যাদের বেড়ে ওঠার গল্প অনেক সংগ্রামের।

সম্প্রতি ৩৫তম বিসিএস-এর প্রকাশিত ফলাফল থেকে আমরা জানি মনিরুজ্জামানের কথা, যিনি পুলিশ কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন। তার বাবা একজন রিকশাচালক। রাজশাহীর এক পানদোকানীর অভাবী ঘরে বড় হয়েছেন ৩৩তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করা আসমা আক্তার। অভাব-অনটনেই বেড়ে ওঠা তার। আমরা জেনেছি, বিসিএস দিয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষক হওয়া শফিকুলের গল্প, কুড়িগ্রামের যে ছেলেটি পড়ালেখার খরচ যোগাতে একসময় ট্রাকের হেল্পার ছিলেন! 

কিছুদিন আগে প্রকাশ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও আমরা অনেক অদম্য মেধাবীর সন্ধান পেয়েছি। অভাব নয় শুধু, কখনো তাদেরকে আশপাশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের গঞ্জনাও সইতে হয়েছে। পরিবারকে শুনতে হয়েছে কটু কথা। এদের একজন জয়পুরহাটের বিউটি আক্তার, যার দুটো হাতই নেই, পা দিয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখে পেয়েছে জিপিএ-৫। ছোটবেলা থেকে পৃথিবীর আলো দেখতে না কুমিল্লার তফসিরুল্লাহ মেধার আলো দিয়ে চমক দেখাল। জন্মান্ধ ছেলেটি পেয়েছে জিপিএ-৫, যেখানে মানবিক বিভাগে পুরো বোর্ডে ছেলেদের জিপিএ-৫ মাত্র দুটি! নীলফামারির লাবণ্য থাকে একটা বস্তিতে, মায়ের সঙ্গে করে সেলাইয়ের কাজ। এসএসসি পরীক্ষায় লাবণ্য সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে, সেও পেয়েছে জিপিএ-৫। ময়মনসিংহের তুহিন ইটভাটায় কাজ করে পড়াশোনা করেও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। নড়াইলের আশার বাবা নেই, মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বড্ড অভাবে তাদের দিন কাটে। সেই আশার জিপিএ-৫ আমাদের মনে আশা জাগায়, অনুপ্রেরণা জোগায়।

এত অভাব, সমাজের নানা অনাচার, কিন্তু মনের জোরের কাছে সব বাধাই পরাজিত।

শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়েও বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া কিছু মানুষের গল্প আমরা জানি। যেমন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন প্রথম জীবনে ছিলেন কাঠুরিয়া। অসামান্য মেধা ও কর্তব্যপরায়ণতা দিয়ে তিনি একসময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন। চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং ছিলেন গরিব মুদি দোকানির ছেলে। সীমাহীন দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন, পড়াশোনার গণ্ডিও স্কুল পর্যন্তই। কিন্তু রাজনীতি, সমাজদর্শনে তার অগাধ জ্ঞান ও অধ্যবসায় তাকে খ্যাতির শিখরে নিয়ে গেছে।

ফুটবলের তিন কিংবদন্তি খেলোয়াড় পেলে, ম্যারাডোনা, রোনাল্ডো—তিনজনই ছিলেন বস্তির ছেলে। ছেঁড়া জামা-কাপড় পরে কেটেছে ছোটবেলা। শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার জয়সুরিয়ার বাবা ছিলেন একজন জেলে। স্বাধীন নামিবিয়ার প্রেসিডেন্ট শ্যাম নাজোমা একসময় ছিলেন সামান্য নাপিত। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর শৈশবে দরিদ্র ছিলেন। অংকে কাঁচা হওয়ার যুক্তিতে বাসের কন্ডাক্টরের চাকরিও হয়নি। পরে তিনি অর্থমন্ত্রী হন, একপর্যায়ে হন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের সেরা সাহিত্যিকদের অন্যতম ম্যাক্সিম গোর্কি কামারশালা ও জুতার দোকানের কর্মী ছিলেন। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি একসময় চা-বিক্রেতা ছিলেন।

যদি মেলাই, তবে বিশ্বাস করতে হয় যে, আমাদের চারপাশে বেড়ে ওঠা মনির, আসমা, শফিকুল, বিউটি, তফসির, আশা, তুহিন, লাবণ্য—তারাও তো নিশ্চয়ই একদিন সমাজ ও দেশের নায়ক হবেন। সব বাধা পেরিয়ে আমাদের এই অদম্য মেধাবীরা নেতৃত্ব দেবে আগামীর বিশ্বকে, বাংলাদেশকে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৬
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:১৬সূর্যাস্ত - ০৬:৩১
পড়ুন