পিছিয়ে পড়েও জিতলো মোহামেডান
মোহামেডান ৩ :মুক্তিযোদ্ধা ২
স্পোর্টস রিপোর্টার৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
পিছিয়ে পড়েও জিতলো মোহামেডান
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যাওয়া মোহামেডান ৩-২ গোলে হারালো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে। তাই নিজ দলের খেলা দেখে কোচ আবু ইউসুফ লজ্জাই পেয়েছেন। কেননা ২ -০ গোলে এগিয়ে থেকেও মুক্তিযোদ্ধা শেষ পর্যন্ত অগ্রগামিতা ধরে রাখতে পারেনি।

উত্তেজনায় ভরা এই ম্যাচে মোহামেডান জিতবে তা একটা সময় পর্যন্ত ধারণা করা যায়নি। তবে বিরতির পর দুই গোলে পিছিয়ে পড়া মোহামেডান বদলে গেলো। পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল শোধ করে গোলের দেখা পেল। এরপর আরো দুই গোল করে হারতে যাওয়া ম্যাচটা ছিনিয়ে নিলো তরুণদের নিয়ে গড়া মোহামেডান। অথচ পিছিয়ে পড়ার আগে মোহামেডানই গোলের সহজ সুযোগ পেয়েছিল। গিনির স্ট্রাইকার ঢাকার মাঠের পরিচিত ফুটবলার ইসমাইল বাঙ্গুরা সহজ গোলের বল দিয়েছিলেন সবুজকে। কিন্তু সবুজ মুক্তিযোদ্ধার গোলকিপার টিটুকে একা পেয়ে হেড করেন বাইরে। এরপরই আরো একবার গোলকিপারকে একা পেয়েছিলেন সবুজ। সেবারও পারলেন না। এই সব সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও মোহামেডান হাল ছাড়েনি।

মুক্তিযোদ্ধা মোহামেডানের উপর আক্রমণ চালিয়ে ৪০ মিনিটের বিপ্লবের গোলে এগিয়ে গেল ১-০। এই গোলের ধকল সেরে না উঠতেই ৪৪ মিনিটে এনামুল মোহামেডানের ওপর আরো এক গোলের ভার চাপালো ২-০। ছয় ম্যাচ খেলে এনামুল সমানসংখ্যক গোল করে দেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে শীর্ষে আছেন। কিন্তু পরের অর্ধে এই দুটি গোল ধরে রাখার মতো খেলতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধা। আরো ৪৫ মিনিটের খেলা রয়ে গেছে যেন তা ভুলে গিয়েছিল দলটি। কোচ জানান মাঠে প্রতিপক্ষ বলতে কোনো দল যে আছে সেটা ভুলে গিয়েছিল তার ছেলেরা।

মোহামেডানের উইঙ্গার জুয়েল রানা, ইব্রাহিম দারুণ খেলেছেন। গোল করতে না পারলেও সবুজ এবং মোবারকও মুক্তিযোদ্ধার জন্য ছিলেন বিপজ্জনক। মোহামেডানের গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য এক স্ট্রাইকার। গোল বানিয়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা কিংবা প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলে সুযোগ বের করতে জুড়ি মেলা ভার গিনির এই ফুটবলারটির। রেফারির চোখ ফাঁকি দেয়ারও পাণ্ডিত্য ভালোই জানা আছে ইসমাইল বাঙ্গুরার। তাতে সফলও হয়েছেন ৫৫ মিনিটে। মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডারদের ফাঁদে ফেলে পেনাল্টি আদায় করেন তিনি। গোল করেন নিজেই ১-২। এ গোলটির পরও গা ঝাড়া দেয়নি মুক্তিযোদ্ধা দলটির। খেলা গড়ায় শেষদিকে। ডিফেন্ডার আশরাফুল, আব্বাস ইউনিসা, সিরাজী, সুইটরা হয়তো ভাবছিলেন ম্যাচ শেষে হতে ৯ মিনিট বাকি, জয় নিশ্চিত। বিপরীতে মোহামেডান উজাড় করা লড়াই চালিয়ে গেলো। মুক্তিযোদ্ধার মিডফিল্ডের দুর্বলতায় চাপের স্রোতটা গিয়ে ঠেকে রক্ষণভাগে। এলোমেলো হয় আশরাফুলদের রক্ষণ বাঁধ। সুযোগ নেয় মোহামেডান। দলের  তরুণ ফুটবলার ইব্রাহিম সবুজের উত্স থেকে গোল করলেন, সমতা আনলেন ৮০ মিনিটে ২-২। জাগিয়ে তুললেন জয়ের সম্ভাবনা। মুক্তিযোদ্ধা থেকে আসা ইব্রাহিমের এটি প্রথম লিগ গোল। পুরনো দলে তিন গোল করেছিলেন তিনি। ৮৩ মিনিটে আবার পেনাল্টি পায় মোহামেডান। মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার আশরাফুলের কারণে খেসারত দিতে হয় মুক্তিযোদ্ধাকে। ইসমাইল বাঙ্গুরা পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচ নিশ্চিত করেন ৩-২। বাঙ্গুরার গোল দাঁড়ালো পাঁচটি।

মুক্তিযোদ্ধা দুই গোলে এগিয়ে থেকেও জিততে পারলো না। ব্রাদার্সের বিরুদ্ধেও দুইবার এগিয়ে থেকেও মুক্তিযোদ্ধা হেরেছিল ৫-২ গোলে। মুক্তিযোদ্ধার কোচ আবু ইউসুফ বললেন, ‘পোনাল্টি নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেও কিছু বলিনি এখনও বলবো না। খেলা দেখে আমার লজ্জাই লেগেছে। দুই গোল দেয়ার পর একটা দল হারে কিভাবে। যেখানে উজ্জীবিত হওয়ার কথা সেখানে উল্টো হেরেছে।’ অধিনায়ক এনামুল হক বললেন, ‘লিড নিয়ে মিস করেছি। এটা আমাদের দোষ। প্লেয়ারদের বলবো ক্যামব্যাক করতে হবে।’ ছয় ম্যাচ শেষে মোহামেডান ও মুক্তিযাদ্ধার পয়েন্ট সমান ১২ করে। আজকের খেলা ঃ ফরাশগঞ্জ ও সকার ক্লাব, বিকাল ৫টা।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন