চোরাচালানের সোনাসহ বিমান জব্দ
জরিমানা হতে পারে বার হাজার কোটি টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি৩১ মে, ২০১৫ ইং
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গতকাল শনিবার চোরাচালানের স্বর্ণ বিমানের এয়ারক্রাফট জব্দ করেছে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ। উদ্ধারকৃত ২৪টি স্বর্ণ বারের মূল্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা। অপর দিকে বিমানের এয়ারক্রাফটির মূল্য ১২শ কোটি টাকা।

শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, গতকাল বিকালে এয়ারক্রাফটি দুবাই থেকে শাহজালাল বিমান বন্দরে অবতরণ করে। এর পরপরই নিয়ে যাওয়া হয় হ্যাংগার এরিয়া। সেখান থেকেই স্বর্ণের চালানটি পাচার হবার কথা ছিল। আগে থেকেই স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল । সে মোতাবেক শুল্ক গোয়েন্দা ওত পেতে থাকে। স্বর্ণ চালালনটি বের করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় রাত নয়টায় হ্যাংগার এরিয়া থেকেই এয়ারক্রাফটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়ার প্রস্তুতি ছিল। সিদ্ধান্ত ছিল চট্টগ্রাম বিমান বন্দরেই স্বর্ণের চালানটি হস্তান্তর হবে। এ অবস্থায় শুল্ক ও গোয়েন্দারা এয়ারক্রাফটে তল্লাশি চালায়। এয়ারক্রাফটের নিরাপত্তা জ্যাকেট রাখার স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মুল্যের ২৪টি স্বর্ণ বার।

তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে স্বর্ণ বহনের অভিযোগে এয়ারক্রাফটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরো বলেন, এয়ারক্রাফটের মূল্য ১২শ কোটি টাকা। কাস্টমস আইনে দশ গুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। সে মোতাবেক জরিমানার পরিমাণ হতে পারে বার হাজার কোটি টাকা।

এ নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধভাবে স্বর্ণ বহনের দায়ে চারটি উড়োজাহাজ আটক করে শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, এ স্বর্ণ পাচারের ঘটনায় বিমানের লোকজনই জড়িত রয়েছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ১২৪ কেজি স্বর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় বিমানের দশ কর্মীসহ ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছিল শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল স্বর্ণ উদ্ধারের দেড় বছর পর। মামলার আসামিদের মধ্যে ছিলেন  বিমানের সুইপিং সুপারভাইজার আবু জাফর, এয়ারক্রাফট মেকানিক মাসুদ, সিকিউরিটি অফিসার কামরুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসার সালেহ আহমেদ, মজিবর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট এয়ারক্রাফট মেকানিক আনিস উদ্দিন ভূঁইয়া, প্রকৌশলী হ্যাংগারের মেকানিক ওসমান গণি এবং জুনিয়র ইন্সপেকশন অফিসার শাহাজাহান সিরাজ, রায়হান আলী ও মাকসুদ। এছাড়া একই বছরের ১৮ নভেম্বর স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-ফ্লাইট) মো. এমদাদ হোসেন, বিমানের প্লানিং এ্যান্ড সিডিউলিংয়ের প্রধান আসলাম শহীদ ও সিডিউলিং ম্যানেজার তোজাম্মেল হোসেন। এ তিনজন স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন