স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না, হয় দাসত্ব --খালেদা জিয়া
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ জুন, ২০১৫ ইং
কানেকটিভিটির নামে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমরা মনে করি, নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্ব হতে হবে সমানে সমানে। সমান সমান হলে সেটাকে বলে বন্ধুত্ব। আর সমান সমান না হলে তাতে বন্ধুত্ব হয় না, তা হয় দাসত্ব। অবশ্য বেগম জিয়া এসব কথা বলার সময় একবারও ভারতের নাম উল্লেখ করেননি। ’জাতির জনকের পরিবার’কে আজীবন রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় দেশ দিন দিন খারাপের দিকে যাবে।

গতকাল রবিবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ময়মনসিংহের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক বক্তৃতায় খালেদা জিয়া এ সব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আহমেদ আযম খান, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ময়মনসিংহ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা।

খালেদা জিয়া ফি বা মাশুল ছাড়া ভারতকে ট্রানজিট দিতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘যমুনা সেতু অতিক্রম করে বগুড়া-পাবনা গেলে আপনাদের টোল দিতে হয়। সেতু ও  রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই টোল দিতে হয়। অন্য অনেকে আমাদের দেশ ব্যবহার করতে পারবে, তবে টোল দেবে না, টাকা পয়সা দেবে না! আমাদের রাস্তা দিয়ে বড় বড় যানবাহন ও মালপত্র যাবে। রাস্তা কি এর লোড নিতে পারবে? ক’দিন পরেই তো রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। যাওয়াতে তো বাধা দিচ্ছি না। টাকা দিয়ে যাবে।

সুন্দরবনের কাছে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সেখানে কয়লা বিদ্যুত্ প্রকল্প হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। এর জীব-বৈচিত্র্য, গাছ-পাল, পশু-পাখি সব শেষ হয়ে যাবে। আমাদের বিদ্যুত্ প্রকল্পের দরকার আছে। তবে তা কোনোভাবে রামপালে নয়। অন্য কোথাও তা হতে পারে।

পুলিশের সমালোচনা করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশ এখন সরকারের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। তারা এখন বড় সরকার। পুলিশ বলে, তারাই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই গুম-খুন অত্যাচার করছে। কিন্তু পুলিশ র‍্যাব দিয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার অন্যায়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্বাচিত মেয়রদের বরখাস্ত করছে। কিন্তু তারা এটা করতে পারে না। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে কোর্টের রায় আমাদের পক্ষে আসার কথা। কিন্তু কোর্টও নিরপেক্ষতা রাখছে না। আমরা চাচ্ছি সুবিচার, তা পাচ্ছি না।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বেগম জিয়া বলেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে এবং দলের জন্য নিবেদিত, আগামীতে দলে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে না বা করেনি কখনো, তারাই আসবে নেতৃত্বে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন