জেতার সুযোগ ছিল মামুনুলদের
বাংলাদেশ ১ : সিঙ্গাপুর ২
জেতার সুযোগ ছিল মামুনুলদের
গোল করেও সেটা রাখতে পারলো না বাংলাদেশ দল। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ১-১ হওয়ার পরও বাংলাদেশ গোল করার জন্য যে সুযোগগুলো পেয়েছিল তা থেকে যদি সংখ্যাটা তিন চার হয়ে গেলেও তাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু হতো না। সেরা একাদশে এনামুলকে কাজে লাগাতে না পারার দোষটাই দিতে হয় তার সতীর্থদের। তিনবার গোলের সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের। পাল্টা আক্রমণে হেমন্ত বল নিয়ে ঢুকে এনামুলকে ছেড়ে দিলে মহা বিপদে পড়ে যেতো সিঙ্গাপুর। হেমন্ত সেটা করেনি। লেফট উইঙ্গার সোহেল রানা দুইবার গোল করানোর সুযোগ পেয়েও কাছে থাকা এনামুলের পায়ে বল ঠেলেননি। বাংলাদেশের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ সেটা দেখেছেন। বিরতির পর সোহেল রানাকে তুলে নিয়ে জুয়েল রানাকে নামান মাঠে। এমিলি এবার সিঙ্গাপুরের জালে বল রাখলেও সেটা বাতিল করেন রেফারি মিজানুর রহমান।

সিঙ্গাপুরকে যতটা শক্তিশালী ফুটবল মনে করেছিল বাংলাদেশ, মাঠের পারফরম্যান্সে সেটা দেখা যায়নি। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের চেয়ে আহামরি ভাল কিছু খেলতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আসা ছয় সাত হাজার দর্শক বিকালের কড়া রৌদ্র উপেক্ষা করে গ্যালারিতে যে দুর্ভাবনা নিয়ে বসেছিলেন তা কিকঅফের পরই উধাও হতে শুরু করেছিল। সিঙ্গাপুর ফুটবল দল মোটেও ভালো খেলেনি। তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন ফুটবলার দেখা যায়নি যিনি চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

বাংলাদেশের ফুটবলে সমঝদার দর্শক আছেন। তাদের চোখে এদেশের ফুটবলের বহু স্মৃতি লেগে আছে। চোখ ঝলসে দিতে পারে এমন খেলাটা দেখাতেই পারলো না সিঙ্গাপুর। এমন দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার মতো রসদ ছিল মামুনুল, এমিলি, জামাল ভুঁইয়া, হেমন্ত, সোহেল রানাদের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের খেলা দেখে এমন আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন দর্শকরা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরের দুর্বলতার সুযোগটাই নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বলা যায় ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। প্রথম ধাক্কাতেই বাংলাদেশ গোলের দেখা পেয়ে যায়। নাসির উদ্দিন চৌধুরী সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজের ডিফেন্স ছেড়ে গিয়ে মাথা ছোঁয়ালে। গোলটি আসে খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটে ১-০। গোল করে ঝিমিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ, এমনটাও বলা যাবে না। খেলে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মামুনুলরা সিঙ্গাপুরকে দুর্বল মনে করে নিজেরাই হাল ছাড়লেন নাকি পা বাঁচানো ফুটবল খেললেন তা বলা মুশকিল। কঠিন বল নিতে এগিয়ে না যাওয়া, বল পায়ে ডজ দিয়ে ঢোকার কোনো আগ্রহই দেখা গেলো না তাদের মধ্যে। গা বাঁচানো ফুটবল খেলতে গিয়ে দেখা গেলো সিঙ্গাপুর ক্রমশ দখল নিচ্ছে খেলার। সময়ের সাথে সাথে মাঠে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সিঙ্গাপুর খেলাটা আয়ত্তে নিয়ে ৩১ মিনিটেই গোলটা ফেরত দিল। ক্রসের বল বাতাসে ভাসলে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান ক্লিয়ার করতে গিয়ে উপরে উঠে যান। তাতেই সিঙ্গাপুরের স্ট্রাইকার হামিদ হেড করেন। ভাগ্য ভালো বলটা সাইড বারে লেগে জালে যায়নি। সামনে ইয়ামিন মুন্না মাটিতে পড়েও রক্ষা করতে পারেননি। আবার সেই হামিদ শট করে বলটা বাংলাদেশের জালে পাঠান গোলকিপার হিমেলকে বোকা বানিয়ে ১-১। এমন কোন আহামরি গোল ছিল না। রায়হান, নাসির, ইয়ামিন, ইয়াসিনদের ডিফেন্স লাইন যেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোলটা তুলে দিলেন সিঙ্গাপুরকে। গরমে অতিষ্ঠ সিঙ্গাপুরের ক্লান্ত ফুটবলাররা বাংলাদেশের দুর্বলতা মুঠোয় নিতে আরেকটু মরিয়া হয়ে উঠলেন। মাঝ মাঠে মামুনুল, জামাল ভুঁইয়া, উপরে হেমন্ত, সোহেল রানা, এমিলিদের মধ্যে সমন্বয় ছিল না। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুর মাঝ মাঠে রাজত্ব করলো। তাতে জয়সূচক গোলটি আদায় হলো ৭২ মিনিটে। কর্নারের বলটা গোলকিপার হিমেল ফিরিয়ে দিলেও ফাঁকায় দাঁড়িয়ে শট করেছেন কামাল ২-১।

প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে হারানোর কথা বলেনি বাংলাদেশ। অথচ হারানোর মতো যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে সুযোগগুলো কাজে লাগেনি নিজেদের ব্যর্থতায়। খেলোয়াড়দের দেখে মনে হলো না তারা পুরোপুরি আনফিট। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলে বাংলাদেশের খেলা দর্শক মনে জায়গা পেয়েছিল। কিন্তু কালকের ম্যাচটা ছিল তার বিপরীত। গোল করার মতো যথেষ্ট সুযোগ এসেছিল। সিঙ্গাপুরের অধিনায়ক এবং গোলকিপার সানি ছিল নার্ভাস। তাকে সহজেই বিপদে ফেলা যায়। দূর থেকে চেষ্টা করলে গোলও পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। সেদিকে নজর ছিল না। কিন্তু উদাসীন ফুটবল পারফরম্যান্স দলকে জয়ের মুখে দেখাতে পারেনি। উল্টো হারতে হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশের কোচ ক্রুইফ খুশি। জাহিদ ছিলেন না, তার পেটের পীড়া আছে। ভালো কোনো ম্যাচ হলে জাহিদের নানা সমস্যা দেখা যায়। এবারও সেটা হয়েছিল। উইংগার সোহেল রানার বদলে ৪৬ মিনিটে জুয়েল রানা খেলতে নেমে সবার নজরে পড়েছেন। সিঙ্গাপুরের জার্মানী কোচ বার্নড ওয়ালটার স্ট্যাঞ্জির কণ্ঠে প্রশংসা শুনলেন সবাই।

বাংলাদেশ

হিমেল, রায়হান (নাসিরুল ইসলাম), নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ইয়ামিন আহমেদ, জামাল ভুঁইয়া (রাজু), মামুনুল ইসলাম (অধিনায়ক) (শাহেদ), এমিলি (ওয়াহেদ), হেমন্ত, সোহেল রানা (জুয়েল রানা), এনামুল। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন