রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে চূড়ান্ত ঋণ চুক্তি সই
২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
g ইত্তেফাক রিপোর্ট

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চূড়ান্ত ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 

১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার (১ লাখ কোটি টাকারও বেশি) ব্যয়সাপেক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে রাশিয়া ৯০ শতাংশ, অর্থাত্ ১ হাজার ১৩৮ দশমিক ৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে। বাকি অর্থ জোগান দেবে বাংলাদেশ। প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা ও যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করবে রাশিয়া। আর্থিক বিবেচনায় এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।

গতকাল চূড়ান্ত ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এবং রাশিয়ার পক্ষে অর্থ বিভাগের উপ-মন্ত্রী সার্গেই আনাতোলিভিচ স্তোরচাক।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ আরো গতি পেল। একইসাথে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।

অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির সাভুস্কিন বলেন, এই চুক্তির পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে এখন আমাদের হাতে আইনি এবং আর্থিক, দুইটি ভিতই শক্ত হলো। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় রূপপুর প্রকল্পের মূল চুক্তি (জেনারেল কন্ট্রাক্ট) সই হয়। গত ১৭ মে রাশিয়ার মস্কোতে দুই পক্ষ চুক্তিটি অনুস্বাক্ষর করে। সরকার অনুস্বাক্ষরিত সেই চুক্তি অনুমোদন করে গত ২৭ জুন। ১৮ জুলাই অনুমোদন করে রাশিয়ার সরকার। এবার চূড়ান্ত ঋণচুক্তি সই হলো। আইন অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের হাতে। আর কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে তিন টাকা। তবে পরমাণু ও বিদ্যুত্ সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞ প্রকল্প খরচ বিশ্লেষণ করে বলছেন, এই কেন্দ্রটি থেকে উত্পাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় পৌনে চার টাকা পড়বে। প্রকল্প ব্যয়ও বেশি বলে মনে করছেন তারা। চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রটির বয়সসীমা ৫০ বছর। এটি নির্মাণে রাশিয়ার দেয়া ঋণের সুদাসল প্রথম ১০ বছর পরিশোধ করতে হবে না (গ্রেস পিরিয়ড)। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা শুরু হবে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে। প্রতিবছর দুই কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের অক্টোবরে উত্পাদনে আসার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে চালু হবে। তবে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর বছর, ২০২১ সালে প্রথম ইউনিটটি চালু করতে আগ্রহী সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাধীনতা পূর্ব ১৯৬১ সালে পরমাণু কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পরে ১৯৬৩ সালে প্রস্তাবিত ১২টি এলাকার মধ্য থেকে বেছে নেয়া হয় রূপপুরকে। পরবর্তী সময়ে অনেক আলোচনা হলেও কার্যক্রম আর এগোয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উদ্যোগটি আবার সক্রিয় করে তোলা হয়। দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০১০ সালে সংসদে প্রস্তাব পাস করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরে এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত আগস্ট মাসে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিচালনায় কোম্পানি গঠন করতে সংসদে বিল পাস হয়।

‘এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থি’

যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প চালাবার মত দক্ষ জনবল দেশে নেই। ফলে একদিকে আছে ছোট্ট এই দেশে ভয়াবহ মাত্রার দুর্ঘটনার আশঙ্কা, অন্যদিকে আছে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী ঝুঁকি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী-শিক্ষক-শিক্ষার্থী-পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা জানান। ঔপন্যাসিক রাখাল রাহার সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন ইফতেখার আহমেদ বাবু। বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মাহবুব রুবাইয়াত, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শিল্পী কফিল আহমেদ, লেখক ফিরোজ আহমেদ, শিল্পী অরূপ রাহী, মানবাধিকার কর্মী জাকিয়া শিশির, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ছাত্রনেতা গোলাম মোস্তফা, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সংগঠক প্রকৌশলী ইমরান হাবীব রুমন প্রমুখ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন