বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান মুখোমুখি কাল
ফুটবলারদের মানসিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
g স্পোর্টস রিপোর্টার

সমস্যার নাম ‘সেট পিস’। প্রতিপক্ষ ফ্রি কিক অথবা কর্নার কিক থেকে সরাসরি কিংবা এর সূত্র ধরে পাওয়া বলে সহজেই লক্ষ্যভেদ করছে। এই সমস্যাটির প্রেক্ষিতেই সামপ্রতিক সময়ে প্রতিপক্ষের কাছে বার বার পরাস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ দল। এ কারণে ভালো খেলে কিংবা লড়াই উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিচ্ছে মামুনুলের দল। দেশের সাবেক খেলোয়াড়রা মনে করেন, মানসিক সক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত অনুশীলন, আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা, খেলোয়াড়দের ফিটনেস আরো বাড়ানোর মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হতে পারে।

জাতীয় দলের সাবেক উইঙ্গার আশরাফ উদ্দিন চুন্নু মনে করেন খেলোয়াড়দের মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই দেখছি যে আমরা ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাচ্ছি। প্রতিপক্ষ দল যখন আমাদের উপর আক্রমণ করে তখন আমরা ডি বক্সে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যাই প্রতিরোধ করতে। যার কারণে অনিচ্ছাকৃত ফাউলগুলো হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় নিয়মিত অনুশীলন করে এটার সংশোধন করা।’

সাম্প্রতিক সমস্যা ফ্রি কিক থেকে বার বার গোল হজম করা প্রসঙ্গে তার মত, ‘সেট পিসে’র দিকে আমাদের আরো বেশি নজর দেয়া উচিত। তাহলে আস্তে আস্তে এখান থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে যে, ফাউল যদিও হয়েও যায় সেখান থেকে যেন গোল না হয় সেটার জন্য চেষ্টা করা। সেটার জন্য বেশি করে প্র্যাকটিস প্রয়োজন।’

আগামী মঙ্গলবার তাজিকিস্তানের মোকাবেলা প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, ‘তারা অনেক ভালো দল। তবে আমাদের হোম গ্রাউন্ড। আমাদের ভালো খেলা উচিত। এখন তো আর কেউ বলতে পারবে না যে, আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলি না। সামপ্রতিক সময়ে আমরা অনেক আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল-আন অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেছি।’

মোহামেডানের কোচ ও সাবেক ফুটবলার কাজী জসিম উদ্দিন আহমদে জোসি বলেন, ‘আমাদের দেশে ফুটবলাররা একাডেমি থেকে তৈরি হয়ে আসে না। যার কারণেই তাদের বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি হয়। আমাদের একাডেমি থেকে যদি ফুটবলার উঠে আসতো তাহলে জাতীয় পর্যায়ে এসে এরকম ভুল-ত্রুটি হতো না। একাডেমি থেকে যাতে বছরে প্রচুর পরিমাণ খেলোয়াড় বের হয় সেই রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হবে।’

একই ভুল বার বার করার পেছনে জোসির মত, খেলোয়াড়রা খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না। এজন্য তিনি আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য বাফুফেকে নজর দিতে বলেন।

তিনি এও বলেন যে, সামপ্রতিক সময়ে আমাদের ফুটবলাররা ভালো খেলছে। তাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তারা সেটার শতভাগ দিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বিধায় আমরা জিততে পারিনি। 

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হক মনে করেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য যে ফিটনেস দরকার তা কোন খেলোয়াড়ের মধ্যে নেই। তার কাছে খেলোয়াড়দের ক্লান্ত মনে হয়েছে। কারণ ক্লাব ও জাতীয় পর্যায়ের কোচিং আলাদা। তাছাড়া ক্লাবে সবাই সমান ট্রেনিং পায় না!

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন জাতীয় পর্যায়ে অনুশীলন হয় তখন দেখা যায় ফিটনেস নিয়ে ঘাটতি থেকে যায়। আমার মনে হয়, এটাই বড় সমস্যা। পাশাপাশি টিমওয়ার্কেও সমস্যা আছে। কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান আমাদের চেয়ে ভালো দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে গেলে আমাদের স্বাগতিক হবার সুবিধা নেয়ার কথা। কিন্তু আমরা সেটা নিতে পারিনি। আমি বলতে চাচ্ছি আমরা এখানকার পরিবেশ ও আবহাওয়ার সাথে পরিচিত। সেই হিসেবে ম্যাচটা পাঁচটায় না দিয়ে তিনটায় দিলে আরো ভালো হতো। আমরা পুরোপুরি হোম এ্যাডভান্টেজ নিতে পারতাম।’

আমিনুল পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা ‘সেট পিস’ থেকে যে গোলগুলো খাচ্ছি, এই জায়গাগুলোতে আমাদের আরো বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয় না, এটা নিয়ে পর্যাপ্ত কোন কাজ করা হয়েছে। যার কারণে এই ‘সেট পিস’ থেকে বাংলাদেশ বার বার গোল খাচ্ছে। পজিশন অনুযায়ী আমাদের যে ফুটবল খেলা উচিত অর্থাত্ প্রত্যেকে তার নিজ নিজ জায়াগা থেকে সেরাটা দিতে পারেনি। খেলোয়াড়রা তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে অমনোযোগী ছিলো। পাশাপাশি আমার কাছে মনে হয়েছে, দলের ভেতরে যে একতা থাকা উচিত ছিলো সেটা নেই। সবাই মিলে একটি দল হিসাবে খেলতে পারিনি।’

ফুটবলার বেছে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও নির্বাচক কমিটি থাকা উচিত বলে মনে করেন। তার মতে, এটা থাকলে ফুটবলার নির্বাচনের  বিষয়টা আরো বেশি স্বচ্ছ হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন