আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত না রাখলে মিয়ানমার সমস্যার সমাধান করবে না
গোল টেবিল বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তা না হলে মিয়ানমার মূল সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী নাও হতে পারে। লাখ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে আংশিক ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রশমিত করার কৌশল হতে পারে। মিয়ানমার নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রত্যাবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা সীমিত করার এবং নানা অজুহাতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বিত করতে পারে। ‘রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় মঙ্গলবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস্) এই গোলটেবিলের আয়োজন করে। বিস্ এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিস্ এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি ও সহযোগিতা ছাড়া মিয়ানমারকে একাজে আগ্রহী রাখা দুষ্কর হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চাই। বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে মিলিতভাবে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে হবে। যাতে রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও জীবন যাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে সে দেশের সরকার। সামরিক বাহিনী নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়। রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে। সমাধানও সেখানে নিহিত। ১৯৭৮, ১৯৯২, ২০১২ ও ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের কারণে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমারের সামরিক ও সেনা সমর্থিত সরকারগুলো ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের অধিকার বঞ্চিত করে রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে।

উন্মুক্ত আলোচনা

উদ্বোধনী পর্বের পর মুন্সী ফায়েজ আহমেদের সভাপতিত্বে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এজাজুল বারী চৌধুরী, মহাপরিচালক ( ইন্টেলিজেন্স) মুনীরুল ইসলাম আকন্দ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুল কবীর চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাবেক কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, পরিস্থিতিটা এমন যে রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না। আবার তাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনও জরুরি। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন সরব রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।  তবে সেখানকার রেজুলেশনই এ সংকটের একমাত্র সমাধান নয়। বাংলাদেশ মনে করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইইউ যেভাবে চাপ তৈরি করেছে এবং তাদের সহায়তায় এ সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হবে।

পররাষ্ট্র সচিব তার বক্তব্যে বলেন, এটি প্রায় নিশ্চিত যে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশ নেবে না। তাদের মিয়ানমারেই নিজ নিজ বসত ভিটায় (নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে) ফেরত পাঠাতে হবে। বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, মিয়ানমারের দিক থেকে সামরিক সংঘাতের জন্য উস্কানি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সতর্কতা ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং মিয়ানমারের কোনো উস্কানিতে পা দেয়নি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন