কিশোরগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাণ ‘বিদ্যানীড়’
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
কিশোরগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাণ ‘বিদ্যানীড়’
সজীব বণিক

দেশে হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে, যারা অধিকার বঞ্চিত হয়ে অনাদরে-অবহেলায় দিন কাটাচ্ছে। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তারা অবহেলা, শোষণ ও অত্যাচারের শিকার। বেঁচে থাকা কিংবা ন্যূনতম শিক্ষা অর্জনে তারা পিছিয়ে পড়ছে। এমন সব সুবিধাবঞ্চিত ও শ্রমজীবী শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার মৌসুমী রিতু। তিনি পড়াশোনা করছেন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের বাংলা বিভাগে। ছোটবেলা থেকে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা মৌসুমী রিতু জানান, পরিবারে চাওয়া মাত্রই অনেককিছু পাননি।

তারপরও বাবা-মায়ের উত্সাহ-উদ্দীপনা এবং নুন আনতে পানতা ফুরায় এমন অবস্থায় এতদূর আসতে পেরেছি। ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর একক প্রচেষ্টায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘বিদ্যানীড়’। বিদ্যানীড় সম্পর্কে মৌসুমী রিতু বলেন, ‘দেশে অনেক শিশু রয়েছেন, যারা শুধু নামেমাত্র স্কুলে যাওয়া-আসা করে এবং প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে একসময় স্কুল থেকে ঝরে যায়। তেমনি বিদ্যানীড় হলো এমন একটি সংগঠন, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের যত্ন সহকারে স্কুলের পড়াশোনা এবং সাধ্যানুযায়ী মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয়ে থাকে।’

মাত্র ৫-৬ জন শিশুকে নিয়ে বিদ্যানীড়ের যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে দেড় শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষা পাচ্ছেন এখানে। মৌসুমী রিতু বলেন, ‘ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে প্রতিদিন পাঠের মাধ্যমে শিক্ষা মানুষের জীবনে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝানোর চেষ্টা করছি এবং বিদ্যানীড়ের কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত এবং সমাধান করে যাচ্ছি।’

বিদ্যানীড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গুরুদয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে অনেক শিশুই নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে টোকাইয়ের কাজ করে, অচেনা লোকের কাছে টাকা-পয়সা চেয়ে থাকে। অথচ যে সময়ে তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, তা না করে তারা বাবা-মার অসচেতনতার কারণে এসব কাজে লিপ্ত হচ্ছে। পরে ভাবতে লাগলাম, তাদেরকে একটু সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে বটবৃক্ষের মতো উঁচু হয়ে চলতে পারবে। মূলত সেই চেতনা থেকে বিদ্যানীড় প্রতিষ্ঠা করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করে যাওয়া। বর্তমানে গুরুদয়াল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী নিজের ভালোলাগা থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন এই বিদ্যানীড়ে। নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই বলে কখনো কোনো পরিত্যক্ত রুম পরিষ্কার করে কিংবা খোলা আকাশের নিচে মাটিতে বসে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন—বই, খাতা, পেন্সিল, রাবার, কলম, পোশাক, খাবার ও চিকিত্সা খরচ বহন করা হয়ে থাকে।’ মৌসুমী রিতু বলেন, ‘বছরের বিভিন্ন সময়ে শিশুদের নিয়ে ইভেন্টের আয়োজন করি এবং যতটুকু লভ্যাংশ পাই তার পুরোটাই বিদ্যানীড়ের স্বার্থে ব্যয় করে থাকি। বর্তমানে কয়েকজন সেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যানীড়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম।’

শিশুদের প্রয়োজনীয় শিক্ষার উপকরণ জোগাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।  বিদ্যানীড়ের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিশুদের আদর্শবান মানবরূপে এবং দেশকে নিরক্ষরমুক্ত গড়ে তোলা। আমি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করি না, আমার ভালোলাগা থেকেই মূলত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ তিনি মনে করেন, শিক্ষাই একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি। শিক্ষাই পারে যেকোনো দেশকে কুসংস্কার, অন্যায়, অত্যাচার ও জড়তা হতে মুক্ত হতে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন