মেগাসিটির নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে মেগাপ্রেনারদের উদ্যোগ
০৪ জুন, ২০১৮ ইং
মেগাসিটির নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে মেগাপ্রেনারদের উদ্যোগ
>> হাসান ওয়ালী

 

নিউইয়র্ক, সাংহাই কিংবা কলকাতার মতো আমাদের প্রাণপ্রিয় রাজধানী ঢাকা শহরও একটি মেগাসিটি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের প্রাণের ঢাকা শহরে সমস্যার কোনো অন্ত নেই। জলাবদ্ধতা, নিরাপদ পানীয় জলের অপ্রতুলতা, যানজট, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, পরিবেশ দূষণ, খাদ্যে ভেজাল, বেকারত্বসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত আমাদের নাগরিক জীবন। একটি দেশের প্রাণকেন্দ্র যদি এভাবে ধুঁকতে থাকে, তাহলে সেই দেশের ভবিষ্যতও যে হুমকির মুখে পতিত হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এসব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে দেশের তরুণ সমাজকেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করে সেখান থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে নতুন ধারার সুপরিকল্পিত ব্যবসা দাঁড় করানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে ওয়াইএসআই (ইয়াং সাস্টেইনেবল ইমপ্যাক্ট) বাংলাদেশ। ওয়াইএসআই হলো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যার সদর দপ্তর নরওয়েতে অবস্থিত। বিশ্বের তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘ প্রণীত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পথের বাধাগুলো কার্যকরভাবে দূর করাই এর মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে এবারই প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করলেও শুরুতেই দেশের তরুণ, স্বপ্নবাজ জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয় ওয়াইএসআই বাংলাদেশ। এরই ফলে এ বছর ওয়াইএসআই বাংলাদেশের উদ্যোগে শুরু হওয়া তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম ‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’-তে জমা পড়ে অগণিত আবেদন। এত এত মেধাবী, সৃজনশীল তরুণদের মধ্য থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে শেষপর্যন্ত বেছে নেয়া হয় চূড়ান্ত ২১ জনকে, যাদেরকে বলা হচ্ছে ‘মেগাপ্রেনার’। আমাদের এই মেগাসিটির বিভিন্ন সমস্যা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন এই এন্টারপ্রেনার্স তথা উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার পর এখন চলছে তাদের নিয়ে ইনোভেশন প্রোগ্রাম। এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে শুরু হওয়া তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ী এবং নাগরিকজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়, সেজন্য মেগাপ্রেনারদের যেতে হচ্ছে বিভিন্ন রকম প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে চিহ্নিত সমস্যার ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ, বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনা, বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা মোতাবেক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজার যাচাই প্রভৃতি। ২১ জন মেগাপ্রেনার থেকে গড়ে তোলা ৭টি দলই এখন ব্যস্ত এ কাজগুলো নিয়ে।

এরমধ্যেই ৭টি দল কোন বিষয়ের ওপর কাজ করবে তা নির্ধারণ করে ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বর্তমানে আমাদের দেশের অন্যতম বড় একটি সমস্যা হলো রাস্তাঘাটে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা। একটি দল তাই কাজ করছে এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে যা নারীদেরকে রাস্তায় চলাচলের সময় বখাটেদের হাত থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কিংবা বিপদে পড়লে যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছাতে সাহায্য করবে। রাস্তাঘাটে চলাচল করতে গিয়ে আমরা যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল পড়ে থাকতে দেখি, যা আমাদের পরিবেশ দূষণের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করে থাকে। অন্য আরেকটি দল এজন্য কাজ করছে—এমন একধরনের পরিবেশবান্ধব বোতল বানানোর লক্ষ্যে, যা এ সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এ তো গেল কেবল দুটি আইডিয়ার গল্প, বাকি আছে আরো পাঁচটি। সেগুলোর গল্প শুনতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আর অল্প কিছুদিন। কারণ জুলাই মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’-এর ফাইনাল কনফারেন্স, যেখানে বিনিয়োগকারীদের সামনে এ সাতটি দল তুলে ধরবে তাদের কাজগুলো। সেই সাথে থাকছে সেখান থেকে বিনিয়োগ লাভের সুযোগও।

এগিয়ে যাক বাংলাদেশ টেকসই উন্নতির পথ ধরে, এগিয়ে যাক মেগাপ্রেনাররা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০১৯ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন