সেলাইয়ের কাজ করে জিপিএ-৫
১৫ মে, ২০১৭ ইং
সেলাইয়ের কাজ করে জিপিএ-৫
নীলফামারী শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাঙাচোরা একটি টিনের ছাপড়া ঘরে থাকেন লাবণ্যরা। চার সদস্যের পরিবার তাদের। একটি বেসরকারি কোম্পানির পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেন তার বাবা। আর মা করেন সেলাইয়ের কাজ। লাবণ্যও মায়ের সঙ্গে সেলাইয়ের কাজ করেন। যে পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে শত সংগ্রাম করেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন লাবণ্য।

পুরো নাম লিমানা খন্দকার লাবণ্য। দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। গরিব ঘরের সন্তান লাবণ্যের লেখাপড়া নিয়ে প্রতিনিয়তই ঘিরে ছিল নানা অনিশ্চয়তা, যা এখনো রয়েছে। কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখেন আইনজীবী হওয়ার। কিন্তু বাবা-মা এই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন কি না জানেন না তিনি। মেধা ও ইচ্ছার জোরে কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন তিনি। মায়ের সঙ্গে সেলাইয়ের কাজ করে লেখাপড়ার খরচ চালান তিনি। তার আরেক ছোট বোন লুবনা পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে। সেও মেধাবী।

লাবণ্য জানান, বাবার চাকরি আর মায়ের সেলাইয়ের কাজে যা রোজগার, তা দিয়ে তিন বেলা খাবার জুটলেও লেখাপড়ার ব্যয় বহন করা খুবই কঠিন তাদের জন্য। বড় হয়ে আইনজীবী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে চাওয়া মেয়েটি জানাল, কেউ তাকে সাহায্যে করতে পাশে দাঁড়ালে পড়াশোনা করতে সুবিধা হতো তার।

লাবণ্যর বাবা লোটন খন্দকার বলেন, ‘মেয়ের সাফল্য দেখে এলাকাবাসী ও শিক্ষকেরা অনেক খুশি হয়েছেন। সবার দোয়া থাকলে আমার মেয়েটি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।’

লাবণ্যের স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাহের বানু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি মেধাবী। পিএসসিতে সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সবার দোয়া ও সহযোগিতা পেলে একদিন নিশ্চয়ই সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৬
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:১৬সূর্যাস্ত - ০৬:৩১
পড়ুন