শুধুই খারাপ একটা দিন!
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
শুধুই খারাপ একটা দিন!
g স্পোর্টস রিপোর্টার, খুলনা থেকে

এটা যে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট, তা ভুলেই গিয়েছিলেন সৌম্য সরকার।

জাতীয় লিগ বা বিসিএলের ম্যাচ খেলতে যেমন নামেন, তেমনই গট গট করে নেমে গিয়েছিলেন উইকেটে। ব্যাটিংয়ে পৌঁছেও ওই মানসিকতাটা ছিলো। কিন্তু প্রথম বলটা খেলার ঠিক আগ মুহূর্তে নাকি মনে পড়ে গিয়েছিলো—এটা অভিষেক টেস্ট।

দিনশেষে এই গল্পটা করতে করতে সৌম্য সরকার বললেন, অভিষেক টেস্টের সেই নার্ভাসনেস কাটিয়ে উঠতে পারলেও ইনিংসটা বড় না করতে পারার দুঃখ তাকে তাড়া করছে। তার চেয়ে বেশি দুঃখ হল, দিনটা এমনভাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে চলে যাওয়ায়।

সৌম্য এটাকে আসলে বাংলাদেশের বিপক্ষের একটা দিন, খারাপ একটা দিন হিসাবেই ব্যাখ্যা করতে চাইলেন।

৬ উইকেট হাতে নিয়ে দিন শুরু করে আর মাত্র ৯৬ রান যোগ হতে বাংলাদেশ অলআউট ৩৩২ রানে। বিপরীতে পাকিস্তান মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলেছে ২২৭ রান। দিনটা যে খারাপ ছিলো, তা আর বুঝিয়ে বলতে হয় না। তারপরও সৌম্য বলছিলেন, ‘সবদিক দিয়ে আমাদের দিনটা আজকে খারাপ গেছে। আমরা ৬ উইকেট নিয়ে মাঠে নেমেছি। এই ৬ উইকেট আমরা হারিয়েছি। কালকে যে অবস্থায় ছিলাম আমরা; সেখানে নেই দ্বিতীয় দিনে। বোলিংটাও আমরা ঠিক জায়গায় করতে পারিনি। ফিল্ডিংয়েও কয়েকটা চান্স ছিল; সেগুলোও আমরা মিস করেছি। সবকিছু মিলে আজকের দিনটা আমাদের জন্য খারাপ ছিল।’

এই খারাপের জন্য নিজের পারফরম্যান্সকে দায় দিলেন, সেই সঙ্গে সৌম্য বার বার করে বললেন, পাকিস্তানি বোলাররা আসলেই তাদেরকে বাজে বল বলে কিচ্ছু দেননি। অনেকদিন পর টেস্ট খেলায় একটা মরিচা পড়া ব্যাপার থাকতে পারে, স্বীকার করেই তিনি বলছিলেন, ‘এটা হতে পারে। তবে তারা প্রথম দিন থেকেই ভাল বোলিং করেছে। আমি যতক্ষণ মাঠে ছিলাম দেখেছি তারা অনেক অনেক ভাল জায়গায় বোলিং করেছে। অনেক সময় ওভারে একটা বাজে বল হয়; কিন্তু ওরা সেটাও করেনি। তাদের বোলিং খুব ভাল ছিল। আমাদের ছোটখাটো ভুলের জন্য আমরা উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছি।’

আবার নিজেদের বোলিং বাজে হয়েছে, এটা দফায় দফায় স্বীকার করলেন সৌম্য। তবে এটাও বললেন, হাফিজ অসামান্য ব্যাট করাতেই আসলে বেশি খারাপ মনে হচ্ছে বাংলাদেশের বোলিং, ‘হাফিজ অবশ্যই অনেক ভাল ব্যাটিং করেছে। আমি আগেও বলেছি আমরা রাইট ওয়েতে বোলিং করতে পারিনি। এছাড়া আমাদের যে সুযোগগুলো এসেছিল এগুলো যদি আমরা নিতে পারতাম, তাহলে দিনশেষে ভাল অবস্থানেই থাকতাম।’

সমালোচনা করতে গিয়ে নিজেকেও ছাড়ছেন না সৌম্য। পরিষ্কার বললেন, তার কিছুতেই ওই সময়ে অমন উচ্চাভিলাষী শট খেলা উচিত হয়নি, ‘আমার ওই সময় ওই শটটা খেলা উচিত হয়নি। আউট হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে আমি বাজে খেলে আউট হয়েছি। মনে হয়েছে এই শটটা আমি না খেললেও পারতাম। পরে চিন্তা করলাম, প্রথম ম্যাচে যেসব ভুল করেছি এগুলো যেন পরবর্তীতে না হয়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি।’

প্রথম টেস্ট খেলতে নামা সৌম্য নিজের আগের অভিজ্ঞতার চেয়ে টেস্টের পার্থক্যটাও ধরতে পেরেছেন। টেস্ট ক্রিকেট যে কেন আলাদা, সেটা বুঝতে পারছেন তিনি, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে বাজে বল পাওয়া যায়; এখানে সেটা কম পাওয়া যায়।’

তবে দিনশেষে সৌম্য তার দলের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, আজ একটা ভালো সেশনই আবার বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দিতে পারে, ‘কালকে যদি আমরা রাইট ওয়েতে বোলিং করতে পারি, তাহলে পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে চলে আসবে। টেস্ট ক্রিকেট একটা সেশনে সব পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। ওই একটা সেশন যদি আমাদের হাতে আসে আমরা ফিরে আসার বড় একটা সুযোগ পাবো। আমরা ওইটার অপেক্ষায় আছি। কালকে সকালে যদি আমরা রাইট ওয়েতে একটা সেশন বোলিং করতে পারি, উইকেট নিতে পারি; তাহলে মোমেন্টামটা আমাদের দিকে চলে আসবে।’

বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস)                                রান   বল   ৪    ৬

তামিম ইকবাল ক আজহার ব ইয়াসির শাহ           ২৫   ৭৪   ৩    ০

ইমরুল কায়েস ক এন্ড ব মোহাম্মদ হাফিজ           ৫১  ১৩০  ৬    ০

মোমিনুল হক এলবিডব্লিউ ব জুলফিকর বাবর       ৮০  ১৬২  ৮    ০

মাহমুদউল্লাহ ক সরফরাজ ব ওয়াহাব রিয়াজ        ৪৯   ১২৩  ৬    ০

সাকিব আল হাসান ক আসাদ শফিক ব জুলফিকর ২৫   ৬১   ৩    ০

মুশফিকুর রহিম ক মিসবাহ ব ইয়াসির শাহ           ৩২   ৭১   ৫    ০

সৌম্য সরকার ক আসাদ শফিক ব হাফিজ          ৩৩   ৫৫   ৫    ০

শুভাগত হোম অপরাজিত                                 ১২    ১১   ০    ০

তাইজুল ইসলাম ব ইয়াসির শাহ                         ১     ১১   ০    ০

মোহাম্মদ শহীদ ক মিসবাহ ব ওয়াহাব রিয়াজ        ১০   ১৫   ২    ০

রুবেল হোসেন ক সরফরাজ ব ওয়াহাব রিয়াজ      ২     ১০   ০    ০

অতিরিক্ত (লেগবাই ৫, নোবল ৭)                     ১২

মোট (অল আউট, ১২০ ওভার)                      ৩৩২

উইকেট পতন: ১/৫২ (তামিম ইকবাল), ২/৯২ (ইমরুল কায়েস), ৩/১৮৭ (মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ), ৪/২৩৬ (মোমিনুল হক), ৫/২৪৩ (সাকিব আল হাসান), ৬/৩০৫ (সৌম্য সরকার), ৭/৩১০ (মুশফিকুর রহিম), ৮/৩১২ (তাইজুল ইসলাম), ৯/৩২৯ (মোহাম্মদ শহীদ), ১০/৩৩২ (রুবেল হোসেন)।

বোলিং: জুনায়েদ খান ১৬-২-৪০-০, ওয়াহাব রিয়াজ ২৬-৭-৫৫-৩, মোহাম্মদ হাফিজ ১৮-৫-৪৭-২, জুলফিকর বাবর ৩২-৩-৯৯-২, ইয়াসির শাহ ২৮-৪-৮৬-৩।

পাকিস্তান (প্রথম ইনিংস)                                  রান   বল   ৪    ৬

মোহাম্মদ হাফিজ অপরাজিত                            ১৩৭ ১৭৯ ১২   ২

সামি আসলাম ক মুশফিক ব তাইজুল ইসলাম       ২০   ৩৬   ২    ১

আজহার আলী অপরাজিত                                ৬৫  ১৩৬  ২    ১

অতিরিক্ত (লেগবাই ২, নোবল ৩)                       ৫

মোট (এক উইকেট, ৫৮ ওভার)                     ২২৭

টস: বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিন শেষে ১০৫ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান, হাতে আছে নয় উইকেট।

উইকেট পতন: ১/৫০ (সামি আসলাম)।

বোলিং : রুবেল হোসেন ১১-০-৫০-০, মোহাম্মদ শহীদ ৭-০-২৯-০, তাইজুল ইসলাম ১৬-২-৪৩-১, শুভাগত হোম ৮-০-৩৪-০, সাকিব আল হাসান ১২-০-৫৭-০, মাহমুদউল্লাহ ২-০-৯-০, সৌম্য সরকার ১-০-২-০, মোমিনুল হক ১-০-১-০।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন