সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা
নিখোঁজ ৫৯৮ জনের তালিকা মানবাধিকার কমিশনে
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ জুন, ২০১৫ ইং
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানব পাচারের শিকার ৫৯৮ জন নিখোঁজ ব্যক্তির একটি তালিকা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা দিয়েছে এশীয় অঞ্চলে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কারামএশিয়া বাংলাদেশ। নিখোঁজদের বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।

কারামএশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক মোহাম্মদ হারুন-আল-রশিদ গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মানব পাচার বন্ধে এখনো সরকারের কোনো শক্ত পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। ভুক্তভোগীদের বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো সঠিক তথ্যও নেই। এজন্যই আমরা পাচারের শিকার মানুষদের তালিকা তৈরির চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবর আবিষ্কার এবং তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্যের জন্য ১ জুন হটলাইন চালু করা হয়। গত ১৩ জুন পর্যন্ত ৫৯৮ জন সমুদ্রপথে মানব পাচারের শিকার নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেছে এবং ওই তথ্যের ভিত্তিতে কিছু নিখোঁজ ব্যক্তিকে থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে শনাক্ত করা গেছে। শনাক্তকৃত বাংলাদেশিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও হটলাইনের মাধ্যমে পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কিছু সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারীকে গ্রেফতারের জন্যে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও বাংলদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য হটলাইন সার্ভিসগুলো চালু থাকবে বলেও তিনি জানান। হারুন-আল-রশিদ বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশে ও প্রবাসে অনলাইনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ মানুষ এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

এসব তথ্য সংগ্রহে কারামএশিয়াকে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ), আইন ও শালিস কেন্দ্র, ব্রাক, ওয়ারবি ফাউন্ডেশন, বোমসা, কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও সংস্থা ইপসা ও হেল্প। তালিকা হস্তান্তরের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে একটি ক্রাইসিস সেন্টার খোলারও দাবি জানানো হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষে তালিকা সম্বলিত আবেদনপত্র গ্রহণ করেন কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (তদন্ত) ইমাম উদ্দিন কবির। এ সময় নিখোঁজ ১২ জনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানব পাচারের শিকার ভাসমান মানুষগুলোকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট দেশের আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা এবং জরুরি মানবিক সেবা নিশ্চিত করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা। নিখোঁজ বাংলাদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। বিভিন্ন গণকবরে আবিষ্কৃত দেহাবশেষ থেকে ‘ডিএনএ’ পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারবর্গের কাছে তথ্য সরবরাহ করা। পরিবারবর্গের মতামত অনুসারে এসব দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সমাহিত করা। যে সকল ব্যক্তিবর্গ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া বা মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার বা বন্দি শিবিরে আটক রয়েছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা। যারা নিখোঁজ রয়েছেন বা যাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২’ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক ও টেকসই অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন