¬বুকের কান্না, মনের আগুন
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
¬বুকের কান্না, মনের আগুন
g দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, খুলনা থেকে

নামেই দুটো আলাদা জেলা।

বাড়ি থেকে জোরে দৌড় দিলে দশ মিনিটও লাগার কথা নয় খুলনা শহরে পৌঁছাতে। মাঝখানে বাধা শুধু খরস্রোতা রূপসা নদী।

আট আনা পয়সা দিয়ে খেয়া নৌকায় সেই নদী পার হয়ে যেত রোজ ছেলেটা। নদী পার হয়েই মামাবাড়ি। কোনোক্রমে মামাবাড়ি পৌঁছেই ভাইদের নিয়ে ছুট পাশের মাঠে। সেখানেই টেনিস বল দিয়ে পাড়া কাঁপানো ক্রিকেট খেলা। তারপর পুরো খুলনা শহরকে বাড়ির উঠোন বানিয়ে মাতিয়ে রাখা। 

হ্যাঁ, খুলনা শহরটা আব্দুর রাজ্জাকের উঠানই বটে। 

আজ সেই বাড়ির উঠানে টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে; রাজ্জাক দেখতেও আসতে পারেননি। টেস্ট দলে অনেকদিন হলো ব্রাত্য হয়ে আছেন; প্রথম শ্রেণির পারফরম্যান্স দেখে অবশ্য কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারপরও ব্রাত্য হয়ে আছেন— অধুনা ওয়ানডে ক্রিকেটেও। ফলে খেলতে তো আসার প্রশ্নই নেই। দেখতে আসারও সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের পরের রাউন্ড খেলার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে ঢাকায় বসে।

রাজ্জাক তো ঢাকায় বসে আছেন। মনটা কোথায়?

প্রশ্নটা শুনে ফোনের ওপাশে বাংলাদেশের ইতিহাসের এখনও পর্যন্ত সেরা এই বোলারের কণ্ঠটা যেন আক্ষরিক অর্থেই হুহু করে উঠল। একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘টেলিভিশনে খেলা দেখতেও কষ্ট লাগে। মনে হয়, আমার বাড়িতে খেলা হচ্ছে; আর আমি নেই! এটা কোনো দোষারোপের ব্যাপার না। পৃথিবীর যেখানেই থাকেন, নিজের এলাকায় টেস্ট হলে সেই মাঠে ছুটে যাওয়ার জন্য মন কাঁদবেই।’

কাগজে-কলমে রাজ্জাক বাগেরহাটের ছেলে। কিন্তু খুলনা শহরটা যে তার কতটা নিজের, এটা বুঝতে হলে এই বাঁহাতি স্পিনারের বাড়ির অবস্থানটা একটু বুঝতে হবে।

রাজ্জাকদের বাড়ি হলো বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানায়; বাগেরহাট-খুলনা সীমান্তের থানা। এই থানার পরই শুরু হয়ে গেছে খুলনা জেলা। রাজ্জাক নিজেই বলছিলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে খুলনা শহরই বেশি কাছে হয়। আর আমার মামাবাড়ি খুলনা শহরে বলে ছোটবেলায় বাগেরহাটের চেয়ে খুলনা জেলা শহরেই বেশি যাতায়াত ছিল। আমি প্রথম প্রতিযোগিতামূলক লিগও খেলা শুরু করেছি খুলনায়; ওখানকার দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে।’

এর মধ্যেই রাজ্জাক বিকেএসপিতেও চলে এসেছেন। সেখান থেকেই উত্থান। পরে জাতীয় দলের দেড় দশকের অবিসংবাদিত এক নায়কের।

বাংলাদেশের হয়ে ১৫৩টি ওয়ানডে খেলে দেশের সর্বোচ্চ ২০৭টি উইকেট নিয়েছেন; খেলেছেন ১২টি টেস্টও। এই খুলনাতেই ৪টি ওয়ানডে খেলে ১২টি উইকেট নিয়েছেন; এখানে একটি টি-টোয়েন্টিও খেলেছেন। কিন্তু সাদা পোশাকে নিজের উঠানে খেলতে না পারাটা এক বিশাল কাঁটা হয়ে খচখচ করে রাজ্জাকের মনে।

ম্লান হেসে বলছিলেন, ‘খুলনায় খেলাটা সব ফরম্যাটেই বিশেষ কিছু। গ্যালারিতে পরিচিত লোকজন থাকে, শহরের সবকিছু হাতের তালুর মতো চেনা; একটা চ্যালেঞ্জও থাকে। ওয়ানডে খেলে সেই মজাটাও পেয়েছি এখানে। কিন্তু টেস্ট খেলার মজা তো জীবনে অন্য কিছুতে নেই।’

অনেক হতাশার কথা হলো। কিন্তু রাজ্জাক মানুষটা হতাশাবাদী নন। শেষ পর্যন্ত তাই বাড়ির উঠানে টেস্ট হচ্ছে, এ জন্য এলাকার মানুষের কথা ভেবে অন্তত আনন্দের সীমা নেই তার।

আর নিজের কথা?

সে ব্যাপারে রাজ্জাক সবসময় এক সুরেই কথা বলেন। হতাশাকে বাড়ির আশপাশে ভিড়তে দেন না। কণ্ঠটা দৃঢ় করে বলেন, ‘আমি কখনোই হতাশ হই না। হতাশ হলে লড়াই  করতে  পারব না। জাতীয় দলে খেলা বা না খেলা ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমি লড়াই করেই যাব। আর একবার যদি লড়াই বন্ধ করে দেই, তা হলে আমি ফুরিয়ে যাব। নিজে সরে  যাওয়ার  আগে  ফুরিয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারব না। তাই আমি আমার লড়াই চালিয়ে যাব।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন