যেমন চাই ভবিষ্যত্ শিক্ষাব্যবস্থা
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
যেমন চাই ভবিষ্যত্ শিক্ষাব্যবস্থা
এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রযুক্তির এই উত্কর্ষকে সুযোগে পরিণত করার প্রধানতম হাতিয়ার হলো শিক্ষা। প্রয়োজন শিক্ষার আমূল পরিবর্তন। আমরা কি প্রস্তুত? কেমন হবে আমাদের ভবিষ্যত্ শিক্ষা? কোন দক্ষতায় বলিষ্ঠ হয়ে উঠবে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম? এসব বিষয়ে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, লেখক, গবেষক ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর ভবিষ্যত্ শিক্ষা ভাবনা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের ‘প্রজন্ম’। সমন্বয় করেছেন চন্দন বর্ম্মণ, সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও গ্রন্থনা করেছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার, মোস্তফা রনি (চবি প্রতিনিধি ) ও আহসান জুবায়ের (জবি প্রতিনিধি)

‘মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে’ 

—যতীন সরকার

শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক 

 

আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত বিশ্বে প্রবেশ করব—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। উন্নত বিশ্বে প্রবেশ করতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত কি না, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো—আমরা কী চাই। অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ তথা শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করছেন, যারা শিক্ষার কর্তৃত্বে আছেন, তারা কী ভাবছেন। আমি ‘এ প্লাস টে প্লাস’ এগুলো বুঝি না। আমি চাই শিক্ষার্থীরা যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আমি আশাবাদী এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই, আমরা উন্নত দেশ হবোই। তবে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় আমি নৈরাশ্যে চাপা পড়ে যাই। এ ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণে একত্রে কাজ করতে হবে। বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ; যারা শিক্ষার দায়িত্বে আছেন, তাদের সবাই মিলে সময়কে বিবেচনায় নিয়ে সময়ের চাহিদাকে সম্মান দেখিয়ে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। তবে আমি আবারও বলতে চাই, আমাদের প্রজন্মকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। ‘প্রকৃত শিক্ষা’ বলতে আমি বুঝাচ্ছি, প্রতিটি মানুষের অন্তরেই তা লুক্কায়িত থাকে। তাকে জাগাতে হবে, বিকাশ ঘটাতে হবে। মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। নইলে উদ্ভাবনী শক্তি বা সৃজনীশক্তি জাগ্রত হবে না। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর বিকাশ ঘটাতে হবে।

‘শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত হলেই চলবে না। পৃথিবীটা চিনতে হবে, চিনতে হবে নিজের সমাজকে’

—ড. মনজুর আহমদ

প্রফেসর এমেরিটাস

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

 

ভবিষ্যত্ শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে আমরা আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ঠিক কোনদিকে নিয়ে যাচ্ছি তার ওপর। বর্তমান সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার ঘটলেও মানটা এখনো বেশ অসন্তোষজনক পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আমাদের আশানুরূপ ফল পাচ্ছি না। আশানুরূপ ফল পেতে হলে আমাদের শুধু শিক্ষার প্রসার ঘটালেই চলবে না, বরং শিক্ষার মানেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। আবার সমাজের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে যে একটা শ্রেণি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলেও আরেকটা শ্রেণি বঞ্চিত হচ্ছে এই সুযোগ থেকে। এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকেও একই কাতারে এনে সমানভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে অগ্রগামী করতে হবে। তা নাহলে শিক্ষা শুধু সমাজের একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছেই পুঞ্জীভূত হতে শুরু করবে। শিক্ষার এই খণ্ডিত আয়োজন দূরীভূত না হলে কখনোই আমরা ভবিষ্যত্ শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা চিন্তা করতে পারব না।

শিক্ষাব্যবস্থাকে দুটো মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের অধীনে রাখার ফলে তাদের মাঝে সমন্বয়হীনতার যে ক্ষেত্রগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করাটাও আমাদের জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন চোখে পড়লেও মাধ্যমিক ব্যবস্থায় আরও বেশ কিছু উন্নয়নের প্রয়োজন। সুদূরপ্রসারী চিন্তা করে দুটো মন্ত্রণালয়কে এক করতে হবে কিংবা এদের কাজের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করতে হবে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত হলেই চলবে না। তাদের পৃথিবীটা চিনতে হবে, চিনতে হবে নিজের সমাজকে। চিন্তাভাবনার প্রসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতে হবে বিজ্ঞানমনস্ক। অন্যদের কাছে নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারাটাও এক্ষেত্রে শিক্ষার অনেক বড় একটি উপাদান। শিক্ষার পাট চুকিয়ে বহির্বিশ্বে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাটাও অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিকতাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজকাল অনেকেই শিক্ষকতাকে বেছে নেন সর্বশেষ পেশা হিসেবে। যেন অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা যুক্ত হতে হচ্ছে এই পেশায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তৈরি করতে হবে ন্যাশনাল টিচিং সার্ভিস ক্যাডার।

পরিকল্পনাগুলো হতে হবে সুদূরপ্রসারী ও যুক্তিসঙ্গত। এতে ধীরে হলেও বেশ সুদৃঢ়ভাবে পরিবর্তন আসবে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এবং আমাদের ভবিষ্যত্ শিক্ষাব্যবস্থা হবে অনেক বেশি সমৃদ্ধ।

‘গবেষণাধর্মী ও ব্যবহারিক শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থান করে দিতে হবে’

 

—মো. আবুল কালাম আজাদ

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

বর্তমানে যে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, সেটাকে বন্ধ করে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এলে হয়তো ভবিষত্ শিক্ষাব্যবস্থাটা কিছুটা উন্নত হতো। যেমন ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মিডিয়াম ও বিভিন্ন কোচিং রয়েছে। এগুলো বন্ধ করে শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তবে অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো বাস্তব জীবনে ও ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োজন নেই। এসব বিষয় বাদ দিয়ে যেটা আমাদের জীবনে দরকার, সেই বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে।

মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বর্তমানে সৃজনশীল করা হয়েছে, কিন্তু সেই ব্যবস্থা কোনোভাবেই ঠিক নয়। এই ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা এখন বই পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা আটকে আছে কিছু নোট বা সিটের মধ্যে। এসব শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করে গবেষণাধর্মী ও ব্যবহারিক শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থান করে দিতে হবে। এসব শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা যায় না। এসব মুখস্থ বিদ্যা পরিবর্তন করে ও অ্যাকাডেমিক রেজাল্টকে খুব বড় না করে দেখে শিক্ষার্থীর অ্যানালেটিক্যাল স্কিল কেমন আছে, ব্যবহারিক কাজ কেমন পারে, বাস্তব পর্যবেক্ষণ কেমন—সেই বিষয়গুলো দিয়ে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাহলে কর্মক্ষেত্রে দক্ষ লোক পাওয়া যাবে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত। তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। মনস্তাত্ত্বিকভাবেও তারা তৈরি। আমরা যারা কর্তৃত্বে বা দায়িত্বে আছি, তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী স্থান করে দিতে পারছি না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারছি না। যেখানে তারা আনন্দের সহিত পড়বে ও শিখবে। এটা আমাদের এক প্রকার ব্যর্থতাই বলা যায়।  শিক্ষকদের গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে হবে, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও উপকরণ ব্যবহারে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পড়ালেখার দিকে নজর দিলে হবে না, তাদের অন্যান্য কার্যকলাপে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের সৃজনশীল ভাবনাচিন্তা বাড়াতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে।

‘শিক্ষার্থীদের মাঝে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্রমাগত বৃদ্ধি করতে হবে’

—প্রফেসর ফারুক আহমেদ

ই-লার্নিং স্পেশালিস্ট, এটুআই

 

বাংলাদেশের শিক্ষার পরিবর্তনের জন্য যা মাথায় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে তা হলো, রুটিন জ্ঞানভিত্তিক কাজ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ভবিষ্যত্ অর্থনীতি নির্ভরশীল হবে নন-রুটিন সৃজনশীল কাজের ওপর। তাই একজন কী জানে সেজন্য সে নিয়োগ পাবে না, বরং তার জ্ঞান দিয়ে কী করতে সমর্থ, সেজন্য নিয়োগ দেয়া হবে। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় জ্ঞান বিনিময় বা স্থানান্তরের খুব একটা সুযোগ থাকা উচিত নয়। বরং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পরিণত করা প্রয়োজন।

চতুর্থ শিল্পবিল্পবের বর্তমান অবস্থায় এখনই আমাদের শিক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা যদি চিন্তা করি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তি বা শিখন উপকরণ প্রসার আগে ঘটুক বা বিদ্যালয়গুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক পরে তা নিয়ে ভাবা যাবে, তাহলে আমরা খুবই ভুল করব। কারণ উন্নত বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা এরমধ্যেই ভোগ করা শুরু করেছ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে কর্মসংস্থান কমেনি বরং বেড়েছে। সুতরাং বিদ্যালয়গুলো যে অবকাঠামোগত অবস্থা রয়েছে, তা নিয়েই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া উচিত। এখনই কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়েই এ আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখব। এ মুহূর্তে পরীক্ষা পদ্ধতির কিছুটা পরিবর্তন করে তা শুরু করা যায়। যা করা প্রয়োজন তা হলো—১. সমস্যাভিত্তিক শিখন (Problem-based Leaing) :প্রাথমিক স্তর থেকেই সমস্যা সমাধান ও দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সমস্যা সমাধান দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা শ্রেণি উপযোগী ক্রমবর্ধমান উপায়ে দিতে হবে। এ পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অর্ধেক নম্বর সমস্যা সম্বলিত প্রশ্ন দিতে হবে। এমন কি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন সমস্যা সমাধান সম্বলিত প্রশ্ন দিতে হবে। বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একটি প্রশ্নের একটি সঠিক উত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সমস্যা সমাধান প্রশ্নের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্নের একাধিক উত্তর হতে পারে। সমাধান প্রক্রিয়ার ওপর নম্বর বণ্টন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে সমস্যা সমাধান পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। ২. নিবিষ্ট করা (Immersion) :শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় নিয়ে নিবিষ্ট থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণিপাঠে কোনো একটি কেইস বা ঘটনার সমস্যা চিহ্নিত করে এর সমাধান প্রক্রিয়া অনুশীলন করাতে হবে। চিহ্নিত সমস্যার সঠিক সমাধান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ চর্চা করাতে হবে। ৩. অনুকরণ করা (Simulation) :পরীক্ষণ ও অনুশীলন করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ করা। কারণ সমস্যা সমাধানে অনুশীলন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে, সফলতা বা ব্যর্থতা দুটিই আসতে পারে। ব্যর্থতা এলে আবার নতুনভাবে চেষ্টা করতে হবে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সমস্যা সমাধান দক্ষতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

‘লেখাপড়ায় ব্যর্থতা বলে কোনো শব্দ থাকবে না’

—ড. মিল্টন বিশ্বাস

অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা অবশ্যই পাল্টে যাবে। এখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে বহু ধারার শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলিত আছে, তা হবে একমুখী এবং শিক্ষা অর্জনের ভাষা হবে মাতৃভাষা। তা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাতেও হতে হবে। তবে গুরুত্ব দিতে হবে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর এবং পাশাপাশি আরও দু-একটি বিদেশি ভাষা শিখতে হবে। আমি মনে করি, বাল্যকাল থেকে ইংরেজি ভাষাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। আগামী শতাব্দীতে বিশ্ব জয় করতে হলে এবং দক্ষ মানব সম্পদ গড়তে মাতৃভাষার পাশাপাশি সর্বস্তরে ভালো ইংরেজি জানা জরুরি। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবো। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে স্বাভাবিকভাবেই। আর স্বপ্নের শিক্ষাব্যবস্থা বলতে আমি মনে করি এমন শিক্ষা যেখানে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে অনেক কিছু শিখবে। যেখানে কোনো শিশুকে কোনো শিক্ষক দুর্বল বলবেন না। নিরুত্সাহিত করবেন না শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষায় ফেল বলে কিছু থাকবে না। লেখাপড়ায় ব্যর্থতা বলে কোনো শব্দ থাকবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনুসারে কিছু একটা শিখে বের হওয়ার ক্ষেত্র। তার শিক্ষা বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে এ রকম হওয়া উচিত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার। এজন্য করণীয় হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো। শিক্ষাকে যারা ব্যবসায়ী মনোভাব থেকে গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠান চালান, তাদের বর্জন করা। শিক্ষকতার জন্য আগ্রহীদের কেবল শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। কারিকুলাম ৪/৫ বছর পরপর পরিবর্তন করতে হয়, তাই এটিকে ঢেলে সাজাতে হবে। শেখানোর জন্য মুদ্রিত বই অবশ্যই লাগবে। তবে ডিজিটাল ক্লাসরুমের দরকার আছে। সারা বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করাও দরকার। দুর্নীতি নির্মূল না হলেও শিক্ষার্থীরা নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলতে শিখেছে। সৃষ্টিশীলতার জায়গা তৈরি হচ্ছে নানা কারণে। এদিক থেকে স্কুল-কলেজের পরিবেশ রাজনীতি মুক্ত থাকায় শৃঙ্খলাবোধও জন্মাচ্ছে। ফলে বাল্যকালের নিয়ম ও নীতিনিষ্ঠা পরবর্তী সময় কাজে লাগছে। এজন্য দরকার শিক্ষকদের আরও বেশি সময় ব্যয় করা প্রতিষ্ঠানের জন্য। শিক্ষকরা বেশি সময় প্রদান করলে শিক্ষার্থীরা সৃষ্টিশীল হতে অনুপ্রাণিত হবে আরও বেশি। ভবিষ্যত্ শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, প্রকৃতি-পরিবেশ চেতনা ও দেশপ্রেমের চর্চা বৃদ্ধি করার প্রধান শর্ত ক্যাম্পাস থেকে নোংরা রাজনীতি এবং দলাদলি নিষিদ্ধ করতে হবে। শিক্ষক আদর্শবান হলে সেই আদর্শ প্রদর্শিত হলে দেশের কাজে নিবেদিত হলে শিক্ষার্থীও সেখান থেকে শিখতে পারবে।

‘অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের নিকট বাস্তবমুখী শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তুলতে হবে’

—প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ 

প্রেসিডেন্ট, টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশ (টেকবিডি)

 

দক্ষ জনশক্তি ব্যতীত কোনোভাবেই দেশের উন্নতি সম্ভব নয়, এই অনুধাবন থেকে ও দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের নিকট বাস্তবমুখী শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সালের লক্ষ্যকে সামনে রেখে যে রূপরেখা নির্ধারণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও পদ্ধতির  প্রায় সকল সমস্যার সমাধান হবে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার এনরোলমেন্ট ১% থেকে ১৫%-এ উন্নীত হয়েছে, স্বপ্নের শিক্ষাব্যবস্থায় পৌঁছতে হলে কারিগরি শিক্ষার এনরোলমেন্ট কমপক্ষে ৫০%-এ উন্নীত করতে হবে। এবং পর্যায়ক্রমে সাধারণ শিক্ষার হার ৩৫% এবং কারিগরি শিক্ষার হার ৬৬% উন্নীত করতে হবে। তাহলে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে পৌঁছা সম্ভব হবে। এসএসসি পাস করার পর একজন শিক্ষার্থীকে এইচএসসি পাস করে গ্র্যাজুয়েশন করতে মোট সময় লাগছে ছয় বছর, কিন্তু যারা কারিগরিতে ডিপ্লোমা করছে, তাদের গ্র্যাজুয়েশন করতে সময় লাগছে আট বছর, তাই কারিগরিতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। কারণ দুটি বছর কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই এখানে পরিবর্তন প্রয়োজন। তাছাড়া শিক্ষার প্রতিটি স্থরে যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষা প্রণয়ন করা, ই-বুক প্রণয়ন ও রঙিন কন্টেন্ট সংযুক্তকরণ, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও পরিপূর্ণ ল্যাব ইত্যাদি বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে হবে। ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নে শিক্ষকদের অবশ্যই আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে, প্রত্যেক শিক্ষককে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে ও ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সহজ ও বোধগম্য উপায়ে উপস্থাপনে সক্ষম হতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নত দেশে শিক্ষকদেরকে শিক্ষকতায় আসতে হলে তাদেরকে শিল্প কারখানায় ৫ পাঁচ বছরের কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং শিক্ষকদেরকে পাঁচ বছর পর পর নতুন প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত শিল্প-কারখানায় চাকরি করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা লাভবান হচ্ছে। তাই এ পদ্ধতিটি অনুসরণ করা যেতে পারে। শিক্ষার প্রতিটি স্থরে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী করার লক্ষে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, গেলটেবিল বৈঠক, আলোচনা সভা করে এর গুরুত্ব গণমাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে তুলে ধরতে হবে।

‘ডিজিটাল যুগে উপযোগী পাঠ্যবিষয় পড়াতে হবে’

—মোস্তফা জব্বার

মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

 

আমি মনে করি, আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটাল রূপান্তরটি অনিবার্য। আমি চাই অথবা না চাই যুগটা যেহেতু ডিজিটাল, সেহেতু আমরা যদি শিক্ষাটা ডিজিটাল করতে না পারি তাহলে আমাদের মানবসম্পদ ডিজিটাল যুগের উপযোগী হবে না। ঘটনা হলো, বিষয়টা এরকম—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আসলে শিল্প যুগের প্রথম স্তরের যে ব্যবস্থা ছিল তার উপযোগী, যা এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে পৃথিবী দ্বিতীয় শিল্প যুগ অতিক্রম করেছে, তৃতীয় শিল্প যুগ অতিক্রম করেছে এবং চতুর্থ শিল্প যুগে পা দিয়েছে। এই চতুর্থ শিল্প যুগকে বলা হয় ডিজিটাল শিল্প যুগ। ডিজিটাল শিল্প যুগে অতীতের তিনটি শিল্প যুগের অবশিষ্টাংশও থাকবে না। এর অর্থটা আমি স্পষ্ট করে বুঝাতে চাই, অর্থাত্ যে পদ্ধতিতে আমরা ১৭৬০ সালের পর থেকে এ সময় পর্যন্ত এসেছি, যেভাবে জীবন যাপন করছি, যেভাবে শিল্প-কারখানা তৈরি করছি, যেভাবে সরকার পরিচালনা করেছি, যেভাবে আমরা জনশক্তিকে এসবের উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছি; তারা এই ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবে অংশ নেওয়ার মতো যোগ্যতা রাখবে না। এর মধ্যে কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে গেছি। সেই চ্যালেঞ্জটি হলো, আপনি চারপাশে তাকিয়ে দেখবেন আমরা শিক্ষা হারে প্রচণ্ডভাবে একটা অগ্রগতি সাধন করেছি। কিন্তু এই শিক্ষিত লোকের কর্মসংস্থানের জায়গা আমরা সৃষ্টি করতে পারিনি। এই কথাটা স্পষ্টভাবে বলা দরকার। শিক্ষিত লোকের কর্মসংস্থান তৈরি করার বর্তমান যে অবস্থা, এটা আগামীদিনে সাধারণ শিক্ষার জন্য আরও ভয়ঙ্কর হবে। ফলে আমাদের শিক্ষাকে যদি আমরা দু-তিন দিক থেকে বদলাতে না পারি; যেমন ধরেন আমাদের শিক্ষার বিষয়বস্তু বদলাতে হবে, অর্থাত্ শিল্প যুগের প্রথম স্তরে যেসব বিষয় পড়াতাম এখন ডিজিটাল স্তরে এসে সেসব বিষয়ের মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না। ডিজিটাল যুগে উপযোগী যে পাঠ্যবিষয় সে পাঠ্যবিষয় পড়াতে হবে। আরেকটি বিষয়ে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেই জায়গাটি হলো—আমরা যেই পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান করতাম, সেই পদ্ধতিটা কিন্তু শত শত বছর যাবত চলে আসছে। চক, ডাস্টার, বেঞ্চি, চেয়ার, টেবিল এবং এরমধ্যে খাতা-কলম লেখালেখির মধ্য দিয়েই আমরা শিক্ষা বিস্তার করে আসছি, শিক্ষার মূল্যায়ন করে আসছি এবং তার পদ্ধতিই আমরা মনে করেছি যে, আগামী দিনটা চলবে। ডিজিটাল যুগে প্রধান হাতিয়ার হবে ডিজিটাল যন্ত্র। ডিজিটাল যন্ত্র নির্ভর যে সমাজ, সেই সমাজে আমি যদি শিক্ষাটা দেওয়ার জন্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে আমরা কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্মকে নতুন সময়ের উপযুক্ত হিসেবে দেখতে পাব না। আমরা আমাদের সরকারকে ডিজিটাল করতে চাই, অর্থনীতিকে ডিজিটাল করতে চাই, শিক্ষাকে ডিজিটাল করতে চাই—এসব আরও একটু চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে, তার কারণ হলো নতুন কিছু প্রযুক্তি আসছে, যে নতুন প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে আমরা আলোচনাও করিনি। যেমন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থাত্ এমন কিছু বিষয় যে যন্ত্র আমাকে কৃত্রিমবুদ্ধি দিয়ে সহায়কের পর্যায়ে আসবে। যেমন ধরেন, রোবটিকস অথবা ধরেন ইন্টারনেট অব থিংস অথবা ধরেন বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস। আমরা ফোর জি যুগে প্রবেশ করেছি, কেবলমাত্র ফোর জি চর্চা করা শুরু করেছি। আগামী দুবছরের মধ্যে সেটি ফাইভে রূপান্তরিত হবে। ফাইভ জি যে কী পরিমাণ গতি নিয়ে পৃথিবীতে আসবে, আমরা বোধহয় এখনো তা কল্পনাও করতে পারি না।

‘উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তা না করে টেকসই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চিন্তন শক্তির বিকাশ ঘটানো যেতে পারে’

—ড. একেএম শাহনাওয়াজ

অধ্যাপক

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

আমাদের দেশে বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা জ্ঞানার্জনের অনুকূলে নয়। আবার তা বস্তুগত জীবনের প্রয়োজনেও যে সাফল্য এনে দিতে পারছে তেমনও নয়। বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাস অনেক পুরোনো। এই ঐতিহ্যিক প্রণোদনা বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাস্তবতা সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ মেধা কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা মাফিক নীতি নির্ধারণ করা। শিক্ষার লক্ষ্য প্রণয়নে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা যেন গুরুত্ব না পায়, সে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি।

ঔপনিবেশিক যুগ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অনেকটা সময় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাপনা ও কারিকুলাম ছিল গতানুগতিক। সাম্প্রতিককালে নানা সংস্কার আনা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তা সুচিন্তিত, বাস্তবানুগ বা বিজ্ঞানসম্মত বলে আমার মনে হয়নি। যে কারণে এ থেকে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা তেমন দেখা যাচ্ছে না। আমাদের মনে রাখতে হবে বিশ্ব অনেক বড়। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে উন্নত বিশ্বের কোনো এক দেশের কারিকুলাম ও ব্যবস্থাপনাকে অনুসরণ করলে হবে না। সকল দেশই নিজ নিজ দেশের বাস্তবতা ও ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে শিক্ষা-দর্শন স্থির করে। সময়ের সঙ্গে এর সংস্কার হয় এবং তা বৈশ্বিক চাহিদা মেকাবিলায় অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। এই দিকটি আমাদের কারিকুলাম সংস্কারে খুব ভাবা হয় বলে আমার মনে হয় না। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক চাহিদা মোকাবিলায় তেমন প্রস্তুত, তা বলা যাবে না।

প্রায়ই অভিযোগ থাকে অধিকাংশ কলেজে শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। এর অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে ক্লাসেই যদি সহজ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা যায় এবং শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষকসুলভ আচরণ নিশ্চিত করা যায়, তবে মেধা মূল্যায়ন যথার্থ হতে পারে। এতে বছরে একটি অন্তত মিডটার্ম ও একটি ফাইনাল পরীক্ষা কলেজগুলোর দায়িত্বেই হতে পারে। এসব পরীক্ষায় বহিস্থ পরীক্ষক থাকার বিধানও রাখা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা স্খলনের একটি হলো গতানুগতিক ধারার প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া। প্রতিবছরই ধারা পরিবর্তন করে নানা পরিবর্তনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা উচিত। এভাবে শিক্ষার্থীকে যদি শিক্ষা ও মৌলিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা যায় তবে শিক্ষার মানের কাঙ্ক্ষিত ফললাভ সম্ভব। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশের জন্য অধুনা সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি লক্ষ্যপূরণ করতে পারছে কি না আমার তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। প্রথমত এই পদ্ধতি দেশের বড় সংখ্যক শিক্ষকের কাছে স্পষ্ট নয়। যা হয়তো আমদানি করা কোনো মডেলের অসার্থক প্রয়োগ হতে পারে। আমার মনে হয় উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তা না করে টেকসই পদ্ধতিতে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তন শক্তির বিকাশ ঘটানো যেতে পারে। যেমন সপ্তাহের কোনো একটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক আশপাশে নদীর ধারে, ফুটবল খেলার মাঠে, কোনো ঐতিহাসিক-প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কাছে বা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতে পারেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন