তেজগাঁওয়ে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় তিন জনের স্বীকারোক্তি
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আরজত পাড়ায় গত শুক্রবার বৃদ্ধা মিলু মিলড্রেড গোমেজকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার জামির (২৫), পারভেজ (২০) ও নাঈম (১৯) গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃদ্ধার বাড়ির সাবেক কেয়ারটেকার জামিরের পরিকল্পনায় এ খুন করা হয় বলে জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেছেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, হত্যারহস্য উন্মোচন হয়েছে। এ ঘটনায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলা হয়, জামির মাঝে মধ্যেই ২/৩শ’ টাকার বিনিময়ে বৃদ্ধার ঘর পরিষ্কার করে দিতেন। তিন মাস আগে দম্পতি কানাডা থেকে ফেরার পর তার কাছে ধারণা হয় যে, ওই বাসায় অনেক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আছে। ঘটনার ৪/৫ দিন আগে জামির মহাখালীর একটি বস্তির পারভেজ ও নাঈমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জামির তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই বাড়ির তিন তলায় বৃদ্ধার ফ্ল্যাটের কলিংবেল চাপ দেয়। মিলু গোমেজ নিজেই দরজা খুলে দেন। জামির বৃদ্ধার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করার পর এক গ্লাস পানি খেতে চায়। বৃদ্ধা এক গ্লাস পানি এনে প্রথমে ডাইনিং টেবিলে রাখেন। এ সময় নাঈম লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে বৃদ্ধার গলায় ধরে। টাকা-পয়সা না দিলে গলা কেটে ফেলবে- এমন কথা বলতেই বৃদ্ধা চিত্কার করেন। তখন নাঈম বৃদ্ধার গলায় পোঁচ দেয়। এ সময় বেডরুম থেকে বৃদ্ধ অনিল গোমেজ ছুটে আসেন। অনিলের সামনে নাঈম বৃদ্ধার গলায় অরেকবার পোঁচ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে অনিলের মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে সোফার ওপর বসিয়ে রাখে। তারা ঘরের জিনিসপত্র খুঁজে তেমন কোন স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এমিটেশনের অলঙ্কার ও ৩শ টাকা তারা পেয়েছিল। ওসব নিয়েই তারা বারান্দা দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। বৃদ্ধার ফ্ল্যাটে প্রবেশের সময় পারভেজ স্যান্ডেল খুলে রেখে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্যান্ডেল জোড়া নিয়ে যেতে ভুলে যায়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন