সেই দুই বাস চালক গ্রেফতার
হাত হারানো রাজীবের চিকিত্সা ব্যয় দিতে হবে বাস মালিকদের
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ইত্তেফাক রিপোর্ট

দুই বাসের চাপে তিতুমীর কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত হারানোর ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা-পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদ। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী দুই চালককে গ্রেফতারের বিষয় নিশ্চিত করেন। এদিকে রাজীব হোসেনের চিকিত্সা ব্যয় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে রাজীব হোসেনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

গত মঙ্গলবার বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি সামান্য বাইরে বের হয়েছিল। হঠাত্ পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিক দিয়ে গা ঘেঁষে ঢুকে পড়ে।  এ সময় দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুই-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান; কিন্তু চিকিত্সকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সেই হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। শমরিতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব নয়, তার অবস্থা গুরুতর। তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

এদিকে যাত্রীদের চলাচলে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকরের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনে আইন সংশোধন ও নতুন করে বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ  কেন দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রুলে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনারসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেয়। এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

রুহুল কুদ্দুস কাজল পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত বলেছেন, রাজীবের হাত রিপ্লেস করার সুযোগ থাকলে তার ব্যয়ভারও দুই বাস কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।’ প্রসঙ্গত, রাজীবের বাবা-মা কেউ বেঁচে  নেই। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারে টাইপিংয়ের কাজ করে তিনি নিজের এবং ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতেন বলে রাজীবের মামা জাহিদুল জানিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন