অভাবে আশা জাগানিয়া জিপিএ-৫
১৫ মে, ২০১৭ ইং
অভাবে আশা জাগানিয়া জিপিএ-৫
আশার যখন তিন বছর বয়স, তখন তার বাবা মাকে ফেলে চলে যান। আশা জানেন না তার বাবা এখন জীবিত নাকি মৃত। স্বামী পরিত্যক্তা মায়ের অভাবের সংসার, বাপের ভিটে না থাকায় আশ্রয় মামার বাড়িতে। মামাও ধনী নন, অভাব নিত্যসঙ্গী। কিন্তু শত অভাবেও আশা জাগিয়েছেন আশার আলো। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।

নড়াইলের চাঁচড়া গ্রামে আশাদের ঠিকানা। নড়াইলের তুলারামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা স্কুল থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেন আশা। সবচেয়ে আশা জাগানিয়া খবর হলো, এ বছর সেই বিদ্যালয় থেকে একমাত্র আশাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

আশা জানান, প্রতিদিন নিয়মিত দু-তিন ঘণ্টা পড়ালেখা করতেন। পড়ার ফাঁকে নবম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে টিউশনি করাতেন, তবে বিনিময়ে প্রতিমাসে পেতেন মাত্র ৮০০ টাকা। এ টাকা দিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন তিনি। শিক্ষকরা সাহায্য করেছেন, মূল বইয়ের পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে সহায়ক বই, খাতা-কলম ও স্কুলড্রেস পেয়েছেন আশা। পদার্থ ও রসায়ন ছাড়া কখনো প্রাইভেট পড়ার সৌভাগ্য হয়নি তার। তবে গোল্ডেন জিপিএ-৫ না পাওয়ায় অনেক দুঃখ তার। ইংরেজি বিষয়ে ‘এ’ গ্রেড আসায় সে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদনও করেছেন। এর আগে আশা জেএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। আশা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

আশার মা জোবেদা বেগম জানান, তার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর মানসিক যন্ত্রণা ও নির্যাতনের কারণে বাবার বাড়ি নড়াইলের চাঁচড়া গ্রামে চলে আসেন তিনি। কিন্তু ভিটেমাটি না থাকায় নামতে হয় জীবনযুদ্ধে। সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার জোটাতে অনেক বেগ পেতে হয় আশার মাকে, তবুও সন্তানদের পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করতে চান তিনি। বড়মেয়েকে বিয়ে দিলেও পড়ালেখা থেমে থাকেনি। এক ছেলেও পড়ছে মাদ্রাসায়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলি খাতুন বলেন, ‘আশা খুব কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে আশা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।’ এমন অদম্য মেধাবীকে সহযোগিতা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৬
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:১৬সূর্যাস্ত - ০৬:৩১
পড়ুন