লাভে আছে জিটিসিএল তবু সঞ্চালন মাসুল বাড়ানোর সুপারিশ
g ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বর্তমান সঞ্চালন মাশুল ১৫ দশমিক ৬৫ পয়সা। এই হারে মাশুল নিয়েই গত অর্থবছরে লাভজনক অবস্থানে ছিল গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। চলতি অর্থ বছরে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নসহ নানাভাবে খরচ বেড়ে যাবে এমন দাবি করে সঞ্চালন মাশুল ৩৩ দশমিক ৫৮ পয়সা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়েছে কোম্পানিটি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চালন মাশুল ১৪ পয়সা বাড়িয়ে ২৯ দশমিক ৫৬ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গতকাল রবিবার রাজধানীতে টিসিবি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জিটিসিএল’র প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান মাশুলের হার থেকে ৮৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে বিইআরসি। শুনানিতে অংশ নিয়ে এ সঞ্চালন মাশুলসহ ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন ও তাদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা অধিকার এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাশুল বাড়ানোর সুপারিশের মাধ্যমে আরেক দফা গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পথে হাঁটলো কমিশন। অথচ গত অর্থ বছরে জিটিসিএল ১১০ কোটি টাকা লাভ করে। এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাদের বেতনের বাইরে কোম্পানির লভ্যাংশের উপর বোনাস পেয়েছেন।

গণশুনানিতে জিটিসিএল’র প্রস্তাব এবং অন্যদের বক্তব্য শোনেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খান, সদস্য মাকসুদুল হক ও রহমান মুর্শেদ। বক্তব্য উপস্থাপন করেন জিটিসিএল’র পরিচালক (অর্থ) শরিফুর রহমান। ভোক্তাদের পক্ষে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ক্যাব) উপদেষ্টা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমেদ, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক সালেক সুফি, রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স, জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ড. এম শামসুল আলম বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর গ্যাসের সঞ্চালন মূল্যহার বাড়ানো হয়েছে। এক বছরের মধ্যে আবারো সঞ্চালন মূল্যহার বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক। এক বছরের মধ্যে মূল্যহার পুনঃনির্ধারণের আইনি সুযোগ নেই। এ আবেদন অগ্রহণযোগ্য। জিটিসিএল’র পুঞ্জীভূত অবচয়ের পরিমাণ ২০৭৩ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা হলেও তার বিপরীতে কোনো তহবিল নেই। এমন ভয়াবহ আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম রয়েছে জিটিসিএলে। এমন পরিস্থিতিতেও জিটিসিএল লভ্যাংশ ভাগ বাটোয়ারা করে। তিনি কোম্পানির আর্থিক খরচ কমিয়ে এনে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নয় বরং কমানোর দাবি জানান।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমেদ বলেন, প্রতি বছরই শুনি, গণশুনানি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখি গ্যাসের দাম বাড়ে। জনগণ বছর বছর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি  সহ্য করতে পারছে না। আমাদের গ্যাস নাই বলা হচ্ছে। অথচ বিশাল খরচ করে গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিইআরসির উদ্দেশে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম আর বাড়াবেন না। ১ জুলাই গুলশান ট্রাজিডির পর এমনিতেই দেশ নানা ঝড় পার করছে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ালে বিনিয়োগে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

এদিকে আজ সোমবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ১০ আগস্ট পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১১ আগস্ট বাখরাবাদ গাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৪ আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ১৬ আগস্ট জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ১৭ আগস্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।

গণসংহতির বিক্ষোভ

গণশুনানি চলাকালে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিইআরসির অফিসের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত বছর সরকার গ্যাসের ২৭ শতাংশ দাম বাড়ায়। এবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাসাভাড়া, যানবাহনের ভাড়া, চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে শ্রমজীবী মানুষের ওপর।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন