গৌরব গৌরবান্বিত করেছে তার শিক্ষকদের
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
গৌরব গৌরবান্বিত করেছে তার শিক্ষকদের

 

গৌরব দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় গ্রামের পাশের শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। এটিই এই বিদ্যালয়ের প্রথম জিপিএ-৫। তবে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল, সেসময় স্থানীয় পত্রপতিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

গৌরবের পরিবারের একমাত্র উপর্জনশীল ব্যক্তি বাবা গোপাল দাস মিষ্টির দোকানে কাজ করেন। অসুস্থ্য মা-স্ত্রী, স্কুলপড়ুয়া তিন সন্তানের ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার খরচ জোগাতে নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থা তার।

মেধাবী শিক্ষার্থী গৌরব ২০১৫ সালে একই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫-সহ মেধাবৃত্তি পেয়েছিল। এরপর তার বাবা চেষ্টা করেছিলেন তাকে শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর। সুযোগ হয়েছিল ভর্তির। সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফ্রি ভর্তির সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু শহরে থাকা-খাওয়া বা প্রতিদিন বাড়ি থেকে সিএনজি ও অটো রিকশা দিয়ে আসা-যাওয়ার সামর্থ না থাকায় শহরের নামি স্কুলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় তার।

মেধাবী শিক্ষার্থী গৌরব দাসের ইচ্ছা ছিল সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়বে। কিন্তু বাড়ির কাছের বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকায় বাধ্য হয়েই মানবিক বিভাগে ভর্তি হয় সে।

তবে মেধাবী শিক্ষার্থী গৌরব দাসের পাশে দাঁড়িয়েছিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকগণ। বিনা বেতনে অধ্যয়ন ও বই, খাতা, কলম কেনার টাকাও দিয়েছেন পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হারুন আল রশিদ ও অন্যরা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকগণ গৌরবকে সহযোগিতা করেছেন। সবার সহযোগিতায় গৌরব মানবিক বিভাগ থেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করে বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। গৌরব দাস জানায়, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, সকল শিক্ষক ও আত্মীয়-স্বজনরা সহযোগিতা না করলে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।

গৌরব দাস বলে, ‘সবার সহযোগিতায় আমি ভালো ফলাফল অর্জন করেছি। ম্যানেজিং কমিটি, হেড স্যারসহ সকল স্যাররা আমাকে সহযোগিতা না করলে আমি পড়তে পারতাম না।’

বর্তমানে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে গৌরব।

শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম সফিক বলেন, ‘গৌরব দাসের পরিবার হতদরিদ্র, তবে সে খুব মেধাবী ছাত্র। সে অষ্টম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ ও মেধাবৃত্তি পেয়েছিল। মানবিক থেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করে আমাদের বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা আশা করছি এসএসসিতেও মেধাবৃত্তি পাবে। সে আমাদের বিদ্যালয়ের এসএসসিতে প্রথম জিপিএ-৫ অর্জনকারী ছাত্র। আমরা সবাই তাকে সহযোগিতা করেছি।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন