কাঠুরিয়া বাবা ও দিনমজুর মায়ের ছেলে সজীব মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে তৃতীয়
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
কাঠুরিয়া বাবা ও দিনমজুর মায়ের ছেলে সজীব মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে তৃতীয়
 

দরিদ্র কাঠুরিয়া বাবা ও দিনমজুর মায়ের সন্তান হয়েও এবছরের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ের মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন সজিব চন্দ্র রায়। এ নিয়ে মা-বাবা তো বটেই, পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝেও বইছে আনন্দের জোয়ার। প্রতিবেশীরাও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। সজিবকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে গেছেন তার শিক্ষকেরাও।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে জন্ম সজিবের। বাবা মনোধর চন্দ্র রায় সংসারের ভরণ-পোষণ নির্বাহের জন্য একসময় রিকশাভ্যান চালিয়েছেন। ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে একসময় সেই রিকশাভ্যান বিক্রি করে  দেন। এখন কাঠকাটার কাজ করেই রোজগার হয় তার। তবে এই অল্প রোজগারে সংসার না চলায় মা চারুবালাকেও যেতে হয় কৃষিজমির দিনমজুরের কাজে।

মেধাবী সজিব স্বপ্ন দেখেন বড় হয়ে স্বনামধন্য চিকিত্সক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। পাশাপাশি সমাজ থেকে যেন দারিদ্র্যের অভিশাপ দূর হয় সে নিয়ে কিছু করার ভাবনা তার।

সজিব চন্দ্র রায় বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময় একবার তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়েছিলেন। সেবার অর্থাভাবে বাবা-মা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ভালো চিকিত্সা করাতে পারেননি। তখন থেকেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে চিকিত্সক হওয়ার। এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে ভর্তিযুদ্ধে অনন্য সাফল্য এনে দিয়েছে।’

২০১০ সালে বাড়ির কাছের কাঠগড় আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় গোটা বীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে প্রথম হন সজিব। পরে স্থানীয় গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং একই বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে মাধ্যমিকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন সজিব।

তবে ডাক্তারি পড়ার অনেক খরচের টাকা কীভাবে জোগাড় হবে, এ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছে পরিবার।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন