ভেঙে যেতে পারে ২০ দলীয় জোট
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ মে, ২০১৫ ইং
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আলোচনা সভায় শাহজাহান ওমর জোটের শরিকদের হেয় প্রতিপন্ন করে বক্তব্য রাখেন। তিনি সেখানে বলেন, জোটের শরিক দলের নেতারা আন্দোলনে সক্রিয় না।  জোটের শরিকরা বলেছেন, বিএনপি যদি শাহজাহান ওমরের বক্তব্যের বিষয়ে সুষ্টষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না দেয় তাহলে আমরা জোট থেকে বেরিয়ে যাব। পরপর দু’বার সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ ২০ দলীয় জোটে বর্তমানে অবিশ্বাস-সন্দেহ চরম আকার ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সিনিয়র এক নেতার জোটবিরোধী বক্তব্য অবিশ্বাস-সন্দেহ আরো বাড়িয়েছে।

২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো সূত্রে জানা গেছে, রীতিমত ক্ষুব্ধ ও অপমানিত জোটের শরিক নেতারা নিজেদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। গতকাল রাতেও রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় জোটের এক নেতার বাড়িতে ১২টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক কর্নেল ড. অলি আহমদের  নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত  হোসেন সেলিম জোট ছাড়ার বিষয়ে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে ওই দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর জোটবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্যে আমরা রীতিমত অপমানিত ও অসম্মানিত।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিকভাবে বিএনপি গঠন করেছিলেন। তিনি জোর করে বা ভয় দেখিয়ে কাউকে দলে যোগ দিতে বাধ্য করেননি। জাতীয়তাবাদের চেতনায় ও জিয়াউর রহমানের সঠিক নেতৃত্বের কারণে তত্কালীন নেতারা প্রথমে জাগো দল পরে বিএনপিতে যোগ দেন। এ দেশের জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিকে তারা শক্তিশালী করেন।

শাহজাহান ওমরকে সরকারের এজেন্ট হিসেবে দাবি করে সেলিম বলেন, ‘শুধু বিএনপির সঙ্গে জোট করার কারণে বিগত ৫/৬ বছর যাবত্ আমরা ব্যবসা বাণিজ্যও করতে পারছি না। জোটের কোনো নেতা নেই যার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা নেই। অনেক মামলায় চার্জশিটও দাখিল হয়েছে। অনেকেই জেলে গেছেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুদল লতিফ নেজামীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়াসহ জোটের অনেক নেতার নামে মামলা হয়েছে। অথচ শাহজাহান ওমর বলছেন, জোটের নেতারা নাকি আন্দোলনে সক্রিয় নয়।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জোট শরিকরা যদি আন্দোলনে সক্রিয়ই না থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেমন করে একাধিক মামলা হল? আর সরকারের এজেন্ট শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে গত ছয় বছরেও কেন একটি মামলা হল না।

সেলিম আরো বলেন, ‘আমরাও বুঝতে পারি, বর্তমানে আগের মত ২০ দলীয়  জোটের প্রয়োজনীয়তা ও আবেদন নেই। তাছাড়া বিএনপি নিজেই তো জোট গড়ার মূল কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে বর্তমানে সরে এসেছে। বিএনপির অনাগ্রহের কারণেই জোটকে আরো কার্যকর করা যায়নি।’ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান বলেন, ২০ দল কোনো আদর্শিক  জোট নয়। এ জোট গঠন হয়েছিল আন্দোলন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। যেহেতু এ মুহূর্তে আমরা আন্দোলনকে নয়, দল পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছি। নিকট ভবিষ্যতে নির্বাচনের সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সেহেতু জোট থাকার যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না। তিনি আরো বলেন, জোট বিলুপ্ত করে দল পুনর্গঠনে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।

এদিকে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মুস্তফা ভুঁইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের বক্তব্যের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন