ন্যাশনাল ইয়াং এন্টারপ্রেনারস সামিট ২০১৮
তরুণ উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
তরুণ উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা

>> জয়নুল হক

 

উদ্যোক্তা সেই যে সফল হওয়ার লক্ষ্যে রিস্ক বা ঝুঁকি নিতে জানে। উদ্যোক্তারাই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে, সাফল্যের স্বর্ণ শিকড়ে পৌঁছে দিতে। নতুন কিছু উদ্ভাবন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে। আর এ উদ্যোক্তারা যদি হয় তরুণ!  তাহলে তো আর কথাই নেই! কারণ তরুণেরাই জানে কীভাবে ভয়কে জয় করতে হয়। শত বাধা ডিঙিয়ে সফলতার জন্য ছুটতে হয়। তারুণ্যই জানে সফলতার মূলমন্ত্র।

এমনই হাজারো তরুণ উদ্যোক্তাদের  এক সুতোয় নিয়ে আসে উদ্যোক্তাদের সংগঠন ইয়াং।

গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ন্যাশনাল ইয়াং এন্টারপ্রেনারস সামিট ২০১৮। এ সম্মেলনে বক্তারা কীভাবে দেশ ও বিশ্বব্যাপী তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত করার মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্কিং, ফান্ডিং, বিটুবি এবং স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেম ও অন্যান্য উদ্যোগী চাহিদা পূরণের একটি শক্তিশালী কমিউনিটি তৈরি করা যায় সেই লক্ষ্যে তরুণ ও উদ্যোক্তাদের কী করা দরকার ও কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রধান করেন।

দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলাম। বিজনেসের ফার্স্ট জেনারেশনের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ব্যবসা শুরুর অভিজ্ঞতায় তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে বারবার বলা হয়েছে আমি ব্যবসার কিছু বুঝি না। হাজারো বাধা-বিপত্তি ছিল। টেকনোলজি ছিল না, গুগল ছিল না, ফেসবুক ছিল না। ব্যাংকের ডকুমেন্টস ভুল করেছি। ব্যাংকের পিয়ন, ড্রাইভারের কাছে হতে হয়েছে বিব্রত। আমি আশা ছাড়িনি। আমি তো জানতাম না ব্যবসা কী করে করতে হয়, উদ্যোক্তা কী করে হতে হয়! আমি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি। কষ্ট করেছি, আপনাদেরও কষ্ট করতে হবে, অনেক কষ্ট, পরিশ্রম, আর ইনোভেশনের কোনো বিকল্প নেই। সফলতা আসবেই। আপনি সফল হবেনই।’

সামিরা আলম আফসানা ও তামান্না রহমান আন্নির প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান, উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট প্রিমা নাজিয়া আন্দালিব, ওয়ান ব্যাংকের ইভিপি ও হেড অব ইনোভেশন ইয়ার মোহাম্মদ, সিটি ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুল করিম, এমজেএল বাংলাদেশের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেট কমিউনিকেশন সৈয়দ গোলাম দস্তগীর, ডক্টরলা.কমের ফাউন্ডার ও সিইও মোহাম্মদ আবদুল মতিন ইমন, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমাদ, পালস হেলথকেয়ার সার্ভিসের রুবাবা দৌলা, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সাহাবউদ্দিন শিপন, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একাডেমিক ডিরেক্টর আরিফ জামান প্রমুখ। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন যে, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার জন্যে অর্থের চেয়ে বুদ্ধি বেশি প্রয়োজন। টাকার অভাবটা আসল অভাব নয়। আসল অভাব ভরসার। উদ্যোক্তাদের জন্য সে ভরসার পরিবেশ তৈরি করাটাই নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেন্স।’ একই সুরে ডক্টরলা.কমের ফাউন্ডার ও সিইও মো. আব্দুল বাতেন ইমন বলেন, ‘আমার কাছে ইয়াং মানে, সীমানা ছাড়া বিশাল স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন হলে সবকিছুতে বাজি রাখার মানসিকতা। ইয়াং মানে লোকে কী বলবে, কী মনে করবে তার তোয়াক্কা না করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবার শক্তি।’ ইয়াং-এর সিইও মুসলিম উদ্দিন বাপ্পি বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তারা কীভাবে দেশ ও বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী কমিউনিটি তৈরি করতে ও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন সেই লক্ষ্যেই আমাদের আয়োজন এবং ভবিষ্যতেও ইয়াং-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এ ছাড়াও সম্মেলনের শেষে প্যানেল ডিসকাশন ও ছয়টি ক্যাটাগরিতে ছয়জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ইয়াং ফটোগ্রাফি এন্ট্রাপ্রেনার অব দ্য ইয়ার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রুহুল কুদ্দুস ছোটন, সিইও ‘ফোকাস ফ্রেম’, স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন আসিফ অভি, ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও ‘বাই টু গিভ’, রিয়েলস্টেট ক্যাটাগরিতে এম ফকরুল ইসলাম ম্যানেজিং ডিরেক্টর ‘ইনডিড প্রোপার্টি’, ইয়াং ইনোভেশন ক্যাটাগরিতে সাব্বির আহমেদ কো ফাউন্ডার অব ‘পার্কিং কই?’, ইয়াং উইমেন এন্টারপ্রেনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন লিজা এ হোসাইন, সিইও ব্র্যান্ডিলেন ৩৬০লিমিটেড এবং ইয়াং বিজনেস পার্সন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হন সাইদ রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ডিজিটাল হাব সলিউশন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন