চোখে আলো নেই তবুও জিপিএ-৫
১৫ মে, ২০১৭ ইং
চোখে আলো নেই তবুও জিপিএ-৫
মো. তফসিরুল্লাহ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চোখে আলো নেই। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। চোখে আলো না থাকলেও, নিজের মেধার আলো দিয়ে তফসিরুল্লাহ অন্য সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে মেয়ে ২৮ জন আর ছেলে ২ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া দুইজন ছেলের মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তফসিরুল্লাহ। জন্ম থেকে অন্ধ তফসিরুল্লাহ কসবার চান্দুখলা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের ছোট ছেলে। মা বকুল বেগম গৃহিণী।

তফসিরুল্লাহ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এ সাফল্য অর্জন করেছেন। তার বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র মো. আমজাদ হোসেন। তিনিও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

আমজাদ হোসেন জানান, দারুণ মেধাবী হলেও ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার প্রতি অনীহা ছিল তফসিরুল্লাহর। সারাদিন পড়ে থাকতেন পড়ার বাইরের অন্যান্য বিষয় নিয়ে। অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয় তিনি। কিন্তু এরপর নবম-দশম শ্রেণিতে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় তার। অসংখ্য বাধা-বিপত্তিকে পিছনে ফেলে এসএসসি পরীক্ষায় আসে তার এই সাফল্য। বোর্ডে মানবিক বিভাগের হাতে গোনা কয়েকটি জিপিএ-৫-এর মধ্যে আছে তফসিরুল্লাহর নাম।

জানা যায়, জন্মের পর থেকেই তফসিরুল্লাহ পৃথিবীর আলো থেকে বঞ্চিত। বাবা খেটে খাওয়া মানুষ, দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে একসময় গ্রামের কুসংকারাচ্ছন্ন মানুষের কটুকথা শুনতে হয়েছে। পরে বাবা তাদের শহরে পাঠান। এনজিও সংস্থা এবিসির কুমিল্লার হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যান তফসিরুল্লাহর। সেখানে বিশেষ সুবিধা ছিল।

পড়াশোনা করে ভবিষ্যতেও ভালো ফল করে নিজের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করাই তফসিরুল্লাহর লক্ষ্য।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৬
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:১৬সূর্যাস্ত - ০৬:৩১
পড়ুন