স্থল বন্দর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য উন্নয়ন সেমিনারে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে স্থল বন্দরগুলোর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দেখা যাচ্ছে, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে কার্গো হ্যান্ডেলিং ব্যবস্থা খুবই উন্নত। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আমদানি করা পণ্য যেমন দ্রুত ছাড় হয়, তেমনি পণ্যের রক্ষণাবেক্ষণ নিরাপদ। কিন্তু ওই বন্দরের বিপরীতে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের অবস্থা ভালো নয়। এখান থেকে পণ্য খালাস পেতে বেশি সময় লাগে। কয়েক মাস আগেও ২৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতো।

অপরদিকে বেনাপোল বন্দরে প্যাসেঞ্জার সেবা অনেক ভালো। পেট্রাপোলে পর্যটকদের জন্য সেরকম উন্নয়ন হয়নি। ফলে একপাশে ভালো সেবা পেলেও অপরপাশে তা না পাওয়ায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি বা পর্যটকদের আসা যাওয়া কোনোটাই ঠিকমত হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের সমন্বয়ের অভাব। গতকাল ‘বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য উন্নয়নে স্থল বন্দর সমস্যা সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা এমন মতামত ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ সেমিনারে একই ধরনের মত দেন ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার তারিক করিম। তবে শুধু বন্দরে নয়, অশুল্ক বাধা দূর করতেও এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলে তিনি মনে করেন। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। সেমিনারটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গত ১০ বছরে ১০টি বন্দর চালু করেছে। বন্দরগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে আরও একটি বন্দর চালু করা হবে। পাশাপাশি নৌ পথে পর্যটক আসা যাওয়ার বিষয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে সকল স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা বলেন, গত ১০ বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ১০ গুণ বেড়েছে। আগামীতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। তিনি বলেন, ভারত ইতোমধ্যে দুটি বন্দরে সিআইপি ব্যবস্থা চালু করেছে। আগামীতে আরও ৭টি বন্দরে ইন্ট্রিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) ব্যবস্থা চালু করবে। বাংলাদেশেরও ওইসব বন্দরে একই ধরনের সুবিধা চালু করা উচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরে বিভিন্ন পণ্যের ওপর যে বিধি নিষেধ রয়েছে তা তুলে নেওয়ার তিনি সুপারিশ করেন।

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার তারিক করিম বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না। এক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভারতের বাজারের বিষয়ে আগ্রহের ঘাটতিও রয়েছে।

আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, অনেকগুলো বন্দর থাকলেও সেখানে আমদানি-রফতানি বিশেষ হয় না। মোট আমদানি-রফতানির বড় অংশ বেনাপোল বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। অন্য বন্দরগুলোকে আকর্ষণীয় করা যাচ্ছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব বন্দরকে সমান গুরুত্ব দেয় না। বেনাপোল দিয়ে যে পণ্য আনা যায়, অন্য বন্দর দিয়ে তার অনেক পণ্যই আনার অনুমোদন নেই। এসব সমস্যা সমাধান করে অন্যান্য বন্দরে আমদানি-রফতানি বাড়াতে হবে। 

অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের জয়পুরের কাটস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক বিপুল চ্যাটার্জি। অনুষ্ঠানের অন্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের সিংহভাগ হচ্ছে স্থল বন্দরগুলোর মাধ্যমে। কিন্তু অধিকাংশ বন্দরই আমদানি রফতানির জন্য উপযোগী নয়। অনেক ক্ষেত্রে বন্দরেই অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বন্দরে যাতায়াতের সড়ক ভাল নয়। ফলে দুই দেশ বাণিজ্যের পুরো সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন